আজ বুধবার, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৫ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধস,৩ রোহিঙ্গাসহ ৬ জনের মৃত্যু 

আরো খবর

আবু সায়েম:
কক্সবাজার সদর উপজেলা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে রোহিঙ্গাসহ ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নে পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়। শুক্রবার মধ্য রাতের দিকে ঝিলংজা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডিক্কুল গ্রাম এবং উখিয়া ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, দক্ষিণ ডিককুল এলাকার মিজানুর রহমানের স্ত্রী আখি মনি এবং তার দুই শিশু কন্যা মিহা জান্নাত নাঈমা ও লতিফা ইসলাম এবং ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-২ ব্লকের কবির আহমেদের ছেলে আব্দুর রহিম, আব্দুল হাফেজ এবং আবদুল ওয়াহেদ।
ডিককুলে পাহাড়ধসে নিহতের স্বজনরা জানান, রাতে ৩টার দিকে ভারী বৃষ্টি হওয়ার সময় মিজানের বাড়ির দিক থেকে একটি পাহাড়ধসের বিকট শব্দ শুনতে পায় তারা। পরে তারা গিয়ে দেখেন সপরিবারে মাটিচাপা পড়েছে মিজানুরের পরিবার। তাৎক্ষণিকভাবে মিজানুরকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে ভোর রাতের দিকে কক্সবাজার দমকল বাহিনীর সহযোগিতায় উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে স্ত্রী ও দুই শিশু মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান,মিজানের বাড়িটি পাহাড়ের পাদদেশে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যায়। পরে মধ্যরাতে ওপর থেকে পাহাড়ধসে তার বাড়িতে পড়ে।
সূত্র জানায়,  পাহাড় ধসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে কক্সবাজার সদরের ইউএনও নিলুফা ইয়াসমিন চৌধুরি। পরে তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে ৭৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন।
কক্সবাজার ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার শামসুদ দৌজা নয়ন জানান, ভারি বর্ষণে উখিয়া ১৪ নম্বর হাকিম পাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে তিনটি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়। স্বেচ্ছাসেবকরা বিধ্বস্ত ঘরবাড়িতে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে প্রবল বৃষ্টির কারণে পর্যটন এলাকা কলাতলী, পৌর এলাকার অধিকাংশ ওয়ার্ড, চকরিয়া পেকুয়া, কুতুবদিয়া, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, ঈদগাঁও, কক্সবাজার সদরের নিম্নাঞ্চলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতির মুখে পড়েছে বীজতলা, পানের বরজ এবং সবজি ক্ষেত। ইতিমধ্যে ৮ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বাঁকখালি এবং মাতামুহরী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নতুন করে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবীদ আব্দুল হান্নান জানান, গত ২৪ ঘন্টায়  কক্সবাজারে মোট বৃষ্টির পরিমাণ ৪০১ মিলিমিটার। যা চলমান বর্ষা মৌসুমে এটি  একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড।
উল্লেখ্য যে,গত ১২ বছরে পাহাড়ে শতাধিক ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ পৃথক পাহাড় ধসে ৬ জনের মৃত্যু সহ মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৯ জন।
আলোকিত প্রতিদিন/১৩ সেপ্টেম্বর-২৪/মওম
- Advertisement -
- Advertisement -