আজ শনিবার, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

স্বামীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি আদায়ে উচ্চ আদালতে যাবেন সেলিনা আকতার

আরো খবর

এম জসিম উদ্দিন:
স্বামীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চেয়ে কয়েকবছর ধরে মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে ফল না পেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার স্ত্রী সেলিনা আকতার । সেলিনা আকতার চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আবদুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী । সেলিনা বর্তমানে পাঁচ সন্তানের জননী। তিনিও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত । আর্থিক প্রতিকূলতার কারণে চিকিৎসা নিতে পারছেন না সেলিনা আক্তার। জীবদ্দশায় তদ্বীর না করায় অন্যান্য সহযোদ্ধাদের মতো গেজেটভুক্ত হতে পারেননি আবদুল হক। সেই আক্ষেপ নিয়েই মারা যান তিনি। তাই মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির অপেক্ষায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হকের স্ত্রী ও তার পরিবার। মাতৃভূমি রক্ষায় জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন আবদুল হক । কিন্তু স্বাধীনতার ৫১ বছর পরেও মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় ঠাঁই হয়নি তার স্বামীর।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী গ্রামের মৃত আব্দুল হাশেম ও মৃত ছবুরা খাতুনের ছেলে আব্দুল হক। তিনি ২০১১ সালে ৬০ বছর বয়সে মারা যান। মুক্তিযুদ্ধে ১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এর অধীনে লড়াই করেন আবদুল হক। দেশ স্বাধীনের পর মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী তাঁকে ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের ‘সনদপত্র’ দেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক তার একটি আবেদনে সুপারিশ করে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে প্রেরণ করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি । এছাড়া আবদুল হকের পক্ষে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এম.পি’র ডিও লেটার, ভূমিমন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এম.পি’র ডিও লেটার, গ্রুপ কমান্ডার এ কে এম ফজল আহমদ এর প্রত্যয়নসহ অসংখ্য প্রমাণ রক্ষিত আছে। আবদুল হকের স্ত্রী সেলিনা আকতার বিগত ২০২০ ইংরেজি সালে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতে অনলাইনে আবেদন করেন। আবেদনের রশিদ নম্বর ৮১৬৭২৯৮৯৫৯১১৩৪! আবেদন গ্রহণের তারিখ ০৯/৩/২০২০ ইংরেজি । আবেদনটি ফ্রন্টডেস্কে গৃহিত হয়েছে । যার রশিদ নম্বর ১১০২২১৩২০০৩০৯০১০ ।
এ প্রসঙ্গে আবদুল হকের স্ত্রী সেলিনা আকতার বলেন, আর্থিক প্রতিকূলতার কারণে আমার স্বামী অন্যদের মতো যোগাযোগ তদ্বির তেমন করতে পারেনি । ফলে বিভিন্ন সময় রাষ্টীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা প্রণয়ন করা হলেও তার নাম বাদ পড়ে যায় । সেলিনা আকতার বলেন, জীবদ্দশায় আমার স্বামী ১৯৭১ সালে এদেশীয় রাজাকারদের নির্মম নির্যাতনে স্মৃতিচারণ করতেন সবসময় । আমরা পরিবারের সবাই তার কথাগুলো শ্রবণ করতাম । নির্যাতনের সেই দুঃসহ স্মৃতি রেখে বিগত ২০১১ সালে তিনি দুনিয়ার সকল মায়া ত্যাগ করে চলে যান পরপারে। পাঁচ সন্তান নিয়ে বর্তমানে প্রতিটি দিন দূঃসহ কষ্টের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছি । কখনো লজ্জায় মূখ লুকাই আবার কখনো সন্তানদের আহার যোগাতে ঘর থেকে অন্যত্র বেরিয়ে পড়ি । তিনি বলেন, জীবদ্দশায় আমার স্বামী সবসময় বলতেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে চারিদিকে যখন যুদ্ধের দামামা ঠিক সেই সময় পাকিস্তানি দোসর রাজাকারেরা হত্যা, গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুন্ঠনে মেতে উঠে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী । সহযোদ্ধাদের (মুক্তিবাহিনী) নিয়ে শত্রুদের প্রতিরোধ করতেন আমার স্বামী । সেলিনা আকতার বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডের পরে মুক্তিযোদ্ধারা এদেশে নানাভাবে অবহেলিত এবং মানবেতর জীবনযাপন করেছেন । তবে বুকভরা আশা নিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার । এতে অন্যদের ভাগ্য পরিবর্তন হলেও স্বাধীনতার ৫১ বছরেও আমার পরিবার অবহেলিত, সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে আমরা এখনো বঞ্চিত। ‘আলোকিত প্রতিদিন’ পত্রিকার প্রতিবেদককে সেলিনা বলেন, সিদ্ধান্ত নিয়েছি স্বামীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি আদায়ে শীঘ্রই উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করার।
এ প্রসঙ্গে আনোয়ারা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান জানান, কিছুদিনের মধ্যে একটি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন হতে পারে। সে কমিটিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হকের ফাইলটি তোলার চেষ্টা করবো। এ প্রসঙ্গে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ-এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তালিকা দেখে আবদুল হক সাহেবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/ ১৯ অক্টোবর-২০২২/ মওম
- Advertisement -
- Advertisement -