আজ সোমবার, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ।   ১৭ জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

‘খুলনা বিভাগের মানুষ বেশি সাপের কামড়ের শিকার’

-Advertisement-

আরো খবর

- Advertisement -
- Advertisement -

আলোকিত ডেস্ক:

 

খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বেশি মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। এই বিভাগে প্রতি এক লাখে ৬১৬ জন মানুষকে সাপে কামড়ায়। গত জুন মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত বাংলাদেশে সাপে কামড়ানোর তথ্য তুলে ধরে মঙ্গলবার খুলনায় অবস্থিত সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের কার্যালয়ে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। বনকর্মীদের নিয়ে সর্পদংশন, প্রতিকার ও চিকিৎসা বিষয়ক ওই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণে বলা হয়, বাংলাদেশে সাধারণত গোখরা, কেউটে, রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) ও সবুজবোড়া এই চার বিষধর সাপের কামড়ে মানুষ বেশি মারা যায়। এর মধ্যে গোখরা সাধারণত সকালে ও বিকেলে, কেউটে রাতে, রাসেল ভাইপার দিনে ও রাতে এবং সবুজবোড়া দিনে কামড়ায়। গোখরা ও রাসেল ভাইপার সাপের কামড়ে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ক্ষতস্থান ফুলে যায়, অন্য দুটি সাপের তা হয় না। রাসেল ভাইপারের বিষ ফুসফুস, কিডনি নষ্ট করে দেওয়ার মতো বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করে। এ ছাড়া দেশে প্রতি বছর আড়াই হাজার গরু ও ৫৫ হাজারের মত হাঁস-মুরগি সাপের কামড়ে মারা যায়। প্রশিক্ষণে সাপে কামড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে কী করা উচিৎ সে ব্যাপারে পরামর্শ দেন বণ্যপ্রাণী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মো. আবু সাইদ। তিনি বণ্যপ্রাণী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘অশোকা ফেলোশিপ’ ডিগ্রি অর্জন করেছেন।তিনি বলেন, ‘সাপে কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকতে হবে। যে জায়গা কামড়েছে সেই জায়গাটি খুব বেশি নড়াচড়া করানো যাবে না। সাপে কামড়ানোর পর প্রথম ১০০ মিনিট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওই সময়ের মধ্যে সঠিক চিকিৎসা দেয়া গেলে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠতে পারেন।’ আবু সাইদ বলেন, ‘সারা বিশ্বে ৩ হাজার ৫০০ বেশি প্রজাতির সাপ রয়েছে। বাংলাদেশে রয়েছে ১১৭ প্রজাতির সাপ। এর মধ্যে ৩৪ প্রজাতির সাপ বিষধর, বাকিরা অবিষধর। বিষধর সাপের মধ্যে ১৬ প্রজাতির সাপ সামুদ্রিক। সাপ যে কোনো জায়গায় কামড়ায়, তবে ৭৮ শতাংশ সাপ কামড় দেয় পায়ে। ‘প্রতি ১০০টি সর্পদংশনের মধ্যে ৮০টিই অবিষধর সাপের দংশন। আর বিষধর সাপের কামড়ের মধ্যে ৫০ শতাংশই বিষ প্রয়োগ করতে পারে না। সব মিলিয়ে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৯০ জনেরই কোনো বিষক্রিয়াই হয় না, ফলে তাদের কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাপে কামড়ানোর পর ৬১ শতাংশ মানুষ যান ওঝার কাছে। আর ৩৫ শতাংশ মানুষ যান হাসপাতালে। যারা আগে ওঝার কাছে যান তাদের মধ্যে মারা যাওয়ার হার বেশি। সাপে কামড়ানোর পর প্রথম ১০০ মিনিট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ওই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা দেয়া গেলে রোগী বাঁচার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।’ কোনো মানুষকে সাপে কামড়ালে কী করা উচিৎ সে বিষয়ে আবু সাইদ বলেন, ‘কাউকে সাপে কামড়ালে সবার আগে তাকে আশ্বস্ত করতে হবে, শান্ত থাকতে বলতে হবে। তাকে দিয়ে দৌড়াদৌড়ি করা যাবে না। এতে বিষ দ্রুত ফুসফুসে চলে যেতে পারে। বিষধর সাপে কামড়ানো রোগীর শরীর ধীরে ধীরে নিস্তেজ হতে থাকে। এ কারণে তাকে ঘুমাতে দেয়া যাবে না। ক্ষতস্থানের ওপরে দঁড়ি দিয়ে বাঁধলেও কোনো কাজে আসে না বরং তা সেখানকার রক্ত সঞ্চালন বন্ধ করে দিয়ে ওই অঙ্গটি অকেজো করে দিতে পারে। ‘সাপে কামড়ানো ব্যক্তিকে ওঝার কাছে না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। যদি সাপটির মারা হয়ে থাকে বা ছবি তোলা যায় তাহলে তা চিকিৎসকদের দেখাতে হবে ও সবকিছু খুলে বলতে হবে।’ প্রশিক্ষণে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন বর্মকর্তা আবু নাসের মোহসিন হোসেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মধ্যে খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি মানুষকে সাপে কামড়ায় ও মারা যায়। সুন্দরবন ও সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় সাপের উপদ্রব বেশি, এ কারণে সাপ নিয়ে ওই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।’প্রশিক্ষণে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী বন সংরক্ষক (সদর) এম এ হাসান, এজেএম হাসানুর রহমান (খুলনা রেঞ্জ) ও ইকবাল হোসেন (সাতক্ষীরা রেঞ্জ)।

 

- Advertisement -

আলোকিত প্রতিদিন/ ২৩ আগস্ট ২৩/এসবি

- Advertisement -
- Advertisement -