রাহাত সরকার:
স্কুলছাত্র রুহুল আমীন হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। ঘটনার রাতেই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘাটাইল সদর ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল আলীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুসারে ওই রাতেই মধুপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে অটোরিকশা ও ব্যাটারি উদ্ধার করে পুলিশ।
আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল রুহুল আমীনের। অভাবের সংসারে অর্থের জোগান দিতে লেখাপড়ার পাশাপাশি মাঝে মাঝে কোমল হাতে ধরত অটোরিকশার হ্যান্ডল। সেই হ্যান্ডল ধরাই কাল হয় তাঁর। ছিনতাইকারীরা অটোরিকশার সঙ্গে তার প্রাণটাও ছিনিয়ে নেয়। শ্বাসরোধে হত্যা করে তাকে। বৃহস্পতিবার রাতে সন্ধানপুর ইউনিয়নের ছাগলেরটিকি এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে ঘাটাইল সদর ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, নিহত রুহুল আমীন ও আসামি আব্দুল আলীমের বাড়ি পাশাপশি। ২১ অক্টোবর
নিখোঁজ হয় রুহুল। ওই দিন দুপুরে রুহুল আমীন অটোরিকশা নিয়ে বের হলে সঙ্গে আসে আলীম। রুহুলকে হত্যা ও অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পা আগে থেকেই করে রাখে আলীম। পরিকল্পনা অনুসারে রাস্তা থেকে আপন মিয়া নামে এক যুবককে তুলে নেয় আলীম। মাকড়াই-কুড়িপাড়া সড়কের ছাগলেরটিকি এলাকায় নিয়ে গিয়ে প্রথমে কহুল আমীনের গলা চেপে ধরে আলীম। এর পর রুহুলের শার্ট খুলে আলীম ও আপন মিয়া মিলে শ্বাসরোধে হত্যা করে বনের পাশে ফেলে দিয়ে অটোরিকশা নিয়ে চলে যায়। সঙ্গে নিয়ে যায় রুহুল আমীনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন। এই ফোনের সূত্র ধরেই আলীমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্য অনুসারে মধুপুর উপজেলা থেকে অটোরিকশা ও ব্যাটারি উদ্ধার করে পুলিশ। এখনও পলাতক আসামি আপন মিয়া। আলীমকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঘাটাইল থানার ওসি মীর মোশাররফ বলেন, মামলা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যারহস্য উদঘাটন ও দুই আসামির একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
আলোকিত প্রতিদিন/২৭ অক্টোবর ২০২৫/মওম
- Advertisement -

