মাইনুল হাসান মজনুঃ
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার বোহাইল ইউনিয়নের পুর্ব ধারাবর্ষা চরে শশুর বাড়ীতে ঘরজামাইকে মারপিটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদরের সুকানপুকুরী গ্রামের আব্দুল মজিদ এর ছেলে মোঃ সফিকুল ইসলাম (৩৪) দির্ঘ ৭বছর আগে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার বোহাইল ইউনিয়নের পুর্ব ধারাবর্ষা চরের আবুল কাশেম এর ছোট মেয়ে মোছাঃ মমতা বেগম (২৫) এর সহিত প্রস্তাবের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
বেশ সুখ শান্তিতে কাটছিলো তাদের দাম্পত্য জীবন। এর মধ্যে দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছে। বড় মেয়ের নাম মোছাঃ ছানিয়া বয়স সাড়ে তিন বছর। আর ছোট মেয়ের নাম ইনা আক্তার বয়স ১৪ মাস। তারা বিয়ের পর ঠাকুরগাঁও সদরে বসো বাস করতেন। বড় মেয়ে ছানিয়া অসুস্থ হলে চিকিৎসা করতে তারা বোহাইল ইউনিয়নের পুর্বধারাবর্ষা চরে চলে আসেন। সেই থেকে করোনা প্রদুর্ভাব শুরু হলে লক ডাউনে পরে যান। এরপর থেকে দির্ঘ আড়াই বছর যাবত শশুর আবুল কাশেম এর বাড়ীতে ঘরজামাই হিসেবে সংসার করে আসছেন। এরই মধ্যে সফিকুল ইসলাম তার বাবার বাড়ী থেকে টাকা এনে জমি এবং গরু কিনে লালনপালন শুরু করেন।
সফিকুল ইসলাম তার শশুর বাড়ীর সবার সাথে মিলেমিশে চলাচল করতে থাকলে পরবর্তীতে শশুর ও তিন সমন্দির সাথে মনমালিন্য সৃষ্টি হয়। সফিকুল তার স্ত্রী মমতা ও মেয়ে ছানিয়া এবং ইনা আক্তার কে নিয়ে শশুর বাড়ী থেকে তার নিজ বাড়ী ঠাকুরগাঁও এ যেতে চাইলেও তারা বাধা প্রদান করেন। সর্ব শেষ ঘটনা ০৩/১০/২০২২ ইং তারিখ দুপুর ১২ টার দিকে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সফিকুল ইসলামের শশুর আবুল কাশেম সরকার এবং তার তিন ছেলে মোঃ চাঁন মিয়া,মোস্তফা ও ইউসুফ আলী সফিকুল ইসলাম কে বেধড়ক মারপিটে আহত করে তার ৫টি গরু যার আনুমানিক মুল্য ৪ লাখ টাকা এবং জমি এগ্রিমেন্টের ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা সহ তার সমস্ত কিছু কেড়ে নিয়ে বাড়ী থেকে বেড় করে দেয়। পরে স্থানীয় হারুনর রশীদ এর ছেলে আমজাদ হোসেন সফিকুল ইসলাম কে চিকিৎসার জন্য নৌকা যোগে সারিয়াকান্দি নিয়ে আসেন। এবং সন্ধা ৭টার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসা শেষে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে সফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে সারিয়াকান্দি থানায় উল্লেখিত ৪জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। এবিষয়ে থানার ডিউটিরত পুলিশ অফিসার এএসআই কামরুল ইসলাম এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বোহাইল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ খান ঘটনা’র সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সফিকুল ইসলাম শশুর বাড়ীতে ঘরজামাই থাকতো।
তার শশুর ও সমন্ধিরা মিলে এমন নেককার ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।
- Advertisement -

