আজ বৃহস্পতিবার, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ২ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মৃধ্যার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সরাতে চলছে চক্রান্ত

আরো খবর

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ ৫ই আগস্ট স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয়গুলো পার করছে অস্থির সময়।এই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কুচক্রী মহল কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের উসকে দিয়ে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সম্প্রতি নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের মৃধ্যার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিকের পদত্যাগের দাবিতে গত ৭ অক্টোবর বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের সকাল ১০টায় এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

জানা যায়, মানববন্ধনে উপস্থিত একাংশ ছাত্র ছাত্রীদের দাবির মুখে বিকাল ৩টায় প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিক পদত্যাগ করেন।পদত্যাগের পরদিন ৮ অক্টোবর ঐ সকল ছাত্র ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সদর উপজেলার ইউএনওকে। আনীত অভিযোগ বিষয় নিয়ে সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন,মৃধ্যার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মোট ২৩টি অভিযোগ করে।উক্ত অভিযোগের আলোকে তদন্ত করে শাস্তি যোগ্য অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় বিষয়টি তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি করা হয়।তবে প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিকের পদত্যাগ পত্রটি গৃহীত হয়নি বলে জানান।

এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ার প্রায় ৪৫ দিন পর অর্থ্যাৎ ১৮ নভেম্বর বিদ্যালয়ে সকল শিক্ষক ও কর্মচারীরা প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিকের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ এনে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রদান করেন।নির্বাহী কর্মকর্তা আঁখি নুর জাহান নীলা বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,উক্ত অভিযোগের আলোকে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে।সেই চিঠিতে তাদেরকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করার জন্য বলা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি) আহবায়ক, সদস্য সচিব পৌর কল্যাণ মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের ১জন অভিভাবককে সদস্য হিসাবে সেই কমিটি করা হয়।বর্তমানে কমিটির তদন্তের কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য পাওয়া যায়।

এদিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান,প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিক এই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক থেকে শিক্ষকতা করছেন।তিনি যদি এতোটাই খারাপ হতেন তাহলে দীর্ঘদিন এখানে কি করে শিক্ষকতা করেন? এরপরেই বিস্ফোরক মন্তব্য তাঁর, প্রধান শিক্ষকের অপরাধ তিনি শিক্ষকদের তাদের মন মতো চলতে দেন না।তিনি বলেন,বাজার সংলগ্ন স্কুল হওয়াতে এখানে স্থানীয় বখাটেরা বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ইভটিজিং করতো।একদিন খবর পেয়ে ঐ ইভটিজারদের বাজারে গিয়ে দৌড়ে দৌড়ে পিটিয়েছেন প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিক। ছাত্র বিক্ষোভের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, গত ১০ আগস্ট দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষার প্রারম্ভে তিনি ১বিষয়েও ফেল করা শিক্ষার্থীদের আগামী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেবেন না বলে ঘোষণা দেন।সেই ঘোষণাটি তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।এছাড়াও আরো নানাবিধ চক্রান্ত জড়িয়ে আছে প্রধান শিক্ষককে এখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য।

ঘটনার অনুসন্ধানে বিদ্যালয়ে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাসকে না পেয়ে সহকারী শিক্ষক মাওলানা শরীফ হোসাইনের সাথে কথা হয়। তিনি জানান,ঘটনার সূত্রপাত তো সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে।আমরা মনে করি এই নিয়োগে আর্থিক লেনদেন হয়েছে।এর আগে নৈশ প্রহরী ও অফিস পিয়ন নিয়োগ থেকেও প্রধান শিক্ষক আর্থিক সুবিধা নিয়ে নিয়োগ দিয়েছেন।এছাড়াও মোট ১৮ টি অনিয়মের অভিযোগ করেছি।আশাকরি এর মধ্যে কয়েকটি হলেও আমরা প্রমাণ করতে পারবো।যদি প্রমাণ নাও করতে পারি তারপরেও প্রধান শিক্ষক হিসাবে হিরন্ময় ভৌমিক এখানে শিক্ষকতা করতে পারবেন না।আর তাছাড়া তিনি স্বৈরাচারী কায়দায় বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন।বিদ্যালয়ের সকল কিছু একক সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়ন করতেন বলে জানান।তবে

মাওলানা শরীফ হোসাইনের এই বক্তব্যের মধ্যে দুরভিসন্ধিমূলক চক্রান্ত লুকিয়ে আছে বলে মনে করেন সাবেক ঐ অভিভাবক সদস্য।

এই বিষয়ে ভুক্তভোগী অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিক বলেন,আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হবে।আমি আবার আমার প্রিয় বিদ্যালয়ে ফিরতে পারবো।সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ঘুস গ্রহনের বিষয়ে তিনি বলেন,এটা পুরোপুরি সত্য নয়।তৎকালীন অভিভাবক সদস্যের পরামর্শে মিষ্টি খাওয়ার জন্য তিনিই ৫০,০০০ হাজার টাকা দেন।
“আমার ভাগের টাকা আমি না নিয়ে তখনই ফেরত দিয়ে দেই”।

এদিকে অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,দীর্ঘ ২মাসেও প্রধান শিক্ষক হিসাবে কাউকে পদায়ন না করায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তাঁরা অচিরেই প্রধান শিক্ষক পদায়নের জন্য জোর দাবি জানান।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি 

- Advertisement -
- Advertisement -