আজ বুধবার, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২২ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর হওয়ার আগেই ‘সেশনজট’

আরো খবর

বেশ কিছুদিন ধরে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। কোটাবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকরাও নেই ক্লাসে। সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে টানা দুই সপ্তাহ ধরে কর্মবিরতিতে শিক্ষকরা। একই দাবিতে আন্দোলনে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। এতে অচল দেশের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে এমন আন্দোলনে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন চলতি শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির প্রথম বর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। মেধা তালিকায় জায়গা পেলেও ভর্তি হতে পারছেন না অনেকে। আবার কেউ কেউ অপেক্ষমাণ তালিকায় ঝুলে আছেন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবেন কি না, তা নিশ্চিত না হওয়ায় অনেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হতে পারছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুচ্ছভুক্ত দেশের ২৪টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। দ্বিতীয় ধাপে ভর্তির প্রক্রিয়া চলাকালীন শিক্ষকদের আন্দোলনে স্থগিত ভর্তি কার্যক্রম। প্রকৌশল গুচ্ছভুক্ত তিনটি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও চতুর্থ ধাপের ভর্তির কার্যক্রম আটকে আছে। চট্টগ্রাম, খুলনা এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুরা অনিশ্চতায় দিন গুনছেন। অন্যদিকে কৃষি গুচ্ছভুক্ত ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভবই হয়নি।

ভর্তি শেষে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটে ক্লাস শুরুর কথা ছিল। তবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নবাগতদের ক্লাস শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরুর আগেই সেশনজটে পড়তে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

দেশের পুরোনো ও বড় (শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায়) চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কাজ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি শেষ হলেও স্থগিত রয়েছে আবাসিক হলে ভর্তিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম। ভর্তি শেষে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটে ক্লাস শুরুর কথা ছিল। তবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নবাগতদের ক্লাস শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরুর আগেই সেশনজটে পড়তে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

ভর্তি কমিটির প্রধানদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গুচ্ছভুক্ত ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন প্রায় ২১ হাজার। এরমধ্যে ভর্তি শেষ হয়েছে সাড়ে ১৬ হাজার আসনে। এখনো সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য ঝুলে আছেন। কৃষি গুচ্ছভুক্ত ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন প্রায় চার হাজার। সেখানে এখনো ভর্তি পরীক্ষা না হওয়ায় আবেদন করা ৭০ হাজার শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তায় দিন গুনছেন। এছাড়া প্রকৌশল গুচ্ছভুক্ত তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে তিন হাজার আসনের মধ্যে এখনো প্রায় ৭০০ আসন ফাঁকা। সেখানে ভর্তির জন্য অনেকে অপেক্ষমাণ তালিকায় ঝুলে আছেন।

- Advertisement -
- Advertisement -