আজ রবিবার, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ২৯ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বগুড়ায় বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে আসামীকে অব্যাহতি-গ্রেফতার ৫

আরো খবর

মাজেদুর রহমান, বগুড়া

বগুড়ায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে একটি মাদক মামলার কার্য্যক্রম স্থগিত করে এবং আসামীদেরকে অব্যাহতি দেয়ার আদেশ তৈরির অভিযোগে আদালতের ৩ কর্মচারীসহ ৫জনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ১৬ই অক্টোবর ২০২৩, সোমবার বগুড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাকছুদুর রহমান বাদী হয়ে গ্রেফতার ওই ৫জনসহ মোট ৯জনের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) তনয় কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশে সোপর্দ করা ব্যক্তিরা হলেন বগুড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুজ্জামান,একই আদালতের জারীকারক এমএ মাসুদ, ওমেদার হারুন অর রশিদ সাজন, বগুড়া জেলা জজ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বেঞ্চ সহকারী আব্দুল মান্নান ও বগুড়া শহরতলির গোদার পাড়ার মোক্তার হোসেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ই মে বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা জিআর ৭৯০/২০২০ (সদর) মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ছিল। ওই মামলায় মোট ৫জন আসামীর মধ্যে প্রধান আসামি আয়েশা আক্তার শিমু জামিন নিয়ে পলাতক ছিলেন। অপর ৪আসামী আদালতে হাজির হয়ে সময়ের প্রার্থনা করে। মামলার সাক্ষীরা ওই দিন আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক সময় আবেদন মঞ্জুর করেন। তারপর থেকে ওই মামলার নথি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ইতিমধ্যে বেঞ্চ সহকারী কামরুজ্জামান অন্য আদালতে বদলী হন। গত ১৪ই অক্টোবর বর্তমান বেঞ্চ সহকারী ফজলুর রশিদ মামলার নথিটি খুঁজে পেয়ে দেখতে পান মামলা শুনানীর পর বিচারকের অজ্ঞাতে গত ১৪ই মে মাদক মামলার আসামী আবু সাহেদের পক্ষে মামলার কার্য্যক্রম স্থগিতের আবেদন নথিতে সংযুক্ত করে তা মঞ্জুর করে ওই মামলা থেকে সকল আসামীকে অব্যাহতি দেয়ার আদেশ লেখা আছে।   উক্ত নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জালিয়াতি করে আদেশটি তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও বিচারক মির্জা শায়লার স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে। আদেশটি আদালতের জারীকারক এমএ মাসুদের হাতে লেখা। পরে বেঞ্চ সহকারী কামরুজ্জামান ও জারীকারক এমএ মাসুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানায়, বগুড়া জেলা জজ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বেঞ্চ সহকারী আব্দুল মান্নান জিআর ৭৯০/২০২০ মাদক মামলার আসামী আবু সাহেদের বাবা। তার (মান্নান) অনুরোধে এবং আর্থিক ভাবে লাভবান হয়ে আদালতের ওমেদার হারুন অর রশিদ সাজন’র সহযোগিতায় আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে আসামীদের মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ তৈরি করে। উক্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তনয় জানায়, মামলাটি দায়েরের পর ৫জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্য আসামীদের গ্রেফতারের অভিযান চলমান আছে মর্মে জানা যায়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -