প্রতিনিধি,লালমনিরহাট:
উত্তরবঙ্গের রংপুর দিনাজপুরসহ ৫টি জেলার প্রায় ৫ লক্ষ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদানের জন্য ১৯৭৯ সালে “তিস্তা সেচ প্রকল্পের” কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হয় ১৯৯০ সালে। তিস্তা ব্যারেজ ও খালের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গ সেচ সুবিধা পাচ্ছিল ঠিকই কিন্তু তিস্তার ৬০ কিলোমিটার উজানে ১৯৯৮ সালে ভারতের গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণের কারণে শুষ্ক মৌসুমে “তিস্তা সেচ প্রকল্পে” পানির পরিমাণ কমতে থাকে। ১০ হাজার কিউসেক ক্ষমতা সম্পন্ন তিস্তা সেচ খালে শুষ্ক মৌসুমে ৫০০ কিউসেক পানিও থাকে না। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য চীনা অর্থায়নে তিস্তার পানি ব্যবস্থাপনাকে একটি বহুমুখী প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করে সেচ সুবিধাসহ আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হলো এ মহাপরিকল্পনা। যেখানে নদী শাসনের মাধ্যমে তিস্তাকে গভীর জলাধারে পরিণত করা হবে যাতে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা সেচ খালের মাধ্যমে সেচযোগ্য সব জমি পর্যাপ্ত পানি পায়। আবার দু’পাড়ে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভয়ঙ্কর বন্যা থেকে দু’পাশের প্রায় ২ কোটি মানুষ রক্ষা পায় আর শিল্পাঞ্চল, নৌ-চলাচল, বন্দর কার্যক্রম ইত্যাদির মাধ্যমে “মঙ্গা পীড়িত” এ অঞ্চলের মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়।
এ মহাপরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ:
উজানের ৫৪টি (বাস্তবে উজান থেকে আগত আরো ৫৮টি ছোট ছোট নদী/খাল গুলোকে হিসেব করলে তা মোট ১১২টি) নদীর মধ্যে তিস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গাচুক্তি হলেও স্বাধীনতার ৫১ বছরেও “তিস্তা চুক্তি” আলোর মুখ দেখেনি। শুধু ভারতীয় আশ্বাসের বাণী শুনতে হয়েছে প্রতিনিয়ত। অন্যদিকে তিস্তা দিয়ে যে সামান্য পানি আসতো তা পশ্চিমবঙ্গের অন্য অঞ্চলে প্রবাহিত করার জন্য সংযোগ খাল খননের খবর আসছে। আর কত অপেক্ষা ? উজানের পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় আমাদের জীবন্তসত্বা নদী গুলো সরু হয়ে ধুকে ধুকে শুকিয়ে মরতে বসেছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশংকাজনক ভাবে নীচে নেমে গেছে এ বরেন্দ্র অঞ্চলে। ১৯৯৫ সালে পানির স্তর ছিল ১২ মিটারের নীচে তা ২০১০ সালে ২২:৭৫ মিটার নীচে নেমে যায়। বর্তমানে তা ৩৫-৪০ মিটার নীচে নেমে গেছে এর কারণ প্রায় ৮ হাজার গভীর নলকূপ এবং অন্যান্য প্রায় ৬০ হাজার পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন। উজানের পানি প্রবাহমান থাকলে এ নলকূপের প্রয়োজন তেমন ছিল না আর ভূগর্ভে পানির স্তর এত নীচে নামতো না। এখন শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানি উত্তরবঙ্গ পাবে কোথায় ? মাটির নীচের পানির উৎসতো শেষ হওয়ার পথে। তিস্তায় পানি নেই। তিস্তা চুক্তি কবে হবে তার জন্য তো বসে থাকা চলবে না। তাই বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে আগত পানি এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে হবে, সে জন্য সব রকম প্রচেষ্টা চালাতে হবে। ঠিক এ কারণে তিস্তা পরিকল্পনা অতিব জরুরী। পাশাপাশি নতুন নতুন গভীর দীঘি-জলাশয় সৃষ্টি এবং বিদ্যমান দীঘি ও জলাশয় গুলোকে সংস্কার করাও অত্যন্ত জরুরী। এতে শুধু জীবন জীবিকা আর কৃষির উপকার হবে না,ভূগর্ভস্থ স্তরের শুণ্যতাও পূরণ হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/ ২৭ মে -২০২৩/মওম
- Advertisement -

