নিজস্ব প্রতিবেদক:
পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লি বা নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনকাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপন উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ।
এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি সচিব জিয়াউল হাসান, রূপপুর প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শৌকত আকবর। ঈশ্বরদীর জনপ্রতিনিধি, পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তাসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কেন্দ্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি রোসাটম এবং এটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের কর্মকর্তারা।
২০২১ সালের ১০ অক্টোবর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের চুল্লি স্থাপনকাজের উদ্বোধন হয়। প্রথম ইউনিটের কাজের অগ্রগতি হয় ৭০ শতাংশ। এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের চুল্লি স্থাপনের কাজ শুরু হলো আজ। প্রকল্পের ভৌত নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ৫৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ প্রকল্পে স্থাপন করা হলো রাশিয়ার উদ্ভাবিত সর্বশেষ প্রযুক্তি থ্রিজি (প্লাস) ভিভিইআর ১২০০ মডেলের রিঅ্যাক্টর। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) প্রকৌশল শাখা অ্যাটমোস্ত্রয় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রতিটি ইউনিটে ১২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে এ প্রকল্প। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির স্থায়িত্ব হবে ৬০ বছর। দুই ধাপে ২০ বছর করে বাড়িয়ে মোট ১০০ বছর বিদ্যুৎ উৎপানে থাকতে পারবে কেন্দ্রটি। প্রকল্পের জ্বালানি ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সরবরাহ কোম্পানি টিভিইএল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আসা শুরু হবে। আগামী বছরের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন শুরু হবে।

