রানা ইস্কান্দার রহমান:
গাইবান্ধা সদর উপজেলায় তিস্তার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন মাঠে আগাম জাতের রোপা আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার ধানের ভাল ফলন পাওয়ায় ও বাজারে নতুন ধানের ভাল দাম থাকায় খুশি কৃষকরা।
চলতি আমন মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে খরার কবলে পড়লেও শেষের দিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারে ধানের ভালো ফলনের আশা করছে চাষীরা। তবে আগাম জাতের ধানের ফলন পেয়ে চাষীরা বেশ খুশি। সদর উপজেলায় মোল্লার চর, কামারজানি, ঘাগোয়া ইউনিয়নের তিস্তার চরাঞ্চলসহ উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। চাষীরা আগাম আলু ও সরিষা রোপণের জন্য তাদের জমিতে আগাম জাতের ধান বিনা-৭, ব্রি-৩৩, ব্রি-৭২,ব্রি-৭৫,ব্রি-৪৯ ব্রি-৯৩ সহ পারিজা জাতের ধান চাষ করেছেন। ইতিমধ্যেই পুরোদমে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে আগাম জাতের সব ধান কৃষকের গোলায় উঠবে। আর ধান কাটার পর পরই শুরু হবে আলু এবং সরিষা রোপণের ধুম। গিদারী গ্রামের কৃষক হোসেন আলী বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি ২ বিঘা জমিতে আগাম ব্রি-৭৫ জাতের ধান চাষ করেছেন। ১০ দিন পরেই তার ধান কাটা শুরু হবে। তিনি আশাতীত ফলন পাবেন বলে আশা করছেন এবং সরিষা চাষের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাকে প্রণোদনার সরিষা বীজ ও সার দিবেন বলে জানিয়েছেন আশ্বস্ত করেছেন। একই গ্রামের কৃষক হামিদ বলেন, বিনা-৭ ও ব্রি-৩৩ জাতের ধান চাষ করেছি। আগাম ধানের রোগ বালাই কম, দাম পাওয়া যায় ভাল বিশেষ করে ধানের আটি (খড়) চড়া দামে বিক্রি করতে পারি সর্বপরি আগাম আলুর চাষ করা যায় ফলে বছরে তিনটি ফসলের জায়গায় চারটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে ।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১৮ হাজার ৮শ’ ৭১ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কিন্তু চাষাবাদ হয়েছে ১৮ হাজার ৮শ’ ৭৪ হেক্টর জমিতে এর মধ্যে আগাম জাতের ধান ১ হাজার ২শ’ ৩৫ হেক্টর জমিতে। গাইবান্ধা সদর উপজেলার
উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মোঃ শাহাদৎ হোসেন বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারে আমরা আমন ধানের ভালো ফলনের আশা করছি, তাছাড়া ধান রোপণের সময় সঠিক বয়সের চারা রোপন, লাইন, লগো, পাচিং করায় মাঠে রোগ বালাই নেই বললেই চলে, বিশেষ করে উপজেলায় কোথাও বিপিএইচ এর আক্রমণ লক্ষ্য করা যায়নি।
সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকগন সার পাচ্ছেন । সরকারি ভাবে প্রণোদনা কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সার ও বীজ সহায়তা দিয়ে আমন চাষে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা ফসলের রোগবালাই, ইঁদুর নিধন বিষয়ে নিয়মিত মাঠে গিয়ে কৃষক গ্রুপে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন বলে জানা গেছে।
আগাম আমনের জমিগুলোকে সরিষা প্রণোদনা কর্মসূচি আওতা নিয়ে আসার পরিকল্পনা আছে বলে জানা গেছে।
আলোকিত প্রতিদিন/ ১ নভেমাবর -২৪/মওম
- Advertisement -

