প্রতিনিধি,নোয়াখালী:
নোয়াখালী সদর উপজেলার সুধারামের নোয়ান্নই ইউনিয়নের সালেহপুরে কৃষক আবদুল মতিনের কৃষি জমিতে চাষাবাদ করতে চাওয়ার কারণে বসতবাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলায় ব্যাপক ভাঙচুর এবং লুটপাট চালানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিলে সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাদীকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। মামলার বাদী ইরানি বেগমের উল্লিখত অভিযোগ থেকে জানা যায়,কৃষক মতিনের ৩৫ শতক কৃষি জমিতে ইরির আবাদের উদ্দেশ্য জমিতে গিয়ে গোবর সার ছিটায়। এসময় আগে থেকে উৎ পেতে থাকা কিশোর সন্ত্রাসীর লিডার বাবলুর (২৫)নেতৃত্বে তার সহযোগী ইউছুফ (২৬),আবু ছায়েদ (২৪) মোঃ ইয়াছিনসহ ১০ থেকে ১২ জন বাধা দেয়। এসময় কৃষক মতিনের সাথে তাদের বাদানুবাদ হয়। এক পর্যায়ে সার প্রয়োগ বন্ধ করে মতিন বাড়ীতে ফিরে আসেন। এসময় তার পিছু নিশে কিশোর সন্ত্রাসীরা মতিনের বাড়িতে এসেই টিনসেড বাড়ি ভাঙচুর চালাতে থাকে। বাড়িতে থাকা কৃষক মতিনের শিশু পুত্রকে কাছে পেয়ে হত্যার উদ্দেশ্য গলা টিপে ধরে। এ দৃশ্য দেখে মা ইরানি বেগম সন্তানকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে বাবলু, ইউছুফ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ দেয়। তাদের পাশের বাড়ির অন্য গৃহিণী মুক্তা বেগম মা এবং শিশুকে বাঁচাতে এলে তাকেও কিল ঘুসি মারতে থাকে। এসময় তাদের অন্য সহযোগীরা বাড়িতে থাকা স্টীলের ট্রাঙ্ক ভেঙে গরু বিক্রির ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এসময় আহত ইরানি বেগমকে শ্লীলতাহানি উদ্দেশ্য তার পরনে থাকা সালোয়ার কামিজ ছিড়ে ফেলে ও তার গলায় থাকা ১০ আনা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিলে বেহুশ হয়ে পড়েন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কৃষক মতিনের কৃষি জমি দখলের উদ্দেশ্য সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ফুটবলের মাঠ বানানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এ অপচেষ্টা প্রতিরোধে একাধিকবার স্হানীয় ইউপি মেম্বার এবং চেয়ারম্যানকে জানালেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। হামলার ঘটনা উল্লেখ করে কৃষক মতিনের স্ত্রী ইরানি বেগম নোয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২৩৯/২৩। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখা( ডিবি)কে দায়িত্ব প্রদান করেন। এবিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,বিজ্ঞ আদালত থেকে মামলাটি তদন্তের জন্য এসেছে। এস আই জয়নাল তদন্ত করছেন।মামলার বাদী ইরানি বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে জনান,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ১ ইঞ্চি জমিও খালি রাখা যাবে না উদ্বুদ্ধ হয়ে জমিতে চাষাবাদ করতে চাওয়ায় সন্ত্রাসীরা আমার ঘরবাড়ী আমার শিশুপুত্র এবং আমাকে তাঁরা প্রাণে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। ঘরে থাকা শেষ সম্বলটুকুও তারা নিয়ে যায়। সব হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব।ঘটনা সংগঠিত হবার পর হতে স্হানীয় প্রশাসন অথবা জনপ্রতিনিধি কেউ-ই তাদের দেখতে আসেননি। এ ঘটনার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আলোকিত প্রতিদিন/ ১৩মার্চ-২০২৩/মওম
- Advertisement -

