ক্রীড়া ডেস্ক:
হারলেই বিদায়ঘণ্টা বেজে যেতে শ্রীলঙ্কার। সামান্য সম্ভাবনা থাকলেও এশিয়ার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের অন্য দলগুলোর ফলের অপেক্ষায় থাকতে হতো। এই সমীকরণে দাঁড়িয়ে কার্তিক মেয়াপ্পানের হ্যাটট্রিকে খুব বেশি রান তুলতে পারেনি লঙ্কানরা। শঙ্কার মেঘ জন্মে তাতে। তবে বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে গুঁড়িয়ে পাওয়া জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টিকে থাকলো শ্রীলঙ্কা।
মঙ্গলবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে আরব আমিরাতকে ৭৯ রানে হারিয়েছে লঙ্কানরা। পাথুম নিসানকার ৭৪ রানে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫২ রান করে তারা। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭.১ ওভারে ৭৩ রানে গুটিয়ে যায় আরব আমিরাতের ব্যাটিং। এই জয়ে বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট পাওয়া শ্রীলঙ্কার সুপার টুয়েলভের আশা জেগে উঠলো। ২ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপে তৃতীয় স্থানে তারা। ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নেদারল্যান্ডস।
আরব আমিরাতের বিপক্ষে ফেভারিট ছিল শ্রীলঙ্কা। ব্যাটিংয়ে সেটিরই প্রমাণ মেলে। উদ্বোধনী জুটিতে ৪২ রান এনে দেন নিসানকা ও কুশল মেন্ডিস। ১৩ বলে ১৮ রান করে বিদায় নেন কুশল। একপ্রান্ত আগলে রেখে ৬০ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৭৪ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেছেন নিসানকা। বোলাররা জেতালেও ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তারই হাতে।
ওয়ান ডাউনে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ২১ বলে ৩ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় করেন ৩৩। একটা সময় ৩ উইকেটে লঙ্কানদের রান ছিল ১১৭। কিন্তু ওই সময় মেয়াপ্পানের আঘাতে এলোমেলো হয় যায় শ্রীলঙ্কা। আরব আমিরাতের এই স্পিনার করে ফেলেন এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক। টানা ৩ বলে তার শিকার- ভানুকা রাজাপাকশে, চারিথ আসালঙ্কা ও দাসুন শানাকা। এই ধাক্কায় লঙ্কানদের রান বেশি বাড়েনি। হ্যাট্রটিক পাওয়া মেয়াপ্পান ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।লঙ্কানদের ১৫২ রানের জবাবে আরব আমিরাতের কোনও ব্যাটারই দাঁড়াতে পারেননি। সর্বোচ্চ ১৯ রান করেছেন আয়ান আফজাল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান জুনায়েদ সিদ্দিকীর। আর ওপেনিংয়ে ১৪ রান করেন চিরাগ সুরি। এছাড়া আর কেউই যেতে পারেননি দুই অঙ্কের ঘরে।
আরব আমিরাতের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেওয়ার পথে ভানিন্দু হাসারাঙ্গা ৪ ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। ৩ উইকেট পেতে ৩.৫ ওভারে ১৫ রান খরচ করেছেন দুষ্মান্থ চামিরা।

