আজ বৃহস্পতিবার, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ১২ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শাহ আলী এলাকার মাদক নিয়ন্ত্রণে কে বিন্দু জাকির

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি :
রাজধানী মিরপুরের শাহআলী থানাধীন মাজারের সামনে রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়া ইয়াবা, গাজাঁ, হেরোইন, ফেন্সিডিলের মত মাদক কারবারিতে জড়িয়ে পরছে একটি চক্র। দীর্ঘদিন যাবৎ এই মাদক ব্যবসার কারণে শাহআলীর মাজার কেন্দ্রিক  মাদক বিক্রয় বন্ধ হচ্ছে না। এর ফলে যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে। আর মাদকের টাকা যোগান দিতে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে যুব সমাজ এ কারণে অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করে মাদক বিক্রি করার সময় গত ১০ এপ্রিল বুধবার মাজারের এক নম্বর গেটের পাকা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করার সময়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় তিনজন নারী। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার কৃতরা হলেন, (১) মোসাঃ শশী আক্তার (২২) কাছ থেকে ৫ গ্রাম হেরোইন,  (২) রাজিয়া আক্তার (৩২) কাছ থেকে ৩ গ্রাম হেরোইন ও ৪০ পুড়িয়া গাজাঁ, (৩) মোসাঃ রুপা (২৪) থেকে ৫ গ্রাম হেরোইন । এই ঘটনায় শাহআলী থানা পুলিশ ৬ জনের নাম উল্লেখ্য করে একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। যার মামলা নং-১৫/৯৪ তারিখ- ১১ এপ্রিল ২০২৪। এতেই বেরিয়ে আসে মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণের চাঞ্চল্যকর তথ্য। উল্লেখ্য আসামিরা হলেন, (১) মোসাঃ শশী আক্তার (২২),  (২) রাজিয়া আক্তার (৩২), (৩) মোসাঃ রুপা (২৪), এবং পলাতক দেখানো হয় (৪) মো জাকির ওরফে বিন্দু জাকির (৩৭), (৫) শামিম (২৫), (৬) সজীব ওরফে মাস্টারের পোলা সজীব (২৬)। গ্রেফতারকৃত কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাহআলী থানায় একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।
আর এ সকল মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে এদের নিয়ন্ত্রণ করছে সাবেক ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা তার ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন যাবৎ শাহআলী এলাকার মাজার কেন্দ্রিক এই মাদক ব্যবসা, কাচাঁবাজার কেন্দ্রিক চাঁদাবাজী, কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি আর কেউ নন সাবেক শাহআলী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তরের বণ ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জাকির ওরফে বিন্দু জাকির। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের মাঝে চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, ছাত্রলীগের অন্তরালে এভাবেই মাদক ব্যবসা, কাচাঁবাজার ও আড়ৎ কেন্দ্রিক চাঁদাবাজী করেই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এই জাকির। আর তা না হলে এভাবে অল্প সময়ের ভিতরে গাড়ি-বাড়ি কোটি টাকার সম্পত্তি গড়ে তোলা কোনো ভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই ! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের অনেকেই বলছেন, এভাবেই ছাত্রলীগের সুনাম নষ্ট করবে তা কোনভাবে মেনে নেওয়া যাচ্ছে না তবে ব্যক্তির দায় সংগঠন নেবে না বলেও জানিয়েছেন ছাত্রলীগের একাধিক সিনিয়র নেতারা। তারা বলেন,তিনি সাবেক ছাত্রলীগের নেতা হলেও এখন স্বেচ্ছাসেবকলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন।সূত্রে যানায়, বিন্দু জাকির এতটাই ভয়ঙ্কর যে তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছেনা। তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণও করেন তিনি। আর অবৈধ মাদক ও কাচাঁবাজার কেন্দ্রিক চাঁদাবাজীর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকেও মাদক দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয় এবং কিশোরে গ্যাং দিয়ে শায়েস্তা করেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করছে। এ ব্যাপারে এলাকার সচেতন মহল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে তিনি। সুপরিকল্পিত ভাবে মাদক ব্যবসা করে আসছেন কিছু অসাধু প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ম্যানেজ করে।
এ অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিন্দু জাকিরের সাথে তার ব্যবহারিত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি কয়েকবার বন্ধ ও ব্যস্থ পাওয়া যায়। যেখানে মাদক নিয়ন্ত্রণে ঢাকা ১৪  আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য  মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। সেখানে কার ইশারায় হচ্ছে এই মাদক বিক্রয়?  সেই জিরো টলারেন্স নীতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাাহিনী বাস্তবায়ন করলেই মাদক নির্মূল করা সম্ভব।
আলোকিত প্রতিদিন /০১ মে-২০২৪ /মওম
- Advertisement -
- Advertisement -