আজ শুক্রবার, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৩ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নরসিংদীর জোড়া খুনের আসামী হলেন খোকন

আরো খবর

প্রতিনিধি,নরসিংদী:  
খায়রুল কবির খোকন ডাকসুর সফল জি এস ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের জাতীয় বীর নরসিংদী জেলা ১ আসনের সাবেক সফল এমপি। জনমনে একটাই প্রশ্ন খোকন কেন জোড়া খুনের আসামী। নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি থাকা কালীন সময়ে খায়রুল কবীর খোকন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব পদ লাভ করেন। এর পর দলের সিনিয়র নেতাদের ধারণা ছিল তিনি জেলা বিএনপির পদটি ছেড়ে দিবেন। কিন্তু তা না করে দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফাজ্জল হোসেন মাষ্টার, সিনিয়র সহ সভাপতি সুলতান উদ্দিন মোল্লা এবং সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে রীতিমত মাইনাস করে তিনি জেলা বিএনপির আহবায়ক ও মনজুর এলাহীকে সদস্য সচিব করে কমিটি নিয়ে আসেন। রাজনীতিবিদদের ধারণা এটাই খোকনের কাল হয়েছে। এরপর রাগে অভিমানে তোফাজ্জল হোসেন মাষ্টার দেশ ছেড়ে আমেরিকায় চলে যান। সুলতান উদ্দিন মোল্লা মিছিল মিটিং এ আসা বন্ধ করে দেন। সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলও মিছিলে না আসার মতই। এতে অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েন খোকন। এই সুযোগে সদস্য সচিব মঞ্জুর এলাহী রাজনীতিতে অনেকটা চাঙ্গা হয়ে উঠেন।
গেলো বছর শিবপুর থেকে নির্বাচন করলেও নরসিংদী সদর থেকে নির্বাচন করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন এলাহী। এরইমধ্যে জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা হয়। এলাহী সমর্থিত মাইন উদ্দিন ছিলেন সভাপতি প্রার্থী। তাকে দেয়া হয় সিনিয়র সহ সভাপতি। এরপর থেকেই এই মাইন উদ্দিনকে দিয়ে খায়রুল কবীর খোকনের বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর এবং অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটায়। এঘটনার পর দলীয় নেতাকর্মীরা মনজুর এলাহীকে দোষারপ করলেও তিনি তা অস্বীকার করেন। তারপরও ৫ বার খোকনের চিনিশপুরের বাড়িতে ও আদালত প্রাঙ্গনে খোকনের সমর্থকদের উপর বর্বর হামলা হয়। শুধু তাই নয়, জানাজার নামাজে যাওয়ার পথে ইটখোলায় খোকেনের গাড়ী বহরেও হামলা চালিয়ে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। খোকন তার লাইসেন্স করা অস্ত্র দিয়ে ফাঁকা গুলি করে প্রাণে বেঁচে যান সেদিন। তাদের দাবি একটাই খোকনকে নরসিংদীতে দাঁড়াতে দিবে না। সাদেক মারা যাওয়ার দিন তার ফেসবুকেও এমন ইঙ্গিত দিয়ে যান। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এত সবের পরও পুলিশ নীরব থেকেছে। বিএনপির কোন নেতাকর্মী যখন ঘর থেকে বের হতে পারে না, ঠিক তখনও মাইন উদ্দিন জেলা শহরে মিছিল নিয়ে কি করে খোকনের বাড়িতে হামলা চালায় তা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আর এই মিছিল মিটিং গোলাগোলির ঘটনা ঘটিয়ে মানুষ খুনের অপরাধে ডাকসুর সাবেক জিএসকে জোড়া খুনের মামলার আসামী হতে হলো। দলীয় নেতাকর্মীদের মন্তব্য বিএনপির সিনিয়র নেতারা কেউ মন প্রাণ খুলে কথা বলতে চান না। জেলা বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা হয়। মানববন্ধন কর্মসূচি নিয়েও অনেকে মন্তব্য করেছেন। প্রত্যক্ষ দর্শিরা বলেছেন যে মানববন্ধনের কর্মসূচি পুরা পালন করেছে নাকি আওয়ামী সমর্থিত লোকেরা।
আলোকিত প্রতিদিন/ ৩০ মে -২০২৩/মওম
- Advertisement -
- Advertisement -