মুহাম্মদ জুবাইর:
#ভয়ানক প্রতারক চক্রের মোলহোতা ওরা চারজন
#অসহায় হতদরিদ্র শ্রমিকরা ভয়ে যাচ্ছে না আইনের আশ্রয় নিতে
#প্রতারক চক্র খুব ভয়ানক টাকা ফেরত চাইলেই ফাঁসিয়ে দিচ্ছে মিথ্যা মামলায়
# আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় এখনো ইকবালের সব অপকর্ম চলমান
#এসব প্রতারকদের কারণে বর্তমানে অনেকেই পথ বেঁচে নিতে চাচ্ছে আত্মহত্যা
#প্রায় শত কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা প্রতারক চক্রের
#প্রতারক চক্রের সন্তানরা পরিচয় দেয় জুলাই যোদ্ধা দেখায় ক্ষমতা
চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় ইকবাল হাসান নামের এক প্রতারকের অভিনব প্রতারণায় দিশেহারা হাজারো শ্রমজীবী মানুষ। ভেঙ্গেছে অনেক গার্মেন্টস মহিলা শ্রমিকের সংসার। আবার শেষ সম্বল হারিয়ে মানবতের জীবন যাপন করেছেন বহু নিম্ন আয়ের মানুষ।
সূত্র বলছে পতেঙ্গা এলাকায় ইকবাল হাসান নামের এক প্রতারক রেশন কার্ড প্রদানের নাম করে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতারণা। কয়েক বছরে এই প্রতারক ইকবাল হাসান সহজ সরল শ্রমজীবী মানুষকে টার্গেট করে চাউল তেলের রেশন কার্ডের কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায শত কোটি টাকা। এই প্রতারণায় ইকবাল হাসানের সহযোগী হিসেবে সহায়তা করেছেন গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছার গলতাজ বেগমের স্বামী মান্নান । প্রতারক ইকবাল হাসানের পাশাপাশি বনেছেন গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছার বলেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। তাদের এই অভিনব প্রতারণায় ঋণের বোঝাই নুয়ে পড়েপরিবার পরিজন নিয়ে ধুকছেন অনেকেই । মূলত প্রতারক চক্রের নিজেদের অধিক লোভ, বোকামী আর প্রতারক ইকবাল হাসান থেকে যথাযত ডকুমেন্টস না থাকায় নিতে পারছেনা আইনী পদক্ষেপ।
আবার অনেকেই টাকায় পাওয়ার আশায় নিরব ভুমিকা পালন করছেন। বর্তমানে প্রতারক ইকবাল হাসান ঘা-ঢাকা দিলেও দিব্বি জনসম্মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ইকবালের সহযোগী গুলতাজ বেগম ও নুরুল আবছার। আবার ভুক্তভোগী কেউ কেউ গুলতাজ বেগমের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে হয়েছেন হামলা ও মামলার স্বীকার।
সূত্র বলছে, ইকবাল হাসান, সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছারসহ ইকবাল হাসানের বেশ কিছু সহযোগী চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা, ইপিজেড থানাধীন যে সমস্ত এলাকায় শ্রমজীবী, দরিদ্র শ্রেণীর ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস সে এলাগুলোকে টার্গেটে পরিণত করে। পরবর্তীতে তারা অধিক লাভ আর স্বল্প মূল্যে রেশনের নানা সামগ্রী প্রদান করবেন বলে কৌশল অবলম্বন করে প্রচারণা চালায় ঐসব এলাকায়। পরে এই চক্রের প্রধান ইকবাল হাসান সু-কৌশলে এলাকার আস্থাভাজন নারী পুরুষের নিয়ে গড়ে তুলেন একটি বলয়। যারা ইকবাল হাসানের পক্ষে শ্রমজীবী, দরিদ্র শ্রেণীর ও নিম্ন আয়ের মানুষদের সুমিষ্ট কথার মারপ্যাঁচে লোভ লালসা দেখিয়ে রেসন কার্ডের জন্য ইনভেস্টমেন্ট করতে উদ্বুদ্ধ করেন। সহজ সরল শ্রমজীবী, দরিদ্র শ্রেণীর ও নিম্ন আয়ের মানুষগুলো অল্প টাকার বিনিময়ে অধিক লাভের আশায় পা দেন ইকবাল হাসান, সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছারদের প্রতারণায়। অনেকে আবার সমিতির, এনজিও বা লাভের আশায় চড়া সুদে টাকা নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছেন এই প্রতারক চক্রের হাতে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা, ইপিজেড এলাকার ৫ হাজারের অধিক মানুষ ইকবাল হাসান, সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছারসহ ইকবাল হাসান চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন শতকোটি টাকা।
