সাদুল্যাপুর প্রতিনিধি মোঃ ফিরোজ প্রধান। গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে গবাদি পশুর চিকিৎসা সেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন হয়েছে। স্থানীয় কৃষক ও পশুপালকদের সেবায় এখন নিয়মিতভাবে গবাদি পশুর বিভিন্ন জটিল রোগের অপারেশন, চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার ১৮ অক্টোবর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে একটি গরুর বাছুরের হার্নিয়া অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
অপারেশনটি পরিচালনা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জন জনাব আব্দুল্লাহিল কাফি। সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন লাইভস্টক অফিসার ডা. নুরুন্নবী প্রধান। অপারেশনের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আধুনিক চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়, যার ফলে অপারেশনটি সম্পূর্ণ সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবং বাছুরটি বর্তমানে সুস্থ অবস্থায় রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে গবাদি পশুর সব ধরনের চিকিৎসা ও অপারেশন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে আসছি। এটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত একটি সেবা। গ্রামের সাধারণ কৃষক, খামারি বা পশুপালক যে কেউ আমাদের কাছে এসে সেবা নিতে পারেন। আমরা চাই, মানুষ যেন পশুর চিকিৎসা নিয়ে আর কষ্ট না পায় বা অদক্ষ হাতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”
“বর্তমানে আমাদের অফিসে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পশু চিকিৎসক ও সার্জনরা নিয়মিতভাবে কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ, টিকা, সার্জিক্যাল উপকরণ এবং চিকিৎসা সামগ্রীও আমরা সরকারিভাবে পাচ্ছি। ভবিষ্যতে এই সেবার পরিসর আরও বাড়ানো হবে, যাতে উপজেলা জুড়ে কোনো পশু চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না থাকে।
প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলায় প্রতি মাসেই একাধিক পশুর বড় ও ছোট অপারেশন সম্পন্ন হচ্ছে — যার মধ্যে হার্নিয়া, আঘাতজনিত ক্ষত, জরায়ু সমস্যা, থানা অপারেশন, হাড় জোড়া, এবং পেটের টিউমার অপারেশনও রয়েছে। এসব সেবায় সাধারণ খামারিরা উপকৃত হচ্ছেন এবং ধীরে ধীরে সরকারি পশু চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর আস্থা বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে পশু অসুস্থ হলে দূর দূরান্তে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হতো, যেখানে খরচ বেশি এবং চিকিৎসকও সবসময় পাওয়া যেত না। কিন্তু এখন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকেই তারা সহজে, দ্রুত ও বিনামূল্যে চিকিৎসা ও অপারেশনের সেবা পাচ্ছেন। সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তারা জানান, এই উদ্যোগের ফলে এলাকার পশুসম্পদ সুরক্ষিত হচ্ছে, দুধ ও মাংস উৎপাদন বাড়ছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সরকারি এই উদ্যোগকে আরও টেকসই করতে স্থানীয় প্রশাসন, খামারি ও জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি
- Advertisement -

