মোঃ আবদুল ওয়াদুদ, চট্টগ্রাম: নুরুল আলম সিকদার। যিনি সিকদার নামেই বেশ পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে। কোম্পানীগঞ্জে বিএনপি’র রাজনীতিতে এখনো মাঠ কাঁপাচ্ছেন আলোচিত এই নেতা। কিন্তু এখন তাঁর প্রতিপক্ষের লোকজন করছেন নানা সমালোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর তাঁর অনুসারীরা তাকে ঘিরেই মাঠে সক্রিয় আছেন। তবে অন্যপক্ষ উপজেলার কোথাও কিছু ঘটলেই শিকদারের উপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন। এসব নিয়ে চলছে বিতর্ক। যদিও নুরুল আলম সিকদার সভা-সমিতি’র অনুষ্ঠানে নিজকে নির্দোষ দাবী করছেন। কারও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ বলতে তিনি অনুরোধ করছেন।
সরজমিনে জানাগেছে, নুরুল আলম সিকদার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র বর্তমানে আহবায়ক। এরআগে তিনি ছাত্র জীবনে তুখোড় প্রভাবশালী ছাত্র নেতা ছিলেন। বসুরহাট সরকারি মুজিব কলেজ শাখার ছাত্রদলের সভাপতি এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এতে সফলতার ফল স্বরুপ সরাসরি উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন দুইবার। এরপর সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন পর পর দুইবার। এছাড়াও অনেক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত আছেন। উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। বিগত সময়ে প্রায় দুই ডজন মামলার আসামী হয়েছেন। জেলও খেটেছেন। এরমধ্যে অন্তত আটবার হামলারও শিকার হয়েছেন।
মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন তিনি কয়েকবার। ছিলেন হাসপাতালে অনেকদিন। তবুও তাঁর অনুসারীদের দোয়ায় সুস্থ হয়ে রাজনীতিতে ছিলেন সক্রিয়। আসামী হয়ে বাড়ীতে থাকতে পারেননি। দলের কেন্দ্রীয় ঘোষিত সকল কর্মসূচিতে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন বরাবর। আ’লীগ সরকার পতনের পরও মাঠে-ময়দানে আছেন ত্যাগী এই সিকদার। কিন্তু প্রভাবশালী একটি মহল কোথাও অঘটন ঘটলেই তাঁকেই ইঙ্গিত করছেন। সিকদারের অনুসারী বাংলা বাজারের ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন বলেন, সিকদার চেয়ারম্যান এলাকার কোথাও অনিয়ম কিংবা অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত নয়। পারিবারিকভাবে তাঁরা প্রতিষ্ঠিত। তিনি ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান।
কিন্তু প্রতিপক্ষ তাঁকে ঘায়েল করতেই অপপ্রচার চালাতে ব্যস্ত আছেন। তিনি সামনে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন। আর এই ধারণা থেকেই নানা ষড়যন্ত্র চলছে। বসুরহাটের যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, নুরুল আলম সিকদার বার বার হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। এরপরেও তাঁকে রাজনীতি থেকে কেউ আলাদা করতে পারেননি। বরং দলের উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষপদে দায়িত্ব দিয়েছেন জেলার নেতৃবৃন্দ। কেন্দ্রীয় নেতারাও সিকদারকে পছন্দ করেন। বিশ্বস্থ এবং মৃত্যুঞ্জয়ী এই নেতার হাত ধরেই উপজেলা বিএনপি আরো এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
নুরুল আলম শিকদার দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনের এই প্রতিনিধিকে বলেন, প্রায় ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ছোট ফেনী নদীর ওপর ৫০৪ মিটারের একটি সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। সেতুটি দেখতে গিয়েছিলাম আমি। ওই সময় চরহাজারীর মিজান এবং রহিম নামের দুই ভাইয়ের আবু মাঝির হাটে বাগবিতণ্ডা হয়। অথচ আমাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চলছে। আমি শহীদ জিয়ার সৈনিক হিসেবে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য রাজনীতি করি। ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালীনও আমি কারও ক্ষতি করিনি। সামনে যতই চ্যালেঞ্জ আসুক; মহান আল্লাহর দয়ায় এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবেলা করবো। অপরদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর ফরহাদ শামীম বলেন, নুরুল আলম সিকদার বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত নয়। তাছাড়া কোম্পানীগঞ্জের কোথাও বালু উত্তোলন হচ্ছেনা।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

