আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ ।   ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে ঢাকার চার নদী

-Advertisement-

আরো খবর

- Advertisement -
- Advertisement -

আলোকিত ডেস্ক:

ঢাকার চারপাশে রয়েছে চারটি নদী- বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু। এক সময় ছিল আরও অর্ধশতাধিক খাল। এসব নদী ও খাল মিলে ঢাকা ছিল অপরূপা। অনেক খালই আজ নেই। যেগুলো আছে সেগুলোও ভাগাড়। নদীগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। দখলে-দূষণে অন্তিম দশা। দেশের অনেক নদনদীই আজ দূষণ-দখলসহ নানা কারণে মরতে বসেছে। রাজধানী ঢাকাকে ঘিরে থাকা চার নদীও দূষণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। নানা ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে এসব নদীতে। বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ঢাকার চার নদী ও খাল-বিলে পাওয়া গেছে ৭২ হাজার টনেরও বেশি বর্জ্য। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘টুওয়ার্ডস আ মাল্টিসেক্টরাল অ্যাকশন প্ল্যান ফর সাসটেইনেবল প্লাস্টিক ম্যানেজমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এ তথ্য। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাস থেকে শুরু করে ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ওই সমীক্ষা চালানো হয়। ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর ৪৩টি জায়গায় পাওয়া গেছে ১১ হাজার ৫৬৪ টন বর্জ্য। এ ছাড়া শীতলক্ষ্যায় ৪৩ জায়গায় ৪৩ হাজার ১৮৩ টন, বালু নদের সাত জায়গায় দুই হাজার ১২ টন এবং তুরাগের ৩৬ জায়গায় ১৫ হাজার ৭৭১ টন বর্জ্য পাওয়া গেছে। এসব নদীতে দৈনিক ১১২ টন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এসব বর্জ্যরে একটি বড় অংশ প্লাস্টিক ও পলিথিন। বিশেষজ্ঞের মতে, নদী ও খাল দখলের পরই তার দূষণ হয়। নদীদূষণের বড় কারণ নদীর পাড়ে স্থাপনা, কলকারখানার বর্জ্য এবং নদীতে চলাচলকারী যানবাহন। ঢাকার খাল বা নদী আগে দখল হয়। এরপর স্থাপনা, কলকারখানা গড়ে তোলা হয়। এরপর সব কিছুর বর্জ্য ফেলা হয় সেই নদী বা খাল-বিলে। বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষা প্রতিবেদন বিশেষজ্ঞের এই ধারণাকে সমর্থন করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার আশপাশের এসব নদীনালা দূষণের জন্য প্রধানত দায়ী শিল্প-কারখানাগুলো। শিল্প-কারখানা আর শহরের পয়োনিষ্কাশনের সব বর্জ্য নিয়ে ফেলা হচ্ছে নদীতে। এ কারণেই এক সময়ের স্বচ্ছ টলটলে পানির নদীগুলো ভয়াবহ দূষণের শিকার। ওই প্রতিবেদনে রাজধানী ঢাকার বর্জ্য নিয়ে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরে প্রতিদিন ছয় হাজার ৪৬৪ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহকারী সংস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ল্যান্ডফিলে যায়। ৮ শতাংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা হয়। ১৪ শতাংশ ফেলা হয় ড্রেন ও অরক্ষিত এলাকায়। আর ৫ শতাংশ বর্জ্য ফেলা হয় নদী ও খালগুলোতে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশে করোনা মহামারি প্লাস্টিক দূষণকে আরও বাজে অবস্থায় নিয়ে গেছে। মাস্ক, গ্লাভসসহ অন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রীতে প্লাস্টিকের ব্যবহার হচ্ছে। এসব বর্জ্য আলাদা করা হচ্ছে না। চারটি নদীর মধ্যে তুরাগের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে তুলে এটি এমনভাবে দখল করা হয়েছে যে এটি সরু খালে পরিণত হয়েছে। ফলে স্যাটেলাইট ইমেজে তুরাগকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা চালু থাকলে এক সময় হারিয়ে যাবে তুরাগ। নোঙরের অনুসন্ধান প্রতিবেদন বলছে, নদীগুলো দখল করে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। কামরাঙ্গীরচর ও বসিলায় নদী দখল করে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো সবচেয়ে বেশি। এলাকা দুটিতে এর হার যতাক্রমে ৫০ ও ৫৬ শতাংশ। এছাড়া আব্দুল্লাপুর, গাবতলী, ডেমরা, কাঁচপুর ও নারায়ণগঞ্জ এলাকায় নদী দখল করে ৩৮-৪৮ শতাংশ স্থানে বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। গাছপালা ও কৃষি জমি হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে নন্দীপাড়ার ৭৩ শতাংশ জমি। আর পরিত্যক্ত জমি হিসাবে বেশি অংশ রয়েছে বসিলায় প্রায় ৩০ শতাংশ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বুড়িগঙ্গা নদীর বসিলা থেকে ধলেশ্বরী নদী পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার নদীপথের দুই পাড়ই দখল করে ফেলেছে প্রভাবশালীরা। কামরাঙ্গীরচর থেকে বসিলা পর্যন্ত ৭ দশমিক ৪১ মাইল এলাকায় নদীটি দখল হয়েছে ৯৭ দশমিক ১৭ একর। তুরাগ নদের আবদুল্লাহপুর থেকে গাবতলী পর্যন্ত ৫ দশমিক ৭৬ মাইল এলাকাজুড়ে দখল হয়েছে ১২০ দশমিক ৭৯ একর। বালু নদীর ডেমরা থেকে নন্দীপাড়া পর্যন্ত ৪ দশমিক ২ মাইলজুড়ে দখল হয়েছে। তুরাগের মোট এলাকার মধ্যে দখল হয়েছে ৮ দশমিক ৮৪ একর জায়গা। এছাড়া, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা’র তথ্যমতে, শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় দখল হয়েছে মারাত্মকভাবে। নারায়ণগঞ্জ ও রাজধানীর সঙ্গে লাগোয়া পুরো এলাকা জুড়েই শীতলক্ষ্যার পাড়ের প্রায় ১৫ কিলোমিটারের বেশি এলাকা দখল হয়ে গেছে বিভিন্ন গ্রুপের কল-কারখানা ও ইটভাটার মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এর মধ্যে নদী দখল করে সবচেয়ে বেশি অবকাঠামো গড়া হয়েছে কামরাঙ্গীরচর ও বসিলায়। এই অংশে ৫০ থেকে ৫৬ শতাংশ এলাকা দখল করা হয়েছে। এছাড়া আবদুল্লাহপুর, গাবতলী, ডেমরা, কাঁচপুর ও নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ৩৮-৪৮ শতাংশ স্থানে বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে দখল করা হয়েছে। যদিও বিআইডব্লিউটিএ-এর দাবি এই হিসাব পুরনো। এর মধ্যে দখলকৃত নদীর অনেক এলাকাই দখলমুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সূত্রে জানা গেছে, নদীর সীমানা নির্ধারণের জন্য প্রায় দুই হাজার পিলার বসানো হয়েছে তুরাগ নদীতে। এর মধ্যে আদালতের রায় মেনে বসানো হয়েছে মাত্র ২৯টি। ৯৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ পিলার বসানো হয়েছে নদীর ঢালে। সঠিকভাবে রায় না মানার ফলে আমিনবাজার সেতু থেকে উত্তরা টঙ্গী সেতু পর্যন্ত ২০ কি.