আজ মঙ্গলবার, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৭ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিরুলিয়ায় সম্পত্তির লোভে আপন বোনকে হত্যা

আরো খবর

শহিদুল্লাহ সরকার: 
সাভারের বিরুলিয়া বাগ্নীবাড়ি ফকির পাড়া প্রতিবন্ধী হনুফা আক্তার হত্যার ঘটনা শার্টের বোতামের সূত্র ধরে চাঞ্চল্যকর প্রতিবন্ধী হনুফা আক্তার কে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সেইসাথে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা নিহতের সহোদর ভাই মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করেছেন সাভার মডেল থানা পুলিশ।
গত ১২ এপ্রিল রাত অনুমান ০৭.০০ ঘটিকার সময় জনৈক হনুফা আক্তার হত্যার ঘটনায় তাহার স্বামী হারুন অর রশিদ তুষার বাদী হয়ে সাভার মডেল থানার একটি হত্যা মামলা করেন যাহার নং-৪৪, তাং-১৩/০৪/২০২৩, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন। উক্ত মামলার তদন্তভার এসআই (নিঃ) দিদার হোসাইন এর উপর অর্পন করা হয়। অতঃপর ঢাকা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম, অপস্ এন্ড ট্রাফিক (উত্তর), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) এবং অফিসার ইনচার্জ এর তত্ত্বাবধানে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিরদশর্ক (তদন্ত) আব্দুর রাশিদ এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ দিদার হোসাইন সঙ্গীয় আরো অফিসার-ফোর্সসহ ঘটনার মূল রহস্য উন্মেচন করার জন্য মাঠে নামে। মামলায় ডিসিস্ট হনুফা আক্তার এর স্বামী জানান যে, তিনি গত ইং-১২/০৪/২০২৩ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৭.০০ ঘটিকার সময় তাহার স্ত্রী হনুফা আক্তারকে সুস্থ্য অবস্থায় রেখে পাশ্ববর্তী মসজিদে তারাবির নামাজ পড়তে যান। নামাজ শেষে একই তারিখ রাত অনুমান ০৯.৩০ ঘটিকার সময় তাহার নিজ বসতঘরে আসিয়া দেখে তাহার স্ত্রী খাটের উপর মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। তাহার স্ত্রীর বাম গালের এবং থুতনির নিচে নখের একাধিক আচড় ছিল। এছাড়াও মুখ দিয়ে রক্তমিশ্রিত লালা বের হচ্ছিল। খাটের উপর একটি বালিশ রক্তমাখা অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে তদন্তকারী টিম তল্লাশী করাকালে ঘরের মেঝেতে একটি শার্টের বোতাম এবং একটি হ্যান্ড গ্লাভস এর বৃদ্ধাংগুলির অংশ বিশেষ পান । উক্ত বোতামটির ডিসিস্টের স্বামী পরিহিত শার্টের বোতামের সাথে মিল ছিল না। বিভিন্ন কৌশলে তদন্তের একপর্যায়ে দেখা যায় মৃতার সহোদর ভাই মোহাম্মদ আলীর পরিহিত শার্টের একটি বোতাম ছেড়া এবং ঘটনাস্থলে প্রাপ্ত বোতামের সঙ্গে মোহাম্মাদ আলীর পরিহিত শার্টের অন্যান্য বোতামের সাথে হুবহু মিলে আছে। মোহাম্মাদ আলীর শরীর পর্যবেক্ষন করে দেখা যায় তাহার ডান কানের নিচে এবং নাকে হালকা নখের আচড় রহিয়াছে। মোহাম্মাদ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাহার বোন হনুফা আক্তার এর হত্যার ঘটনায় সে নিজেই জড়িত মর্মে স্বীকার করে। আসামী জানায় যে, অনুমান ১২ বছর পূর্বে মোহাম্মদ আলী তাহার পিতা জীবিত থাকা অবস্থায় তাহার সমস্ত সম্পত্তি (অনুমান ২০ বিঘা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিস্টি করিয়া নেয়। পরবর্তীতে তাহার পিতা কটু ফকির বিজ্ঞ আদালতে দেওয়ানী মামলা দায়ের করিয়া উল্লেখিত জমি রায়ের মাধ্যমে ফেরত পান। অতঃপর কটু ফকির তাহার অনুমান ২০ বিঘা সম্পত্তি ডিসিস্ট হনুফাকে ওসিয়ত দলিল করে দেন। এরপর হতে ধৃত আসামী মোহাম্মদ আলী ডিসিস্টকে অর্ধেক সম্পত্তি ফেরত দেওয়া জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছে। এ বিষয়কে কেন্দ্র করিয়া দীর্ঘ দিন ধরিয়া ভাই বোনের মধ্য ঝগড়া বিবাধ এবং বিরোধ চলিয়া আসিতেছিল। ধৃত আসামী তাহার বোনের নিকট সম্পত্তি ফেরত না পেয়ে তাহাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ইং-১২ এপ্রিল তারিখ রাত অনুমান ৭/৮ ঘটিকার সময় ডিসিস্ট এর স্বামী মোঃ হারুন অর রশিদ তুষার তারাবির নামাজ পড়তে গেলে সেই সুযোগে আসামী মোহাম্মদ আলী ডিসিস্টকে তাহার ঘরে একা পেয়ে ধস্তাধস্তি করিয়া খাটের উপর ফেলাইয়ে ডান হাতে গ্লাভস পড়িয়া বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করিয়া হত্যা করে।
আলোকিত প্রতিদিন/ ১৫এপ্রিল-২০২৩/মওম
- Advertisement -
- Advertisement -