সূত্র আরো বলছে, এ সমস্ত এলাকার মানুষগুলো শুধু নিজের নামে নয় পরিবারের সকল সদস্য এমনকি ২ বছরের শিশুদের নামেও অধিক লাভের আশায় ইনভেস্টমেন্ট করেছেন। এরিসাথে পরিবারের একজন ইনভেস্টমেন্ট করলে ইকবাল হাসান, সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছার চক্র ভুলিয়ে ভালিয়ে ঐ পরিবারের নিকট আত্মীয় থেকে শুরু করে দুরবর্তী আত্মীয় স্বজনদের রেশন কার্ডে ইনভেস্টমেন্ট করিয়েছেন। এভাবে এইচক্রের প্রধান ইকবাল হাসান ও সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছার বনেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রতারক ইকবাল হাসান ও সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছারের চাউল তেলের রেশন কার্ডের জন্য ইনভেস্টমেন্ট করলে প্রতিমাসে রেশনের পাশাপাশি লভ্যাংশ দেওয়া হবে এমন প্রলোভনে পড়ে নগরীর পতেঙ্গা, ইপিজেড এলাকার ৫ হাজার অধিক লোকজন প্রতিটি রেশন কার্ডের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে এ প্রতারক চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন শতকোটি টাকা। প্রতারক লিডার ইকবাল হাসান প্রতারণা ভীত মজবুত করতে ও প্রতারণার শিকার লোকজনকে দিয়েছেন নিজের সাক্ষর করা স্ট্যাম্প ও তার নিজের নামে থাকা ১০ টির অধিক বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টের চেক। আবার স্ট্যাম্প গুলোর বেশির ভাগেই স্বাক্ষীর জায়গায় স্বাক্ষর দিয়েছেন গুলতাজ ও নুরুল আবছার। তবে ইকবাল হাসানের দেওয়া ব্যাংক একাউন্টের চেকে গ্রহিতার নাম ও তারিখ বসাননি। মূলত প্রতারক ইকবাল হাসান নিজে অদৃশ্য থেকে সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছারসহ আরো বেশ কয়েকজনের সহায়তায় তার স্প্যাম্প ও চেক দিয়ে প্রতারণার ষোলকলা পূরণ করেছেন। উল্লেখ্য শুরুর দিকে তাদের প্রতি আস্থা অর্জনের জন্য মাস দুই বেশ কয়েকজনকে রেশন প্রদান করে পরবর্তীতে নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকে প্রতারক ইকবাল হাসান ও সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছার। একপর্যায়ে শত কোটির টাকার বড় একটি অংশ নিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান ইকবাল হাসান। এরিসাথে গুলতাজ বেগম পতেঙ্গা ছেড়ে বসতি গাড়েন আনোয়ার থানা এলাকায়।
প্রতারনার স্বীকার শাহাবুদ্দিন জানান, গত বছর আগস্টের পর নুরুল আবছারের জাদুকরী কথায় মুগ্ধহয়ে অধিক লাভ ও রেশনের জিনিসপত্র পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন দিন ধরে তিলে তিলে জমানো নিজের দুই লক্ষ টাকা সাথে আমার ভাই বোন আত্মীয় স্বজন মিলে ৮ জনের প্রায় ২০ লক্ষ টাকা নুরুল আবছারের হাতে তুলে দিয়। টাকা দেওয়ার সময় নুরুল আবছার স্বাক্ষী হয়ে ইকবাল হাসানের স্বাক্ষরিত একটি ১০০ স্ট্যাম্প ও কয়েকটি প্রাপকের নাম ও তারিখ ছাড়া ব্যাংক চেক প্রধান করেন। টাকা প্রদানের পর থেকে রেশন তো দুরের কথা এক টাকা ও লাভের টাকা পায়নি। এদিকে আপনার ভাই বোন আত্মীয় স্বজনরা টাকার জন্য ক্রমাগত পেশারে আমি একেবারে দিশেহারা। বেশ কয়েকবার নুরুল আবছারের কাছে দেওয়া টাকা ফেরত চাইতে গেলে তিনি নানা রকম তার বাহানায় কালক্ষেপণ করতে থাকে এরিসাথে আমাদের নানা ধরনের হুমকি প্রদান করতে থাকেন।
