আজ রবিবার, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৮ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সেই হেড-লাবুশেনই লিখলেন বিশ্বজয়ের গল্প

আরো খবর

কে. এম. আজমাইন রাফিন:

এমনও হয় গল্পটা! এভাবেও গল্প লেখা যায়! কখনো কখনো গল্পের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে গল্পের পেছনের মানুষদের গল্পগুলোই। এক লক্ষ বত্রিশ হাজার ধারণ ক্ষমতার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের নীল সাগরে শ্মশানের নীরবতা নামিয়ে ট্রাভিস হেড আর মারনাস লাবুশেনের হলুদ রঙে শিরোপার ছবি আঁকার মোহনীয় গল্পটা আরেকটু মাহাত্ম্য পাচ্ছে গল্পের পেছনের গল্পের কারণে। এই হেড-লাবুশেনের তো বিশ্বকাপেই থাকার কথা ছিল না! বিশ্বকাপের মাত্র তিন সপ্তাহ আগের কথা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলছিলো অস্ট্রেলিয়া,চতুর্থ ওয়ানডেতে জেরাল্ড কোয়েটজির বলে বাঁ হাতে চোট পেয়েছিলেন ট্রাভিস হেড। স্বাভাবিক বিবেচনায় তাঁর বিশ্বকাপ-স্বপ্ন ওখানেই শেষ হওয়ার কথা, তবে অস্ট্রেলিয়া তাঁকে বাদ না দিয়ে আস্থা রেখেছিল তাঁর সামর্থ্যে। একজন জাত ‘ম্যাচ-উইনার’কে দলের সাথে রাখার জন্য বিশ্বকাপের প্রথমার্ধে তাঁকে না পাওয়ার ঝুঁকিটাও নিয়েছিল অজি টিম ম্যানেজমেন্ট। পরিবারের সাথে চার সপ্তাহ সময় কাটিয়ে দেরিতে দলের সাথে যুক্ত হওয়া হেডও সেই আস্থার প্রতিদান দিলেন দারুণভাবে। অ্যাডিলেইডে জন্ম নেওয়া এই ২৯ বছর বয়সী বাঁহাতি ওপেনার ফিরেই ঝড়ো সেঞ্চুরি করলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, এরপর সেমিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ফিফটি। তবে তাঁর সেরাটা বেরিয়ে এলো ফাইনালে, ২৪১ রানের লক্ষ্যমাত্রায় ৪৭ রানে তিন উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়াকে দেখালেন জয়ের পথ, নিজে খেললেন ১৩৭ রানের স্মরণীয় ইনিংস। সব কিছুর পরে, বিশ্বজয়ের মেডেল গলায় ঝুলিয়ে, জেরাল্ড কোয়েটজিকে একটা ধন্যবাদ হয়তো দিতেই চাইবেন ট্রাভিস হেড। শুধু কোয়েটজিই নয়, হেডের কাছ থেকে বাড়তি ধন্যবাদ পাবেন সতীর্থ মারনাস লাবুশেনও। ১৯২ রানের মহাকাব্যিক জুটিতে হেডকে দারুণভাবে সঙ্গটা তো তিনিই দিলেন! অথচ এই লাবুশেন ছিলেন না বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত প্রাথমিক স্কোয়াডেই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষের ঐ সিরিজের দলেও সুযোগ হতো না তাঁর, যদি না স্টিভ স্মিথ শেষ মুহূর্তে চোটে পড়তেন। তবুও একাদশে সুযোগটা আসেনি প্রথমে, সেটা এলো প্রথম ম্যাচে ব্লুমফন্টেইনে ক্যামেরন গ্রিনের মাথার চোটের কারণে। কনকাশন সাব হিসেবে নেমে ৮০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন লাবুশেন, পরের ম্যাচেই করেন ১২৪। এরপরই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে নাম লেখান তিনি, যদিও প্রথম একাদশে সুযোগের নিশ্চয়তা ছিল না। তবে কখনো মার্কাস স্টয়নিস, কখনো ক্যামেরন গ্রিনের চোটের জন্য ঠিকই একাদশে নাম লিখিয়ে ফেলেন লাবুশেন, আর ওয়ার্নার-হেড-মার্শ-ম্যাক্সওয়েলদের মতো মারকাটারি ব্যাটসম্যানদের ভিড়ে লাবুশেনের এক প্রান্ত আগলে রাখার দক্ষতাকেও গুরুত্ব দিয়েছিলো টিম ম্যানেজমেন্ট, লাবুশেনও জবাব দিয়েছিলেন দুটো ফিফটি আর দুটো চল্লিশার্ধ্ব ইনিংস খেলে। তবে তাঁর এই দক্ষতাটা সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগলো ফাইনালে। ফাইনালে পথ হারানো অস্ট্রেলিয়াকে কক্ষপথে ফিরিয়েছেন লাবুশেন, তাঁর ১১০ বলে ৫৮ রানের অপরাজিত ধীরগতির কিন্তু কার্যকর ইনিংস দিয়েই। সাথে টুর্নামেন্ট জুড়ে ফিল্ডিংটাও করেছেন চমৎকার। প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের রানআউট করার পরিসংখ্যানে তাঁর সমকক্ষ (৩) নেই কেউই। আর তাতেই নিশ্চিত হলো, বিশ্বকাপের আগে যাদের অনিশ্চিত ছিল ভারতগামী বিমানে উঠতে পারাটাই, তাঁদের দিয়েই ভারতের মাটিতে বিশ্বজয়ের গল্প লিখলো অস্ট্রেলিয়া!

আলোকিত প্রতিদিন/ ২০ নভেম্বর ২৩/মওম

- Advertisement -
- Advertisement -