আজ বুধবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ।   ২২ মে ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সুরক্ষিত লেনদেন: আইন যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে

-Advertisement-

আরো খবর

- Advertisement -
- Advertisement -

সম্পাদকীয়:

জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের আগে সুরক্ষিত লেনদেন (অস্থাবর সম্পত্তি) আইন-২০২৩ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ আইনের বিশেষত্ব হলো, এতে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ১৬ ধরনের অস্থাবর সম্পদকে গ্রহণযোগ্য জামানত হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ঋণখেলাপিদের বিষয়ে কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। যেমন, কেউ ঋণখেলাপি হলে তার জামানতের ‘অস্থাবর সম্পত্তি’ বাজেয়াপ্ত হবে। এছাড়া অস্থাবর সম্পত্তি পুনর্দখলও নেওয়া যাবে। খেলাপির হিসাব নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ও দখলে থাকা জামানত হেফাজত ও সংরক্ষণ করবে ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান। উল্লেখ্য, বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণের জামানত হিসাবে শুধু স্থাবর সম্পত্তিকে গণ্য করা হয়।অস্থাবর সম্পত্তির বিপরীতে ঋণ দেওয়ার বিধান চালু হলে ব্যাংক ঋণের পরিধি বাড়বে। সেক্ষেত্রে আইনটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনিতেই খেলাপি ঋণ সংস্কৃতি দেশের অর্থনীতির জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ওপর নতুন আইনটির যথাযথ বাস্তবায়ন না হলে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরা যদি এর অপব্যবহার করে, তাহলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তাই আইনে অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানার বিষয়ে সব ধরনের অস্পষ্টতা দূর করতে হবে। অস্থাবর সম্পত্তির বিপরীতে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকের বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা লক্ষ করে আসছি, দেশের ব্যাংক খাত খেলাপি ঋণের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না। এর প্রভাব যে শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ওপর পড়ছে তা নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের শিল্প খাতও। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া। দুর্ভাগ্যজনক, ব্যাংক খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে মিথ্যা তথ্য ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা অব্যাহত আছে। কিছু অসৎ ব্যাংক কর্মকর্তা এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে বর্জনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সুরক্ষিত লেনদেন (অস্থাবর সম্পত্তি) আইন-২০২৩ সংসদে গৃহীত হওয়ার পর সরকার এর যথাযথ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেবে, এটাই কাম্য।

 

- Advertisement -
- Advertisement -