মোঃ নিশাদুল ইসলাম, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি (ভিপি নুর) নুরুল হক নূর সৈরাচার পরবর্তী বর্তমান ডঃ ইউনুস শাষিত চলমান অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রতি পরামর্শ রেখে ও আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এদেশের মানুষের কাছে আগামী নির্বাচন একটি মাইফলক, গ্রহনযোগ্য ও অর্থবহ করার লক্ষে আপনাদের ঘোষিত আগামী নির্বাচনের যে তারিখ দিয়েছেন তার আগে যে সময় আপনাদের হাতে রয়েছে নির্বাচনের আগে এর ভেতরের সময়টাতে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কাজগুলো শেষ করুন। বিশেষ করে এ দেশের মানুষের কাছে একটি কাঙ্খীত ও জবাবদিহিতামূলক নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসনের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ঢেলে সাজানোর ব্যাবস্হা নিন। কারন সৈরাচার পালিয়ে গেলেও তাদের কিছু প্রেতাত্মা এখন আমাদের মাঝে ঘাপটি মেরে বসে আছে। তিনি আজ ১৫ ই আগস্ট বিকেল ৬ টায় শহরের পৌর মুক্ত মঞ্চে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গনঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ১৮ এর কোটা সংস্কার থেকে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও রাষ্ট্র সংস্থার শীর্ষক গনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। তিনি বক্তৃতায় স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমার এই বার আসা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটিতে তিন বার আসা। এই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটি আলেম ওলামার মাটি।এই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটি গুনী ও শহীদের রক্তে ভেজা মাটি। এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গণধিকার পরিষদ আয়োজিত এক ইফতার পার্টিতে আমি ট্রেনে করে আসতেছিলাম।
কিন্তু সেদিন স্বৈরাচারের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনী স্বৈরাচারের ইশারায় আমার ট্রেন পর্যন্ত আটকে দিয়েছিলো। আমাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেদিন জানানো হয়েছিল, যদি আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসি হয়তো আমি ঠিকভাবে ফেরত যেতে পারবো না। আমার বড় বিপদ হবে। আমি যেন ঢাকায় ফেরত চলে যাই। আমাকে তারা প্রয়োজনে হেলিকপ্টারে ঢাকায় ফেরতের ব্যবস্থা করবে। আমি সেদিন তাদের রক্ত চক্ষুকে ভয় না করে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছিলাম। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইফতার পার্টিতে যাবো হয় জীবিত না হয় মৃত। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাবোই যাবো। আমি সেদিন ঠিকই এসেছিলাম। কিন্তু যে রেস্টুরেন্টে আমাদের ইফতার পার্টি করার কথা ছিল স্বৈরাচারের ধূসর এখানকার ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের লোকজন আমাদের ইফতার পার্টির রেস্টুরেন্টে তালা লাগিয়ে দিয়েছিল।কিন্তু আমরা সেদিন রেস্টুরেন্টের সামনে রাস্তায় বসে ইফতার পার্টির অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছিলাম। তিনি তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান, শহীদ হাফেজ কাউসারের কথা স্মরণ করেন। তিনি,আগামীর সুন্দর তারুন্যের বাংলাদেশ গড়তে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন। গণধিকার পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি আশরাফুল হাসান তপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গণধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মু্হাম্মদ রাশেদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,গণআধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ফারুক হাসান।
প্রধান বক্তা মোঃ রাশেদ খান বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল কায়েমের মধ্য দিয়ে মানুষের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব কেড়ে নেওয়া সহ, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতাও কেড়ে নিয়েছিলেন।এবং তিনি ছিলেন ইতিহাসের প্রথম গণহত্যাকারী। আর তারই সন্তান স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা হলো এদেশের দ্বিতীয় গণহত্যাকারী। তারা গত ১৬ বছর জুলুম নির্যাতন গুম, খুন ও মামলা হামলার মধ্য দিয়ে এদেশে একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখে ছিল, তাদের কার্যকলাপ দেখে দেশের জনগণ মনে করেছিল হয়তো তারা চিরকাল ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু এদেশের ছাত্র জনতার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারা ইতিহাসে আস্তা খুঁড়ে নিক্ষেপ্ত হয়েছে। তাদের এ দেশের রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। তারা আগামীতে কোন মোড়কেই। নির্বাচনে যেন অংশগ্রহণ করতে না পারে আমাদের সকলকে সেই ভাবে পাহারা দিতে হবে। কারণ তারা স্বতন্ত্র ডামি কিংবা অন্য কোন ব্যানারে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
আমরা একটা নেতাকর্মী বেঁচে থাকতেও তাদেরকে নির্বাচনে সুযোগ নিতে দেবো না ইনশাআল্লাহ। গণ সমাবেশে গণধিকার পরিষদের ঢাকার অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এবং বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও কুমিল্লা ও আশেপাশের অনেক জেলা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

