আজ শুক্রবার, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৬ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সাকিব-মুশফিকদের অসহায় আত্মসমর্পণ

আরো খবর

ক্রীড়া ডেস্ক:

নিজেদের মাঠ, চেনা কন্ডিশন সঙ্গে সেই পুরনো বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজের মতো চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসেও একই পরিণতি। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পরও লেটঅর্ডারে মিরাজের দৃঢ়তায় ওয়ানডে সিরিজ জেতা গেলেও চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই হার চোখ রাঙাচ্ছে।

দ্বিতীয় দিনের পুরোটা সময়ে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে ভারতের কাছে পরাস্ত বাংলাদেশ। দিনের প্রথম তিন ঘন্টায় লেট অর্ডার ব্যাটাররা মিলে স্কোরবোর্ডে তুলে ফেলেন ৪০৪ রান। দিনশেষে ৮ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩৩।ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রামের উইকেট কিছুটা বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে ব্যাটাররা। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে দুই দিন পেরিয়ে গেলেও ব্যাটারদের সহায়তা খুব একটা দেখা যায়নি। দুই দলের ব্যাটারদেরই রান করতে সংগ্রাম করতে হয়েছে। ভারতীয় ব্যাটাররা লড়াইয়ের মানসিকতা দেখিয়ে সাফল্য পেলেও বাংলাদেশ দলের ব্যাটারদের সেই মানসিকতা ছিল না। দ্রুত উইকেট হারিয়ে ফলোঅনের শঙ্কায় বাংলাদেশ। ১৩৩ রানে দিন শেষ করা মিরাজ-এবাদতদের ফলোঅন এড়াতে করতে হবে আরও ৭১ রান।বৃহস্পতিবার নতুন সকালে দারুণ কিছুর প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ৬ উইকেটে ২৭৮ রান নিয়ে ব্যাটিং করতে নামা ভারতের লেট অর্ডার সকালটা বাংলাদেশের হতে দেয়নি। যদিও শুরুতে শ্রেয়াস আয়ারকে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত  দিয়েছিল বাংলাদেশ। উইকেটে কুলদীপ যাদব এবং রবীচন্দ্রন অশ্বীনের ৮৭ রানের জুটি বিপদে ফেলে দেয় স্বাগতিকদের। ওই জুটির পর উমেশ যাদবের ১০ বলে ১৫ রানের ইনিংসে ৪০৪ রান তুলে ফেলে সফরকারীরা। অশ্বিনের ব্যাট থেকে ৫৮ ও কুলদীপের ব্যাট থেকে আসে ৪০ রানের ইনিংস। একাধিক জীবন পাওয়া শ্রেয়াস আইয়ার ৮৬ ও চেতশ্বর পূজারা খেলেন ৯০ রানের ইনিংস।

প্রথম দিনে দারুণ বোলিং করলেও দ্বিতীয় দিনের শুরুর কয়েক ওভার বাদে বাকি সময়টাতে প্রচুর আলগা বোলিং করতে দেখা গেছে স্বাগতিক বোলারদের। নখদন্তহীন বোলিংয়েরে সঙ্গে বাজে ফিল্ডিংয়ের সুযোগ নিয়ে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করেছে ভারত। ফলে মিরাজ-তাইজুলরা চারটি করে উইকেট নিলেও প্রভাব বিস্তার কমই করতে পেরেছেন। ৩২ রানের জুটি গড়ে চার বিরতিতে যাওয়া লিটন ফিরেই ভুল করে বসলেন। আরও ২ রান যোগ হতেই সিরাজের ‘ফাঁদে’ পা দিয়ে বসেন। লিটনের মনোযোগ নাড়িয়ে দিতেই তাতিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে সফল হন। নিচু হওয়া বল ডিফেন্স করতে গিয়ে মিস করে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ২৪ রানে। টপ অর্ডার ব্যাটারদের দেখাদেখি মিডল অর্ডারে সাকিব আল হাসান ও নুরুল হাসান সোহানের পথটাও একই হয়। দুইজনই অস্তস্তি নিয়ে ব্যাটিং করেছেন। শেষ ঘন্টায় দায়িত্বহীন শটে সাকিব ২৫ বলে ৩ রান করে আউট হয়েছেন। নুরুলের রান ২২ বলে ১৬। কিছুটা স্থিরভাবেই খেলছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু দিনের খেলা শেষ হওয়ার ১০ ওভার বাকি থাকতে কুলদীপের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন মুশফিক। সর্বোচ্চ ২৮ রান আসে তার ব্যাট থেকে।৩৫তম ওভারের শেষ বলে তাইজুল ফিরে যাওয়ার পর অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ। তবে এবাদতকে সঙ্গে নিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের নায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ৩১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দিনটি পার করেন। তাতে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৩৩। পিছিয়ে আছে ২৭১ রানে।  শুক্রবার বিজয় দিবসের নতুন সকালে মিরাজ-এবাদত জুটি কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারে-সেটিই দেখার।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৫ ডিসেম্বর– ২০২২/মওম

- Advertisement -
- Advertisement -