আজ শনিবার, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অনাবৃষ্টি-রোপা আমন চাষ সেচের উপর নির্ভর 

আরো খবর

নুর আলম:
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বৃষ্টি না থাকায় রোপা আমন জমিতে সেচের পানি দিয়ে সার প্রয়োগ নিড়ানি সহ বিভিন্ন ধরনের আগাছা দমনে ব্যাস্ত রোপা আমন চাষিরা। তার পরেও তারা চিন্তিত আশানুরূপ ফলন না হওয়ার।
এখন বর্ষা কাল। এ সময় অন্য মাসের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। এ বৃষ্টির পানিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকরা এ মৌসুমে রোপা-আমনচাষে ব্যস্ত সময় পার করে থাকে। বর্তমানে বৃষ্টিপাত না থাকায় উলিপুর উপজেলার ফসলি জমিসহ মাঠ-ঘাট পানি শূন্যতায় প্রায় সেচের উপর নির্ভর হয়ে পড়েছে রোপা আমন চাষিরা।
কৃষি অফিস সুত্রে এবছর এ উপজেলায়  পৌরসভাসহ মোট ২৪ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বীজতলা রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ইতিমধ্যে পুরণ হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে সরেজমিনে উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ফসলের মাঠ ঘুরে রোপা আমন ধানের জমিতে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। চলতি বছর এ এলাকায় তেমন বৃষ্টিপাত না থাকায় প্রচণ্ড তাপদাহ আর তীব্র খরা আর অনাবৃষ্টিতে একদিকে জনজীবন যেমন অতিষ্ঠ তেমনি হুমকির মুখে পড়েছে জীব-বৈচিত্র সহ ফসলের চাষাবাদ। বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক জমিতে সম্পূরক সেচ দিয়ে চারা বাঁচিয়ে রাখছেন কৃষক। এতে ধানের ফলন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উলিপুর পৌরসভার  গ্রামের কৃষক আব্দুল হক বলেন, বৃষ্টির পানিতে রোপা আমন ধানের ফলন ভালো হয়। কিন্তু এ বছর চাহিদা অনুযায়ী বৃষ্টি না হওয়ায় শ্যালো মেশিন ও বৈদ্যুতিক মোটর চালিয়ে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। ইউনিয়নের হারনেফড়া গ্রামের কৃষক আশরাফ আলী খন্দকার জানান, পানির ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি না থাকায় জমি ফেটে যাচ্ছে। পানির অভাবে ধান গাছ বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। উপায় না পেয়ে সেচ দিয়ে পানি দিয়ে সার প্রয়োগ করছি। এছাড়াও উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, ফসলের ক্ষেত ফেটে চৌচির হওয়ায় জমির ফসল নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। শ্যালো মেশিন কিংবা বৈদ্যুতিক মোটর চালিয়ে রোপা আমন আবাদ উপযোগী নয়। বৃষ্টির পানিতে রোপা আমন চাষ ভালো
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবীদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সাধারণত আষাঢ় মাসের ২০ থেকে শুরু করে শ্রাবণ মাসের শেষ পর্যন্ত রোপা আমন চাষাবাদ করা হয়। অনাবৃষ্টি ও অতিরিক্ত তাপদাহ যদি আরো সপ্তাহ খানেক চলে, তাহলে রোপা আমন চাষ ব্যপক ক্ষতির সন্মুখিন হতে পারে। এ কারণে প্রয়োজনে যে সকল রোপা আমন জমিতে পানি শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে সে সকল জমিতে সেচের ব্যাবস্থা করতে হবে। মোটা ধানের জন্য একটু অসুবিধা হলেও চিকন জাতের ধানের জন্য তেমন ক্ষতি হবেনা।”
আলোকিত প্রতিদিন/ ২৪ আগস্ট ,২০২২/ মওম
- Advertisement -
- Advertisement -