এ বছর পাট দিবসে ১১ ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়া ৭টি শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হবে পাট সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের। ১১টি ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার দেওয়া হবে ।
বস্ত্র এবং পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাটজাত পণ্যকে বর্ষপণ্য-২০২৩ এবং সোনালী আঁশ পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
পাট দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির বাণী:
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ পাটশিল্পের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের সমন্বিত আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষ্যে এক বাণীতে এ আহ্বান জানান। ৬ মার্চ সোমবার বস্ত্র এবং পাট মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ‘জাতীয় পাট দিবস ২০২৩’ পালনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি আশা করি, এ উদ্যোগ পাট খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে।
আবদুল হামিদ বলেন, সোনালি আঁশ খ্যাত পাটের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। দেশীয় সংস্কৃতি এবং কৃষ্টির সঙ্গে মানানসই পাট ও পাটজাত পণ্য দেশে-বিদেশে পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে সমাদৃত। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পলিথিন এবং প্লাস্টিকের বিকল্প প্রাকৃতিক তন্তু পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
পাট দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাটখাত দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, ‘সোনালি আঁশ পাট বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। পাটখাত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী অন্যতম ক্ষেত্র। বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে স্বীকৃত শ্রমঘন পাটখাত দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
‘জাতীয় পাট দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী ৬ মার্চ ‘জাতীয় পাট দিবস’ পালিত হচ্ছে জেনে তিনি আনন্দিত। এ আয়োজন উপলক্ষে শেখ হাসিনা পাটচাষি, পাটশিল্পের শ্রমিক-কর্মচারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ীসহ উৎপাদন এবং বিপণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাটশিল্পের উন্নয়নে নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের চলমান পৃষ্ঠপোষকতা পাটখাতের হারানো ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করার সঙ্গে সঙ্গে এখাতকে অধিক সমৃদ্ধশালী করতে সক্ষম হয়েছে। প্লাস্টিক ও পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি হওয়ায় বিকল্প প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।