মি. দীর্ঘ নদীর দুই পাড়ের মোট ৫ কোটি ২৩ লাখ বর্গফুট অতি মূল্যবান জমি নদীর হাতছাড়া হয়ে গেছে। এতে করে পুরাতন ও নতুন দখলদাররা আবার নদী দখলে মেতে উঠেছে। এছাড়া, বালু নদীর ৩৬ কিলোমিটারের মধ্যে ২২ কিলোমিটার এলাকাই দখলদারদের আওতায় চলে গেছে। শুকনো মৌসুমে নদীর পানিও আলকাতরার মতো কালো হয়ে যায়। বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত পাঁচ বছরে বুড়িগঙ্গার দ্বিতীয় চ্যানেল সম্পূর্ণভাবে দখলদারিত্বের মধ্যে চলে গেছে। বিআইডব্লিউটিএ’র সীমানা পিলার উপেক্ষা করে এবং বুড়িগঙ্গার বুক চিরে দখলের রাজত্ব কায়েম করেছে একটি মহল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা (জিআইএস), স্যাটেলাইট ইমেজ ও বাস্তব পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিরূপণ করা হয় নদ-নদীগুলো দখলের চিত্র। তাতে দেখা যায়, এক যুগের কিছু বেশি সময়ে ঢাকার চারপাশে দখল হয়েছে নদ-নদীগুলোর ২৫০ একরের বেশি জায়গা। পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে ঢাকার চারপাশে নদীর পাড় ধরে ১৮ মাইল এলাকা। ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ১৯৭৮ সালে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জলাভূমির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৯৫২ ও নিম্নভূমি ১৩ হাজার ৫২৮ হেক্টর। একই সময়ে খাল ছিল ২ হাজার ৯০০ হেক্টর। ২০১৪ সালে ঢাকা ও আশপাশে জলাভূমি কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৩৫, নিম্নভূমি ৬ হাজার ১৯৮ ও নদী ১ হাজার ২ হেক্টর। ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা দখলের চিত্র তুলে ধরতে নদ-নদীগুলোর পাড়ে জনবহুল আটটি এলাকার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে এক গবেষণা প্রতিবেদনে। এতে দেখা গেছে, ঢাকার চারপাশে সবচেয়ে বেশি দখল হয়েছে তুরাগ খাল। আবদুল্লাহপুর থেকে গাবতলী পর্যন্ত ৫ দশমিক ৭৬ মাইল এলাকাজুড়ে এক যুগে খালটির দখল হয়েছে ১২০ দশমিক ৭৯ একর। এর পর সবচেয়ে বেশি দখল হয়েছে বুড়িগঙ্গা। কামরাঙ্গীরচর থেকে বসিলা পর্যন্ত ৭ দশমিক ৪১ মাইল এলাকায় এক যুগে নদীটি দখল হয়েছে ৯৭ দশমিক ১৭ একর। কাঁচপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত ৩ দশমিক ৫৭ মাইলজুড়ে শীতলক্ষ্যা ও ডেমরা থেকে নন্দীপাড়া পর্যন্ত ৪ দশমিক ২ মাইলজুড়ে বালু নদ দখল হয়েছে। নদ-নদী দুটি যথাক্রমে ২৩ দশমিক ৮৩ ও ৮ দশমিক ৮৪ একর দখল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৬০ দশমিক ৬৩ একর খাল ও নদী দখল করা হয়েছে।দূষণমুক্ত করার কাজে অগ্রগতি নেই: দখলের পাশাপাশি ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, বালু, শীতলক্ষ্যা ও তুরাগ এই চারটি নদী দূষণ কমছে না। নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় চারটি নদী বছরের পর বছর বিষাক্ত হয়ে উঠছে। নদীগুলো দূষণমুক্ত করতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে তিন স্তরের পরিকল্পনা ও কিছু সুপারিশসহ কর্মপরিকল্পনা প্রায় তিন বছর আগে জমা দিয়েছিল নৌবাহিনী। এতে তিন স্তরের মেয়াদভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়। রূপরেখা অনুযায়ী, এক বছরের জন্য স্বল্পমেয়াদি, এক থেকে তিন বছরের জন্য মধ্যমেয়াদি ও এক থেকে পাঁচ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনী এ সংক্রান্ত একটি কৌশলগপত্র উপস্থাপন করে। কিন্তু এরপর এ প্রকল্পের কাজ সেভাবে এগোয়নি। শুরুতে এ কাজের প্রধান