আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৭ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জেল সুপারের দক্ষ নেতৃত্বে কক্সবাজার জেলা কারাগারের বন্দী সেবায় এসেছে আমূল পরিবর্তন

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কারা কর্তৃপক্ষের দক্ষ ও চৌকস নেতৃত্বে কক্সবাজার জেলা কারাগারে বিগত এক বছরে ইতিবাচক আমূল পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান জেল সুপার মোঃ শাহ আলম খানের যোগ্য নেতৃত্বে কক্সবাজার জেলা কারাগার অনন্য  দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।কারাগারে বন্দীদের খাবারের গুণগতমানে এসেছে পরিবর্তন। বন্দীরা মানসম্মত খাবার পেয়ে খুশি। কারাগারে বন্দি থাকার জন্য ওয়ার্ড বন্টন, বন্দিদের  আবাসন, চিকিৎসাসহ সার্বিকভাবে বন্দি সেবায় পরিস্থিতি বিগত এক বছর যাবত একটি সন্তোষজন জনক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে,যা বিভিন্ন সময় কারামুক্ত বন্দীসহ অন্যান্য সূত্রে জানা যায়। কক্সবাজারের সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও এর সাধুবাদ পাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। কক্সবাজার জেলা কারাগারের প্রধান ফটকে দেখা মিলে কক্সবাজারের পেকুয়া  উপজেলার পালাকাটা এলাকার মৃত উকিল আহমেদের পুত্র আব্দুল হকের সাথে।  তিনি মারামারি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাগারে হাজতি হিসেবে ছিলেন টানা ১২  দিন। গত মঙ্গলবার আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে বের হন তিনি। ১২ দিনের কারাগার জীবন কেমন কেটেছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘খুব ভালো কেটেছে।’কারাগার জীবন কেমন আবার ভালো-এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘প্রচলিত অর্থে কারাগার সম্পর্কে যে নেতিবাচক তথ্য আমি জানতাম,তার সাথে কারাগারের বর্তমান পরিস্থিতির কোন মিল পাইনি। বিস্তারিত জানাতে বললে আব্দুল হক জানান,  কারাগারে একটি শৃঙ্খলিত এবং রুটিন মাফিক জীবন কাটিয়েছেন তিনি। মানসম্পন্ন খাবার, সপ্তাহের একদিন ৮ থেকে ১০ মিনিট মোবাইল ফোনে মিনিটপ্রতি ১ টাকা করে পরিশোধ করে পরিবারের স্বজনদের সাথে আলাপ,  স্বজনরা কারাগারে এসে সাক্ষাৎ, স্বজনদের দেয়া পিসিতে জমা টাকা কার্ড প্রদর্শন করে কারা অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়। সবমিলিয়ে বর্তমানে কারাগারের পরিবেশ ভালোই লেগেছে। একই সময় কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বের হন টেকনাফের জালিয়াপাড়া  এলাকার মৃত আলমগীরের  পুত্র  শওকত আলমের সাথে।  তিনি ডাকাতি প্রস্তুতি মামলায় টানা২০ দিন  বন্দি থাকার পর বৃহস্পতিবার বের হয়েছেন । তিনিও আব্দুল হকের সাথে একমত। তিনি  বলেন, কারাগারে বন্দির থাকার জন্য ওয়ার্ড বণ্টন, চিকিৎসা ও সার্বিক কারা ব্যবস্থায়  আগের পরিস্থিতির উন্নয়ন হয়েছে। কারাগারের অভ্যন্তরে বড় এলইডি পর্দায় শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান প্রচারণাসহ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান প্রচারণার ফলে বন্দিরা  মানসিক স্বস্তিতে আছে । আগে কারা অভ্যন্তরের ক্যান্টিনে মূল্য তালিকা ছিল না, এখন সেই মূল্য তালিকা অনুসারে মালামাল ক্রয়  করতে পারেন। আইনজীবীদের সহায়তায় আদালত  এলাকায় কথা হয়েছে সদ্য কারা মুক্ত আরো কয়েকজনের সাথে। তাদের একজন পেকুয়ার জারুলবনিয়া পানারছড়া এলাকার মোঃ ইসমাইলের  ছেলে মোঃ মুজিবের সাথে। তিনি মারামারি মামলায় ১ মাস ১৫ দিন   কারাগারে ছিলেন। জামিন মিলেছে গত সোমবার। প্রথম কারাগারে থাকা। তিনিও কারাগার নিয়ে যা প্রশ্ন করা হলে বললেন পরিস্থিতি ভালো। একইভাবে কথা হয়েছে চকরিয়া উপজেলার পানখালী  মৃত আনোয়ার হোসেনের পুত্র নুরুল আলম বাদশার সাথে । তিনি মারামারি  মামলায় ১ মাস ১০ দিন  হাজতবাস করেন। তার মতে বর্তমান কারাগারের পরিস্থিতি ভালোর দিকে। কারাবন্দীরা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে বেশ ভালো আছেন। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার দেখা হয়  কারাগারের গেটে থাকা কক্সবাজার সদর উপজেলার বৈদ্যঘোনা এলাকার নুরুল ইসলাম কসাইয়ের পুত্র জাহেদ।