মো: মহিদ:
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে সিফাত(৮) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজের ১৩ ঘন্টা পর নদীর পার থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে।পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই মাদ্রাসার ছাত্র সাকিবকে(১২) হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ১১ ডিসেম্বর সোমবার সকালে উপজেলার নিহন্দ জামিয়াতুজ সুন্নাহ আল ইসলামীয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ সরকার এবং মাদ্রাসা পরিচালক ক্বারী মোঃ জামাল উদ্দিন। পুলিশ এবং মাদ্রাসা সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার শিবালয় ইউনিয়নের দুবলিয়া ডাঙ্গা গ্রামের শেখ ফুঁলচান মিয়ার ছেলে সিফাত ওই মাদ্রাসার মক্তব বিভাগের আবাসিক ছাত্র। প্রতিদিনের মতো বিকালে মাদ্রাসায় সে খেলতে বের হয়। কিন্তু ৫ টা থেকে নিখোঁজ থাকে। সারারাত তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। সকালে পাশের ইছামতি নদীর পাড়ে সিফাতকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মাদ্রাসার পরিচালক ক্বারী মোঃ জামাল উদ্দিন জানান, মাদ্রাসার সামনের এক সিসি ক্যামেরায় দেখা যায় সিফাত এবং সাকিব দুজনে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। এরপর সাকিব ফিরলেও সিফাত নিখোঁজ থাকে। মাদ্রাসার এক শিক্ষক সাকিবের পাঞ্জাবীতে রক্তও দেখেছে। বিষয়টি সন্দেহুজনক হলে রাতেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ সাকিবকে থানায় নিয়ে যায়। সকাল ৬ টার দিকে সিফাতকে ইছামতি নদীর পাড়ে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তিনি আরও জানান, সিফাতের মাথা, কপাল ও ঠোটে গুরুতর জখমের চিহৃ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হয়তো আঘাতের পর সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল। মৃত ভেবেই তাকে নদীর পাড়ে ফেলে রাখা হয়। শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ সরকার জানান, মাদ্রাসা ছাত্র সাকিব তাদের হেফাজতে রয়েছে। আহত সিফাতকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বজনরা তার চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। এখন পযর্ন্ত থানায় কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে মোবাইল ফোনে তাকে জানানো হয়েছে ঘটনার সাথে সাকিব জড়িত। সিফাত সুস্থ হলেই পুরো বিষয়টি জানাযাবে। লিখিত অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।
আলোকিত প্রতিদিন/ ১২ নভেম্বর ২৩/মওম
- Advertisement -

