আজ বুধবার, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হালিশহরের গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয়ে একের পর এক অনিয়ম চলছেই

আরো খবর

মোঃ আবদুল ওয়াদুদ, চট্টগ্রাম: হালিশহরের গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয়ে একের পর এক অনিয়ম চলছেই। এখানে অনিয়ম যেন নিয়মেই পরিণত হয়েছে। এসব অনিয়মের প্রধান হচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মঞ্জু। তারই ধারাবাহিকতায় এবারে এসএসসি’র ফরম পূরণেও প্রতিজন শিক্ষার্থী থেকে আদায় করা হচ্ছে ৬০৭০ টাকা। ওই টাকা যারা দিতে পারছেন না তাদের ফরম পূরণ বন্ধ রয়েছে। এই খবরে ছড়িয়ে পড়লে এলাকার অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

ওদিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি স্কুল ফান্ড থেকে ছয় লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা এক শিক্ষককে প্রদান করা নিয়েও চলছে ব্যাপক তোলপাড়। অনেকেই বলছেন, এসব অনিয়মকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটারও সম্ভাবনা রয়েছে। একাধিক সূত্রে জানাগেছে, নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে স্কুলটিতে এমনিতেই চলছে অসন্তোষ। সেই অন্তোষ আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ায়। কারণ চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশের বাইরে ওই টাকা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিজন শিক্ষার্থী থেকে ৬০৭০টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। অথচ বোর্ড ফি ২৩৪৫টাকা। এর বাইরে বিদ্যালয় অংশ ৭২৫টাকা, টেস্ট ফি ১৫০০টাকা ও কোচিং ফি ১৫০০টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, শিক্ষকরা লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য এই ফন্দি করেছেন। এরইমধ্যে কিছু শিক্ষার্থী অতিরিক্ত টাকা না দিতে পারায় ফরম পূরণ করতে পারছেন না। জেসমিন আক্তার নামের এক অভিভাবক বলেন, বোর্ডের নির্দেশের বাইরে আমার ছেলে থেকে ৬০৭০টাকা দাবি করায় আমি হতবাক। এই টাকা কিভাবে দিব? আমার ছেলে বাইরে কোচিং করে; এরপরেও শিক্ষকরা টাকা দাবি করছেন কোচিংয়ের। আমি এমন চরম অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মিজানুর রহমান নামের আরেক অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। আমি স্বল্প আয়ের মানুষ। এখন ছেলের কিভাবে ফরম পূরণ করাবো; এই নিয়ে মহা টেনশনে আছি। গতকাল বিদ্যালয়ে এই প্রতিনিধি সরজমিনে গেলে অনেক শিক্ষার্থী বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের অন্যায় দাবির কারণে গরীব শিক্ষার্থীরা চরম বেকায়দায় পড়ছেন।

এরমধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী ফরম পূরণের বিষয়ে কথা বলে খুবেই হতাশা প্রকাশ করেন। আবার কেউ কেউ ক্ষোভও প্রকাশ করেন। অপরদিকে স্কুলের শিক্ষক শাহ আলম মজুমদারকে গত ১৭/০৯/২৪ইং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির স্বাক্ষরে স্কুল ফান্ড থেকে ছয় লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা প্রদান করা নিয়েও চলছে তোলপাড়। কারণ, স্কুল ফান্ডের টাকা এভাবে কাউকে প্রদান করতে হলে পরিচালনা পরিষদের বৈঠকে সীদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু কোন প্রকার সভা ছাড়াই ফান্ডের টাকা খরচ করায় অনেকের মধ্যেই ক্ষোভ চলছে।

এরআগে একাধিক অনিয়মের কারণে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়। এরপর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এম. এ. মঞ্জু চেয়ারে বসার পর পরেই তিনিও স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেন। এখন শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার পেছনে মূখ্য ভূমিকা পালন করছেন ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজেই। গত কয়েক বছর স্কুলে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। যা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় হয়। সরকারী ৩/৪ টা ভবন পাওয়া সত্বেও শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খেতে হয় শিক্ষকদের। একেক কক্ষে ৪০/৫০ জনের বসার সুব্যবস্থা থাকলেও সেখানে বসানো হচ্ছে ১০০-১২০ জনকে। ছাত্র-ছাত্রীদের টয়লেটগুলোও অপরিচ্ছন্ন।

নামাজেরও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। আবার নেই কোন ক্যান্টিনও। টিফিনের সময় স্কুলের গেইট বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা অভুক্ত থাকতে হয়। এই নিয়েও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের শেষ নেই। কমিটির অন্যতম বর্তমান সদস্য, শিক্ষা ও আইসিটি’র আহবায়ক জসিম উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, কোন শিক্ষককে স্কুল ফান্ড থেকে এভাবে টাকা প্রদান করার পূর্বে অবশ্যই পরিচালনা কমিটির বৈঠকে রেজুলেশান করতে হয়। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের টাকা অন্যায়ভাবে দেওয়া হয়েছে। এসএসসি’র ফরম পূরণে এভাবে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায় করা নজির বিহীন ঘটনা। আমি এই বিষয়ে প্রশাসনের ওপরের মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মঞ্জুর বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের বৈঠকে সীদ্ধান্ত নেওয়ার পর এসএসসি’র ফরম পূরণে উক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। এখানে  দুর্নীতি করার কোন সুযোগ নেই।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -