আজ শুক্রবার, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ২০ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তারেক রহমানের নির্দেশনায় বাঘায় বন্যা দুর্গতদের মাঝে বিএনপির খাদ্য সহায়তা বিতরণ!

আরো খবর

আব্দুল আলিম, বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ইউনিয়নের পানিবন্দী ৩টি গ্রামের ৫০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়।

বিএনপির এ সহায়তা কার্যক্রমে রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম সরকার-এর উদ্যোগে শুকনা খাবার ও ওরস্যালাইন বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সভাপতি ও নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ফজলুর রহমান খোকনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আবু সাইদ চাঁদ বলেন, “তারেক রহমান একজন মানবিক নেতা। তাঁর নির্দেশেই আমরা দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আগামীতেও আমাদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”
ছাত্রদল নেতা কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ বলেন, “বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গ সংগঠনগুলো স্থানীয় ও কেন্দ্রীয়ভাবে দুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে এবং থাকবে।”

সহায়তা কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন—ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হোসেন, রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুর রহমান সৌরভ, গড়গড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ করিম টিপু সরকার ও চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জগলু শিকদার।

প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, বন্যায় চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশী ফতেপুর, কালিদাসখালী, আতারপাড়া, চৌমাদিয়া, দিয়াড় কাদিরপুর, লক্ষ্মীনগর এবং গড়গড়ি ইউনিয়নের কড়ারি নওশারা, খানপুর গুচ্ছগ্রাম, আশরাফপুর, খানপুর নিচপাড়ার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।

পলাশিফতেপুর গ্রামের রুনিয়া খাতুন জানান, তার ৩ বিঘা জমির ভুট্টা সম্পূর্ণ ডুবে গেছে।
কালিদাসখালী গ্রামের বাতেন মোল্লার ৫ বিঘা জমির কাউন ও ৩ বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
একই গ্রামের মজিবর শিকদারের ১০ বিঘা জমির পেঁপে বাগানে কোমর সমান পানি, আনোয়ার শিকদারের ৪ বিঘা জমির ধান ও পেঁপে বাগানও বন্যায় ডুবে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, অনেকেই কাঁচা ধান কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন। যাদের ঘরে পানি উঠেছে, তারা মাচা তৈরি করে থাকছেন এবং রান্নার জন্য অন্যত্র গিয়ে খাবার তৈরি করছেন।

গত পাঁচদিনে প্রায় ১,৭০০ বিঘা ফসলি জমি, গোচারণ ভূমি ও রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে গেছে। পদ্মার ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ এর আশপাশের ৫০টি পরিবার।

বন্যার কারণে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও পলাশিফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। লক্ষ্মীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেড়ার অর্ধেক অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে।

চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জগলু শিকদার বলেন, “বন্যার পাশাপাশি কিছু এলাকায় ভাঙনও দেখা দিয়েছে। দুর্গত মানুষকে পোকামাকড়ের ভেতরে বসবাস করতে হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে অনেক ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার বলেন, “দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি 

- Advertisement -
- Advertisement -