আব্দুল সাত্তার টিটু:
নগরীর বাকলিয়া,চকবাজার, পাঁচালাইশ, বহদ্দারহাট সহ নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এবং অমাবস্যার তান্ডবে অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। রাত বাড়ার সাথে সাথে পানির তীব্রতাও বৃদ্ধি পায়। এতে বিপাকে পড়েন নিম্ন আয়ের মানুষ। অধিকাংশ পরিবারের ঘরে পানি ঢুকে ঘরের আসবাবপত্র পানির উপর বাসতে থাকে। এতে শিশু, বৃদ্ধ এবং মহিলাগণ চরম কষ্টে রাত অতিবাহিত করে। ১৭ নং পশ্চিম বাকলিয়া ডিসি রোড এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মনি বলেন, আমরা এমন এক এলাকায় আছি যে এলাকায় প্রায় তিন থেকে চার ফুট পানি উঠেছে। এই এলাকায় বিগত ১০-১৫ দিন ধরে সিটি কর্পোরেশনের খুঁটিতে লাইট নষ্ট হয়ে রয়েছে। মেইন রোডের লাইট ১৫ / ২০ দিন আর গল্লির লাইট কোনটা ২ মাস কোনটা ৩ মাস বন্ধ হয়ে আছে। সম্পূর্ণ এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত। এই দুর্যোগপূর্ণ রাতে কোন চুরি ডাকাতি হলে কেউ কিছুই করতে পারবে না। রাস্তার দোকানদারগণ তাদের দোকানের সামনে নিজের দোকানের লাইট জ্বালিয়ে রেখেছেন।
১৮ নং পূর্ব বাকলিয়ার ইছাকেরপুল, তক্তার পুল, কালামিয়া বাজার, হাটখোলা এরিয়ার অধিকাংশ জায়গায় পানির নিচে তলিয়ে যায়। হাটখোলার পাশের খালের পানি মূল রাস্তার উপর উঠে আসে এতে আশেপাশের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করে ফলে বসতবাড়ির আসবাবপত্র ও মূল্যবান কাগজপত্র পানিতে ভিজে যায়।
১৯ নং বাকলিয়ায় বাদামতলীর মোড়, বউবাজার, নয়া মসজিদ, আমিন হাজী রোড সহ আশেপাশের এলাকার অধিকাংশ বসতবাড়িতে ও দোকানে পানি ঢুকে। এতে ওয়ার্ডবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এই এলাকায় অধিকাংশ মানুষ নিম্ন আয়ের হওয়ায় অধিকাংশ মানুষের রাত কাটে চরম আতঙ্কে। বউবাজার এলাকার জুট ব্যবসায়ী মোঃ রাজিব বলেন, আমার দোকানে রাত দেড়টার দিকে পানি ঢুকে দোকানের ডেলিভারির জন্য রাখা মালপত্র নষ্ট হয়ে যায় । এই দুর্যোগপূর্ণ রাতে বাকলিয়ার তিন ওয়ার্ডের অসহায় এবং পানিবন্দীরা অভিযোগ করেন আমাদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ কোন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করেনি।
গভীর রাতে এই দুর্যোগপূর্ণ পানি বন্দি অসহায় মানুষের পাশে ছুটে আসেন মানবিক টিম বাকলিয়া। বাকলিয়া থানার একাধিক টিম অসহায় ও পানিবন্দি মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য রাতভর কাজ করেন। এ বিষয়ে বাকলিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রহিম আলোকিত প্রতিদিনকে বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা অসহায় পানি বন্দি মানুষকে বাকলিয়া নোমান কলেজের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসি। পরবর্তীতে রাত্রিবেলায় আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ রাখি এবং বাকলিয়া থানার পক্ষ থেকে পানিবন্দী অসহায় মানুষদের বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/ ২৭ অক্টোবর-২০২২/ মওম
- Advertisement -

