আজ বৃহস্পতিবার, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি  বিলীন, হুমকিতে আশ্রয়ন প্রকল্প

আরো খবর

মাইনুল হাসান মজনু: 
বগুড়া সারিয়াকান্দিতে হাটশেরপুর ইউনিয়নে যমুনা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ৩ দিনে ৩০ টির বেশি পরিবারের বসতবাড়ি যমুনা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে হাটশেরপুর আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসরত ৩০০ টি পরিবার। ভাঙন আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন ৫ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ। বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ভাঙন কবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উপজেলার
 হাটশেরপুর ইউনিয়নের হাটশেরপুর, নিজবলাইল, করমজাপাড়া, দিঘাপাড়া, চকরথিনাথ গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত বছর থেকেই এখানে ভাঙন অব্যহত রয়েছে। গত বছর নদী ভাঙনের শিকার বেশকিছু পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্রে চলে গেছেন। এছাড়া গত বছরের নদী ভাঙনের ফলে এখানে একটি গুচ্ছগ্রাম নদীতে সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়েছে। এ বছরও একই এলাকায় গত ৩ দিন আগে থেকে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ৩ দিনের নদী ভাঙনের শিকার হয়ে শেরপুর গ্রামের তারা প্রামাণিকের ছেলে বকুল মেম্বার, আজগর আকন্দের ছেলে ফজলু আকন্দ এবং সালামুদ্দিন তরফদারের ছেলে শাহিন মিয়াসহ প্রায় ৩০ টির বেশি পরিবারের লোকজনের বসতভিটা যমুনায় বিলীন হয়েছে। তারা এখন  তাদের টিনের বাড়ীঘর নিয়ে অন্যের জমিতে অবস্থান করছেন। নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে হাটশেরপুর ইউনিয়নের হাটশেরপুর, নিজবলাইল, করমজাপাড়া, দিঘাপাড়া, চকরথিনাথ গ্রাম যেকোনও সময়ে নদীতে বিলীন হওয়ার আশংকা করছেন এসব গ্রামে বসবাসরত ২০ হাজার মানুষ ভাঙন আতংকে রয়েছেন। এছাড়াও হুমকিতে রয়েছে এসব এলাকায় বিভিন্ন সময়ে গড়ে ওঠা স্কুল, মসজিদ সহ নানা ধরনের সামাজিক প্রতিষ্ঠান।
হাটশেরপুর ইউনিয়নের মৃত বদিউজ্জামানের ছেলে সাহাবুল ইসলাম বিপু বলেন, গত ৩ দিনের নদী ভাঙনে ৩০ টির বেশি পরিবারের বসতভিটা যমুনায় বিলীন হয়েছে। তারা তাদের বাড়ীঘর নিয়ে অন্যের জমিতে অবস্থান করছেন। আমার বাড়ীটিও ভাঙনের শিকার হতে যাচ্ছে। এভাবে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে এ গ্রামের ঐতিহ্যবাহী গুচ্ছগ্রাম যমুনায় বিলীন হবে। তাছাড়া ৫ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ এখন নদী ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। দ্রæত এখানে নদী ভাঙন মোকাবিলায় কাজ না করলে আমরা একেবারেই যমুনার জলে ভেসে যাবো। আমরা নদী ভাঙন মোকাবিলায় দ্রæত এখানে জরুরি কাজ চাই।
বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির  বলেন, সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর গ্রামের যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করা হবে। পরিদর্শন শেষে ভাঙন কবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৩অক্টোবর ২০২৫/মওম

- Advertisement -
- Advertisement -