নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
অবশেষে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার রিজার্ভ হারবাং মৌজার সংরক্ষিত বনভূমিতে জব্দ করা ৪ লাখ ঘনফুট বালু আদালতের নির্দেশে ৩ ভাগের ২ ভাগ বনে মিশিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন বারবাকিয়া রেঞ্জ । শনিবার (১ লা জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ অভিযান শুরু করে বারবাকিয়া রেঞ্জ । অভিযানে বনবিভাগের কর্মকর্তা, চকরিয়া ও পেকুয়া থানার পুলিশ,সদর,পটিয়া, দোহাজারি, মাদার্শা, পদুয়া, চুনতি কালিপুর রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার, স্টাফবৃন্দও সুফলের উপকারভোগীসহ তিন শতাধিক লোক অংশগ্রহণ করে।
সার্বিক সহযোগিতা করেন পেকুয়া থানার ওসি মোঃ ইলিয়াস হোসেন। তিনি পুলিশ টিম পাঠিয়ে অভিযানকে তরান্বিত করেন।
গত ৯ মে আংশিক বালু প্রাকৃতিক পরিবেশে মিশিয়ে দিয়েছিলো বনবিভাগ। ফের আদালতের নির্দেশে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে চার লাখ ঘনফুট বালুর মধ্যে তিন ভাগের ২ ভাগ পুরোপুরি মিশিয়ে দিতে সক্ষম হয় দপ্তরটি।
বনবিভাগ সূত্র জানায়, ৪ থেকে ৫ বছর আগে অবৈধভাবে উত্তোলন করে তিনটি বালির পাহাড় তৈরি করেছিল বালি দস্যুরা। ২০২৩ সালের ২৫ মে ওই বালি জব্দ করে ইউ. ডি. আর ১৭ নং মামলা দায়ের করেন টৈইটং বনবিট কর্মকর্তা জমির উদ্দীন। চলতি বছরে বালি দস্যুরা ওই বালি নিলামের নামে বনভূমি থেকে বের করে আনার অপচেষ্টা চালায়। ফলে আদালতের শরণাপন্ন হয় বনবিভাগ। গত ৩১ মার্চ এসব বালু প্রকৃতির সাথে মিশে দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুল হক। আদালাত এ আবেদনের প্রেক্ষিতে ৮ এপ্রিলের মধ্যে বালির পরিমাপ ও অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য পেকুয়া নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করেন। ধার্য তারিখে ইউএনও প্রতিবেদন না দেওয়ায় ও কোন সময় প্রার্থনা না করায় রেঞ্জ কর্মকর্তা আরেকটি আবেদন করেন। এর ফলে আদালত এসব বালু বনের নিচু স্থানে ভরাট করে গাছ রোপন করে ভিডিও চিত্রসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। গত ৮ মে আদালতের নির্দেশে আংশিক বালু মিশিয়ে দিলে কুচক্রী মহল আদালতে মিথ্যা আবেদন করে সেটা স্থগিত করে।
হার মানতে না রাজ বনবিভাগের অতন্দ্র প্রহরী বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুল হক। বন, পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় তিনি আবার আদালতের শরণাপন্ন হন এবং বাকি বালুগুলো বনে মিশিয়ে দেওয়ার আবেদন করে।
বিজ্ঞ আদালত সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে গত বুধবার (২৯ মে) চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বিচারক জাহিদ হোসাইন ফের এ আদেশ পুনঃবহাল করেন। একই সাথে আগামী ২০ দিনের মধ্যে এসব বালু বনে মিশিয়ে তার উপর গাছের চারা রোপণের নির্দেশ দেন। এতে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য চকরিয়া ও পেকুয়া থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়।
ফের আদালতের নির্দেশ পেয়ে চট্রগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের সার্বিক তত্বাবধানে সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে গত ১ লা জুন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা অভিযান পরিচালনা করা হয়। দু’টি হুইল লোডার দিয়ে বালুর পাহাড় প্রকৃতির সাথে মিশিয়ে দেওয়ার দৃশ্য প্রকৃতি স্বাধীন হওয়ার মত। এ দৃশ্য দেখে বনবিভাগকে ধন্যবাদ জানান এলাকাবাসীও বিভিন্ন পরিবেশবাদী নেতারা ।
বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুল হক বলেন, আইনী লড়াই শেষ করে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে চার লাখ ঘনফুট বালুর মধ্যে তিন ভাগের ২ ভাগ বালু বনে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বাকি নির্দেশনা সম্পন্ন করা হবে।
অন্যদিকে বনদস্যুদের কবল থেকে বনভূমি মূক্ত ও জব্দ করা বালু প্রকৃতিতে মিশিয়ে দেওয়ায় বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষা পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

