আজ মঙ্গলবার, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৭ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

 মানুষের ভালোবাসায় পোষ মানে সাপ 

আরো খবর

প্রতিনিধি,শরীয়তপুর:
শরীয়তপুরবাসীর বৈশাখ বরণ অনুষ্ঠানের মূল আনন্দ গত বছর থেকে সাপ খেলায়। পদ্মা পাড়ের মানুষের ঘর বাড়ি, বন জঙ্গলে নানান জাতের সাপের বাস। সাপের সাথে দুঃখ কষ্টের স্মৃতি স্মরণ করতেই বাঙালির বৈশাখ বরণ অনুষ্ঠানে সাপ খেলার আয়োজন করেছে কর্তৃপক্ষ। বৈশাখের নাচ, গানের আয়োজন ফেলে সাপ খেলা দেখতে স্থানীয়রা ভীর করেছে । খেলা দেখার সময় সবাই ভয় পেলেও শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলাম ঋতু সাপ নিয়ে খেলা শেষে বলেছেন, ভালোবাসলে সাপও মানুষের পোষ মানে।
১৪ এপ্রিল শুক্রবার শরীয়তপুর পৌর অডিটোরিয়ামের সামনের মাঠে বাহ্মণবাড়িয়ার সাপুড়ে আরিদুল যখন নাগিন বিন বাঁশি বাজিয়ে কালকেউটে, বঙ্গরাজ সাপ নিয়ে খেলার জন্য দর্শক সাড়ি থেকে একজনকে ডাকছিলেন তখন কেউ রাজি না হলেও একমাত্র ঋতু এগিয়ে আসে সাপ নিয়ে খেলার জন্য। কালকেউটে, বঙ্গরাজ গলায় নিয়ে ঋতু যখন খেলছিল তখন সবাই শিহরিত হয়ে তার প্রশংসা করে আনন্দ উল্লাস করছিল।
কয়েক শত বছর ধরে পদ্মা নদী বেষ্টিত খাল-বিলের এই অঞ্চলের মানুষের সাপের সাথে পরিচয় থাকলেও সাপের কাছে যেতে ভয় পায় সবাই। কিন্তু এর মধ্যে শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলাম ঋতু অন্যরকম। তার সাহসে মুগ্ধ সবাই।
পহেলা বৈশাখ বরণ করতে ফারজানা ইসলাম ঋতু এবং তার বান্ধবী অনামিকা দাস বর-কনে সেজে শোভা যাত্রা শেষ করে সাপ খেলা দেখতে এসেছিল। অনামিকা প্রথমে ভয় পেলেও পরবর্তীতে ঋতুর সাথে সাহস দেখিয়ে সেও সাপ নিয়ে খেলেছে। এরপর দর্শক সাড়ি থেকে অনেকেই সাপ খেলায় অংশ নিয়েছে।
দর্শক মো. সজিব বলেন, পদ্মা নদীর পাড়ে আমাদের বসবাস । এছাড়াও এই অঞ্চলে অনেক বেশি পরিমাণ খাল, বিলের কারণে মানুষের আশেপাশে সাপের বসবাস। অনেক মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে সাপ। সাপ নিয়ে যারা খেলা করে, তারা সত্যিই অনেক সাহসী। সাপের খেলা আনন্দদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে বৈশাখ বরণ অনুষ্ঠানকে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন যাপনের অংশ হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে।
দর্শক সাড়িতে সাপের খেলা দেখেছেন জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান, শরীয়তপুর জেলা পুলিশ সুপার, সাইফুল ইসলাম সাইফ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র,উপ-পরিচালক(স্থানীয় সরকার) গাজী শরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মুহাম্মাদ তালুত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মোঃ সাইফুদ্দিন গিয়াস,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক( শিক্ষা ও আইসিটি) শামসুন নাহার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট,মোঃ সাইফুল ইসলাম মজুমদার, সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট( গোপনীয়, জে এম ও রেকর্ড রুম শাখা)  মুঃ আব্দুর রহিম, সহকারী কমিশনার এবং বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (নেজারত ও ট্রেজারী )অভিজিৎ সূত্রধর, সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ( সাধারণ শাখা, শিক্ষা এবং কল্যাণ শাখা, ফ্রন্টডেস্ক শাখা)মোঃ বাসিত সাত্তার,
সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (রাজস্ব শাখা, ভূমি অধিগ্রহণ শাখা) নাসরীন বেগম সেতু, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক এম এম জাহাঙ্গীরসহ শরীয়তপুরের সর্বস্তরের মানুষ। আনন্দ প্রকাশ করে জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র,  বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে বাঙালির জীবন যাত্রার সকল দিক ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে প্রশাসন। কৃষক, কামার, তাতি, জেলে, বাংলার বউ, নাচ, গান সহ বিভিন্ন সাজের অনুষ্ঠান রেখে মানুষ আজ সাপের খেলা দেখতে ছেলে বুড়ো সবাই ভীর করেছে একটু বেশি। বিশেষ করে শিশুরা বেশি আনন্দ করেছে।
কনে সেজে ফারজানা ইসলাম ঋতু বলেন, যেসব সাপ মানুষকে আক্রমণ করতে চায়, সেই সাপ গুলোকে আগেও আমি হাত দিয়ে ধরে মেরে ফেলেছি। যেসব সাপ ভালোবাসলে কথা শোনে তাদেরকে ভালোবেসেছি। আজকের খেলায় সাপ নিয়ে খেলা করেছি। সাপ মানুষকে ভয় পায় আবার মানুষও সাপকে ভয় পায়। তবে সাপকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভালোবেসে সাহস করলে সাপ ধরে খেলা করা যায়। ভালোবাসলে সাপও মানুষের পোষ মানে।
সাপুড়ে আরিদুল বলেন, সাপকে পোষ মানাতে কোনো যাদুমন্ত্র লাগে না। যাদুমন্ত্র সবই আমরা আনন্দ দেওয়ার বলে মানুষকে বলে থাকি। পদ্মা পাড়ের জেলায় সাপ খেলা দেখাতে এসে ভালো লেগেছে। এই অঞ্চলের মানুষ সত্যি সত্যি অনেক সাহসী।
আলোকিত প্রতিদিন/ ১৪ এপ্রিল-২০২৩/মওম
- Advertisement -
- Advertisement -