ইমরান নাজির, আঞ্চলিক প্রতিনিধি (মানিকগঞ্জ):
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে পদ্মার ভাঙ্গণরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সর্ব শ্রেণি পেশার মানুষের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নের কুষ্টিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ১’হাজার এলাকাবাসী এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
জানা যায়, চলতি বর্ষায় এ ইউনিয়নের অনেক বসতবাড়ি, ফসলিজমি, রাস্তাঘাট বিলিন হয়েছে। এমনকি দেবিনগর, কুষ্টিয়া, শালজানা, মান্ডাখোলা গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রায় এক হাজার পরিবার নতুন করে পদ্মার ভাঙ্গণের ঝুঁকির মূখে পড়েছে। পদ্মার প্রবল ভাঙ্গণে আরও ঘরবাড়ি
বিলিনের পথে রয়েছে। অবিলম্বে ভাঙ্গণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়বে।
মানববন্ধনে স্থানীয়রা বলেন, গত দুই দিনে অন্তত ২০টি ঘর পদ্মার ভাঙ্গণে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, রাস্তাঘাটসহ বহু স্থাপনা। এতে আতঙ্কে বসবাস করছে আরুয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। বর্তমানে অনেকেই ঝোপের মধ্যে ছাপরা তুলে দিন যাপন করছেন। প্রধানমন্ত্রী বরাবর তাদের দাবী আমরা খাদ্য চাইনা, স্থায়ী বেড়িবাঁধ চাই। এছাড়াও ভিটেমাটি রক্ষায় দ্রুত বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ এর দাবী জানান।
স্থানীয় হাসেম আলী জানায়, এই ইউনিয়নের ৩৯টির মধ্যে
১৩টি মৌজা রয়েছে, বাকি সব নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমার নিজের বাঁশঝাড় ও কাছারি ঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। বসতঘর ভাঙনের মুখে পড়ায় তা সরিয়ে নিয়েছি। পানি কমতে শুরু করে আবার এক সপ্তাহ পর বাড়তে শুরু করেছে। ফলে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। প্রতিবছরই নদীতে চলে যাচ্ছে ঘর-বাড়ি ও ফসলি জামি। তবু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমান খান জানু বলেন, পদ্মার প্রবল ভাঙ্গণের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। কিন্তু আজও কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে নদী তীরবর্তী বহু পরিবার ভাঙ্গণের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। আমরা দ্রুত নদী ভাঙ্গনরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। এজন্য পরিকল্পিতভাবে স্থায়ী বেঁড়িবাধ নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৮ আগস্ট -২০২২/এসএএইচ