সমন্বয়ের দায়িত্ব নৌবাহিনীকে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা দেওয়া হয় স্থানীয় সরকারমন্ত্রীকে। জানা গেছে, এর পরই একই বছরের ৫ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে জারি করা এক আদেশে বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকাকে ঘিরে রাখা বালু, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও চট্টগ্রামের কর্নফুলী নদীকে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করতে একটি মহাপরিকল্পনা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় সরকারমন্ত্রীকে। তাকে চেয়ারম্যান করে গঠিত হয় ২১ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি। কমিটিতে নৌপরিবহন ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রীকে কো-চেয়ারম্যান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালককে কমিটিতে সাচিবিক দায়িত্ব পালনের আদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মহাপরিকল্পনা তৈরি সংক্রান্ত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। ওই সভায় কমিটির কার্যপরিধি পর্যালোচনা, তথ্যচিত্র পর্যালোচনা, সমস্যা, সরকারের পরিকল্পনা ও সমাধানের সুপারিশ নিয়েও আলোচনা হয়। সভায় কয়েকটি সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছিল। সেসব সুপারিশে সারা বছর নদীগুলোতে ড্রেজিং ব্যবস্থা চালু ও ঢাকা ওয়াসার আউটলেটগুলোর সঙ্গে শতাধিক ডাইয়িং কারখানার চোরালাইন শনাক্ত এবং সেগুলো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, নিয়মিত পানির মান যাচাই, নদীর সীমানা নির্ধারণে জিআইএস প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নদীর অবৈধ দখলমুক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। নদী দূষণ সম্পর্কে সরকারি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে প্রতিদিনই ফেলা হচ্ছে নানা ধরনের বর্জ্য। এর ৬০ শতাংশই বিভিন্ন ধরনের শিল্পবর্জ্য। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী দূষণের জন্য দায়ী মূলত শিল্পবর্জ্য। নদী চারটিতে পড়া বর্জ্যরে ৪০ শতাংশ ট্যানারি শিল্পের, ২০ শতাংশ অন্য শিল্পের। মোট ৬০ শতাংশ বর্জ্যই শিল্প খাতের। এর বাইরে ১৫ শতাংশ কঠিন বর্জ্য, ১৫ শতাংশ অন্য ও ১০ শতাংশ নৌযান বর্জ্য। অন্য বর্জ্যরে মধ্যে রয়েছে হাসপাতাল, ইটভাটা, পলিথিন ও ডকইয়ার্ড ইত্যাদি। এরই মধ্যে ঢাকার ট্যানারি শিল্প সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে করে ট্যানারির বর্জ্য কমলেও অন্যান্য বর্জ্য বুড়ীগঙ্গায় এখনও পড়ছে। সরকারি প্রতিবেদনে দেখা যায়, বুড়িগঙ্গা নদীর খোলামুড়া থেকে মীরকাদিম পর্যন্ত নাব্য মাত্র ১২ ফুট। শীতলক্ষ্যার ডেমরা থেকে গোপচর পর্যন্ত ১২ ফুট আর ডেমরা থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত ৫ থেকে ৬ ফুট। বালু নদীর উত্তরখান থেকে ডেমরা ও টঙ্গী খালের উত্তরখান থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত নাব্য ৫ থেকে ৬ ফুট। আর তুরাগের আশুলিয়া থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত ৫ থেকে ৬ ফুট আর আমিনবাজার থেকে খোলামুড়া পর্যন্ত নাব্য ১২ ফুট।

আলোকিত প্রতিদিন/ ২৮ নভেম্বর ২৩/ এসবি

- Advertisement -
- Advertisement -