আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৩০ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আশুলিয়া মডেল টাউন নামে জিন মানবের দখলে সরকারি জমি

আরো খবর

শহিদুল্লাহ সরকার: 
আবাসন প্রকল্প করতে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ সরকারি জমি দখলে নিতেও পিছপা হয়নি। খাসজমি ছাড়াও রাজধানী সংলগ্ন বিরুলিয়া ও আশুলিয়ার নবাব এস্টেট, জলাধার ও পানি নিষ্কাশন পথ দখল নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ‘আশুলিয়া মডেল টাউন’ প্রকল্প। নামে প্রকল্প হলেও বাস্তবে এ প্রকল্পের কোনো অনুমোদন নেই। প্রায় ৫শ’ একর সরকারি জমি জোরপূর্বক দখল করা হচ্ছে। ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের ভয়ে অনেক সরকারি লীজ প্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধাদের জমি থেকে আশুলিয়া মডেল টাউনের সন্ত্রাসীদের দিয়ে
তারিয়ে দিচ্ছে, সম্প্রতি সরেজমিন সংশ্লিষ্ট এলাকায় অনুসন্ধানে এ রকম ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে আসে,
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, আশুলিয়া মডেল টাউন খাগান, দামপাড়া, চৌধুরীয়া মৌজায় প্রায় ৮০ একর সরকারি জায়গা দখল করে নিয়েছে। বরাদ্দ ছাড়াই সরকারি জমি প্রকল্পের আওতাভুক্ত করে ভরাট করে ফেলেছে। যা বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রিও করা হচ্ছে।
ঢাকা ডিসি অফিসের তথ্যমতে, আশুলিয়া মডেল টাউন প্রকল্পে এসব জমি উদ্ধার করতে আমিন বাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী ভূমি কমিশনার বাদী হয়ে একটি উচ্ছেদ মামলা করেন। মামলা নম্বর ২২৫/২০১৬। এ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার ডিসি, আশুলিয়া মডেল টাউন প্রকল্পের ওই জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিতে আমিন বাজার রাজস্ব সার্কেলকে নির্দেশ দেন। এরপর গত ২১ সেপ্টেম্বর আমিন বাজার রাজস্ব সার্কেলের কর্মকর্তা আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের অবৈধভাবে দখলকৃত ভুমি সংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেদনের মাধ্যমে ডিসিকে অবহিত করা হয়। জানা গেছে, ডিসি এ ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে প্রতিবেদক সম্প্রতি দুই দফা ওই প্রকল্পে প্রবেশের চেষ্টা করলেও আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের ক্যাডাররা বাধা দেয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, আশুলিয়া মডেল টাউন প্রকল্পের খাগান, চৌবাড়িয়া, দামপাড়া ও পাড়াগাঁও (হালে বড় পাড়াগাঁও) মৌজায় ঢাকা নবাব এস্টেটের প্রায় ৪৮০ একর জমি জবরদখল করেছে বিতর্কিত গ্রুপটি। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এসব জমি প্লট আকারে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রিও করেছে। ২০১৩ সালের ২২ অক্টোবর ভূমি সংস্কার বোর্ডের এক তদন্ত প্রতিবেদনে এসব সম্পত্তি সিএস রেকর্ড (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে) অনুযায়ী কোর্ড অব ওয়ার্ডসের সম্পত্তি (ঢাকা নওয়াব এস্টেট) বলে উল্লেখ করা হয়। ১৮৭৯ সালের কোর্ড অব ওয়ার্ডস অ্যাক্টের ৮(এ) ধারা অনুযায়ী জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সব জমির মালিকানা কোর্ড অব ওয়ার্ডসের। সূত্র বলছে, এভাবে নানা প্রক্রিয়ায় সরকারি সম্পত্তি দখল এবং বিক্রি করে কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ। কিন্তু সরকারি খাসজমি হওয়ায় নামজারিসহ চূড়ান্তভাবে প্লট বুঝে পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। জবরদখল চলছেই : স্থানীয় ক্যাডার বাহিনীর সমন্বয়ে একটি ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছে দখলবাজ আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ। সম্প্রতি ওই এলাকায় অনুসন্ধানে গেলে মানুষকে নিঃস্ব, রিক্ত করার ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে আসে,
আলোকিত প্রতিদিন/ ৩১ জানুয়ারি -২০২৩/মওম
- Advertisement -
- Advertisement -