আজ শনিবার, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৬ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পাহাড়ে বেড়েছে হাতির সংখ্যা

আরো খবর

 আলোকিত ডেস্ক: 

পাহাড়ি ‘পাবলাখালি’ বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে সংরক্ষিত। রাঙামাটির বাঘাইছড়ির কাচালং নদী তীরবর্তী বনের আয়তন প্রায় ৪২ হাজার ৮৭ হেক্টর। চিরসবুজ এ বনের আশপাশে লংগদু উপজেলার গুইলস্যাখালি, ভাসাইন্যাদাম, বগাচত্বর, রাজনগর, চাইল্যাতলী। গত ১২ বছরের বেশি সময় ধরে এসব এলাকায় বন্য হাতির বিচরণ। স্থানীয়রা জানান, কখনো কখনো খাবারের খোঁজে হাতির পাল কাপ্তাই লেক পাড়ি দিয়ে বরকলের বরুণাছড়ি পর্যন্ত বিচরণ করে। জনবসতি থাকায় এসব এলাকায় মানুষের সঙ্গে প্রাণীটির দ্বন্দ্ব তীব্র। পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, তবে ২০১৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্ব নিরসনে উদ্যোগ নেয়। যার ইতিবাচক ফলও মিলেছে। রাঙামাটি থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরের লংগদু উপজেলার পাবলাখালি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটি বুনো হাতি। হাতিরা ফসলের ক্ষতি, কাউকে আহত, এমনকি প্রাণহানি ঘটালে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে সরকার। এতে কমছে মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্ব। অনুকূল পরিবেশ পাওয়ায় সম্প্রতি সংরক্ষিত এ বনের মা হাতি জন্ম দিয়েছে নতুন শাবক। এতদিন যেখানে বুনো হাতির সংখ্যা ছিল ১১, এখন সেখানে প্রাণিটির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২-তে। হাতি শাবকের জন্মানোর খবর পেয়ে ভাসাইন্যাদাম এলাকার যান বন বিভাগের কর্মকর্তারা। তখন রাঙ্গাপানি ছড়ায় শাবকসহ মা হাতিকে বিচরণ করতে দেখা যায়। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ প্রতিবেদকও সেখানে ছিলেন। এ্যালিফেন্ট রেসপন্স টিম-ইআরটি: তিন বছর আগে হাতির সুরক্ষায় স্থানীয়দের সম্পৃক্ততায় এ্যালিফেন্ট রেসপন্স টিম-ইআরটি গঠন করেছে বন বিভাগ। বর্তমানে এই টিমের সদস্য সংখ্যা ১১ জন। বির্স্তীণ এলাকাজুড়ে হাতির সুরক্ষায় কাজ করেন এই টিমের সদস্যরা। সুরক্ষার পাশাপাশি হাতি রক্ষায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করেন এ টিমের সদস্যরা। হাতির অবস্থান জানিয়ে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে মানুষদের সর্তকও করেন। টিমের সদস্য মো. জয়নাল বলেন, হাতি আমাদের ক্ষতি করলেও আমরা হাতির ক্ষতি করি না। হাতি ক্ষতি করলে আমরা সরকারকে জানাই; সরকার ক্ষতিপূরণ দেয়। এর আগেও ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। কীভাবে হাতির দ্বারা ক্ষতি কমানো যায় সে বিষয়ে স্থানীয়দের পরামর্শ দিই। হাতির অবস্থান জানিয়ে সাধারণ মানুষকে সর্তক করে দিই। টিমের আরেক সদস্য রমজান আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাতি স্থানীয়দের ক্ষতি করে আসছিল। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট আমাদের নিয়ে কমিটি করল। এরপর থেকে আমরা মানুষকে সচেতন করি- হাতি ক্ষতি করতে পারবে কিন্তু হাতির ক্ষতি করা যাবে না। ইআরটির সংগঠক ও ভাস্যাইনাদাম ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনিসুর রহমান বলেন, আমরা ও হাতি মিলেমিশে আছি। কিছুদিন আগে হাতি অসুস্থ হয়েছিল। আমরা হাতির চিকিৎসা করেছি। এলাকাতে হাতি কীভাবে নিরাপদ থাকবে, আমার কীভাবে নিরাপদ থাকব, সে বিষয়ে সবসময় কাজ করছি। রাঙ্গাপানি ছড়ার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মোমিন বলেন, গত বুধবার সকালে বাগানে ছাগল বিচরণ করছিল। ছাগলটি হাতির সামনে পড়ে যায়। পায়ে পিষ্ট করে ছাগলটিকে মেরে ফেলে হাতি। বন বিভাগ ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদন করতে বলে। তিনি আরও বলেন, ২০২০ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা গেছেন তিনজন, আহত হন ছয়জন। খাবারের খোঁজে আসা বন্য হাতির পাল প্রায়শ ধানের জমি, পেঁপে বাগান, সবজির ক্ষেতের ক্ষতি করে। অনেক সময় ঘরবাড়ি বিনষ্ট করে, মানুষের প্রাণহানি ঘটায়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব ক্ষয়-ক্ষতি যাচাই-বাছাই করে ক্ষতি পূরণ দেওয়া হয়। পাবলাখালী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা সজীব কুমার মজুমদার বলেন, হাতিতে ফসলের ক্ষতি, কেউ আহত বা নিহত হলে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। ফসলের ক্ষতির জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা, হাতির দ্বারা আহত হলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং কেউ মারা গেলে ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এ নিয়ে ১০৮ জন ক্ষতিগ্রস্তকে ২৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ায় কেউ হাতিকে আক্রমণ করেন না। তিনি আরো বলেন, যদি করে হাতি ক্ষতি, সরকার দিবে ভুর্তকি’ এই স্লোগানটি স্থানীয়রা খুব ভালো করে মুখস্ত করেছেন। তারা হাতির কোনো ক্ষতি করে না। মানুষের সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিরসনে হাতিকে বনাঞ্চলে ফেরানোসহ স্থায়ী সমাধনে কাচালং বন রক্ষায় প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, যেসব জায়গায় বনের ক্ষতি হয়েছে, সেসব জায়গা থেকেই হাতি সরে যাচ্ছে। আবার লোকালয়ে চলে আসছে। অন্যদিকে, সবুজ লতাপাতা গাছপালা ঘেরা পাহাড়ি জঙ্গলে হাতির বিচরণ বাড়ছে। হাতি যেন বনাঞ্চলই ফিরে সেই চেষ্টা করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকার ও বিদেশি দাতা সংস্থার কাছে প্রকল্প জমা দেওয়া আছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ৫ বছর মেয়াদী এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে হাতি লোকালয় ছেড়ে বনে ফিরে যাবে বলে মনে করছেন এ বন কর্মকর্তা।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১২ ডিসেম্বর ২৩/ এসবি

- Advertisement -
- Advertisement -