প্রতারনার স্বীকার অপর এক গার্মেন্টস কর্মী শিরিন জানান, গুলতাজ বেগমের কথায় রেশন কার্ডের জন্য আমি ৩ শক্ষ টাকা তুলে দিয়। পাশাপাশি আমার সাথে কাজ করা প্রায় ৩৫ জন মেয়ে ও আমার রিকশা চালক স্বামী ও শাশুড়ির কাছ থেকে সব মিলে ৮০ লক্ষ টাকা গুলতাজ বেগমের কথায় তার স্বামীর হাতে তুলে দিয়। গুলতাজ বেগম ও তাঁর স্বামী হারুন সেই সময় আমাদের কয়েকটি ইকবাল হাসানের স্বাক্ষরিত কয়েকটি স্ট্যাম ও চেক প্রদান করলেও গেল ৮ মাসে একটা টাকাও ফেরত পায়নি। এদিকে আমার ও আমার স্বামীর জমানো শেষ সম্বল টুকু হারিয়ে ছেলে সন্তান নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। গেল কয়েক মাস আমার স্বামী দিশাহারা হয়ে আমাকে তালাক দেয়।
প্রতারনার স্বীকার অপর এক দিনমজুর নাছির উদ্দিন জানান গুলতাজ বেগমের কথার যাদুতে মুগ্ধ হয়ে অতি লোভে রেশনের আশায় নিজেদের শেষসম্বল ও বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন মিলে ৩০০ জনের কাজ থেকে প্রায় কোটি টাকা গুলতাজ বেগমের হাত দিয়ে ইকবাল হাসানের হাতে তুলে দিয়। টাকা দেওয়ার প্রায় ৮/৯ মাসে প্রথমে একবার শনের কিছু জিনিস ফেলেও বর্তমানে সবার ক্রমাগত চাপে একেবারে নুয়ে পড়েছি। আমার কাছে ইকবাল হাসানের স্বাক্ষরিত কয়েকটি স্ট্যাম ও চেক ছাড়া পারফেক্ট কোন ডকুমেন্ট না থাকায় নিতে পারছি না কোন আইনী পদক্ষেপ।
তিনি আরো জানান তিনি ও তার টিম ছাড়া পতেঙ্গা ও ইপিজেডের ৫ হাজারের বেশি লোকদের কাজ থেকে এই ইকবাল হাসান, গুলতাজ বেগম ও নুরুল আবছার হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
অপরদিকে সম্প্রতি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতারিত একজন টাকার জন্য গুলতাজ বেগমের নতুন বসতি আনোয়ার এলাকায় গেলে গুলতাজ বেগম তার স্বামী হারুনের মাধ্যমে এই লোকটিকে বাড়িতে নিয়ে মারধর করেন ও তার নামে থানায় মামলা দিয়ে নানামুখী হয়রানি করেন।
এদিকে প্রতারণার বিষয়ে মুঠোফোনে নুরুল আবছারের কথা বললে তিনি পতেঙ্গা এলাকার প্রতারণার সব দোষ চাপান ইকবাল হাসানের উপর চাপান। একি সাথে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি নিজে প্রতারিত হয়ে ইকবাল হাসানের নামে থানায় প্রতারণা মামলা করেছেন বলে জানান।
প্রতারণার বিষয়ে গুলতাজ বেগমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে তিনিও সব অভিযোগ অস্বীকার করে দোষ চাপান ইকবাল হাসানের উপর। এরিসাথে তিনি নিজে প্রতারণা স্বীকার হয়েছেন বলে জানান। অপরদিকে অধিকাংশ লোকজনের টাকা বিকাশ ও নগদে গ্রহণকারী গুলতাজ বেগমের স্বামী হারুনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে নানা হুমকি দিতে থাকেন।
এদিকে প্রতারণার বিষয়ে প্রতারক দলের লিডার ইকবাল হাসানের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ চেষ্টা চালিয়েও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আলোকিত প্রতিদিন/২৪ আগস্ট ২০২৫/মওম
- Advertisement -