তিনি ডাকাতি প্রস্তুতি মামলায় ১ মাস ১২ দিন কারাগারে ছিলেন। একইভাবে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের আবুল হোছাইনের পুত্র আঃ ছালামের সাথে । তিনি মারামারি মামলায় ১ মাস কারাভোগ করেছিলেন। রামু উপজেলার মনিরঝিল এলাকার আঃ খালেকের পুত্র রহমত উল্লাহর সাথে একইভাবে কারামুক্ত হয়ে দেখা হয়। তিনি নারী নির্যাতন মামলায় প্রায় ৪ মাস কারাগারে ছিলেন। অনেক জনের সাথে আলাপ হয়েছে প্রতিবেদকের।সদ্য কারামুক্ত এসব আসামিদের সাথে কথা বলে একটা বিষয় স্পষ্ট প্রতীয়মান বর্তমান কারাগারের পরিবেশ, কক্সবাজার জেলা কারাগারের ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।  বন্দি সাক্ষাৎ, বন্দিদের খাবারের মান,উন্নত খাবার পরিবেশন,  স্বজনদের সাথে মোবাইলে কথা বলা, বন্দিদের জামিন, চিকিৎসা, বিনোদন সব মিলিয়েই এই ইতিবাচক পরিবর্তন। সূত্র জানায়, কারাভ্যন্তরে  নগদ টাকা একে বারে বন্ধ রয়েছে। কোনো স্বজন পিসিতে টাকা দিলে রশিদ মূলে যে টাকা জমা হওয়ার পর বন্দির হাতে পৌঁছে যায় পিসি কার্ড। যে কার্ডটি ব্যবহার করে কারা ক্যান্টিনে প্রদর্শিত মূল্য তালিকা দেখে পছন্দ মতো মালামাল ক্রয় করতে পারে। কারা কর্তৃপক্ষের প্রাপ্ত তথ্য মতে,বর্তমানে ধারণ ক্ষমতার ৪ গুণ কাছাকাছি বন্দি রয়েছে। ১২ দশমিক ৮৬ একর আয়তনের এ কারাগারে ধারণ ক্ষমতা ৯০০ জন হলেও বর্তমানে বন্দির সংখ্য ৩ হাজার ২৭০ জন। ২০০১ সালে উদ্বোধন হওয়া কক্সবাজার জেলা কারাগারে ৮৬৬ জন পুরুষ এবং ৩৪ জন নারী বন্দি থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে এ কারাগারে বন্দি রয়েছে নারী রয়েছে ১৫৫ জন, শিশু রয়েছে ৩২ জন আর পুরুষ বন্দির সংখ্যা ৩ হাজার ৮৩ জন।যেখানে ৬ শতাধিক রোহিঙ্গা রয়েছে। কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল  সুপার মো. শাহ আলম খান জানিয়েছেন, ধারণ ক্ষমতার ৪ গুন বেশি বন্দি এবং অপ্রতুল জনবল নিয়েও সবার সহযোগিতায় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টায়  কারাগারের শৃঙ্খলা ফেরাতে সক্ষম  হয়েছি। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিআরসির সহযোগিতায় শিশুদের জন্য বিনোদনের কক্ষ, বিনোদন সামগ্রী পাওয়া গেছে। এছাড়া এসব শিশুদের লেখা পড়া, ২ বেলা দুধসহ পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এর বাইরে সুপেয় পানির জন্য একই সংস্থার অধিনে কারা অভ্যন্তরে প্রকল্পের কাজও চলছে। তিনি আরো বলেন, কারাগারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সজাগ ও সতর্ক থেকে সবকিছু বাস্তবায়ন করা হচ্ছে,  যেহেতু কারাগার স্পর্শকাতর ডিপার্টমেন্ট। কারারক্ষীদের  মোটিভেটেড করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কারা বন্দিদের সেবায় নিয়োজিত রেখে সঠিক দায়িত্ব পালনে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মডেল কারাগার রুপান্তরে আমরা বদ্ধপরিকর। নিয়মিতভাবে কারাগার পরিদর্শন, বন্দিদের ও বন্দী  দর্শনার্থীদের সাথে সাথে আলাপ করে যেকোনো সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি আরো  বলেন, আমি নিজেই নিয়মিত খাবারের মান, পরিমাণ, কোয়ালিটি  তদারকি করি।এমনকি  প্রতিদিনের খাবারের যথাযথ মান নিশ্চিত করে বন্দিদের সরবরাহের ব্যবস্থা করি। মোবাইল ফোনে আলাপ, সাক্ষাৎ স্বচ্ছতার সাথে করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জামিনে খালাসে মুক্তি প্রদানের যে কোনো হয়রানি রোধে প্রতিদিন জামিনপ্রাপ্ত বন্দিদের নাম কারা ফটকের সামনে এলইডি ডিসপ্লের মাধ্যমে তা প্রকাশ করা হয়।যাতে কারামুক্ত ব্যক্তি অথবা স্বজন হয়রানি থেকে রক্ষা পায়।ফলে জামিন নিয়ে এক শ্রেণির প্রতারক চক্রের অপতৎপরতা বন্ধ হয়ে গেছে। যারা সাক্ষাতের জন্য কারাগারে আসেন তাদের বিনোদনের জন্য গেইটের পাশে দর্শনার্থী বিশ্রামাগারে বড় টেলিভিশন ও ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি এ প্রতিবেদককে আরো বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বন্দিদের সব কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে আমরা  আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু কারাগার সম্পর্কে অনেক সময় উদ্দেশ্যমূলকভাবে  বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হয় যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
আলোকিত প্রতিদিন/০৯ সেপ্টেম্বর ২৩/মওম
- Advertisement -
- Advertisement -