আজ শনিবার, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ধর্মান্তর হয়ে মুসলিম ছাত্রী বিয়ে করলেন চিকিৎসক, স্ত্রীর স্বীকৃতি পাইনি ছাত্রী

আরো খবর

প্রতিনিধি নাগরপুর :

ধর্মান্তর হওয়া সহ মুসলিম রীতি অনুযায়ী মেডিকেল ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন ডা. তন্ময় কুমার দেবনাথ নামের এক চিকিৎসক। নথিপত্রে বিয়ের চার বছর হলেও এখনও মেলেনি স্ত্রী হিসেবে পারিবারিক স্বীকৃতি। এরপরও তিনি সংসার বাঁধার স্বপ্ন দেখেছেন। কিন্তু এতে সইতে হয়েছে চিকিৎসক স্বামীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এছাড়াও বিবাহ বিচ্ছেদের কৌশল হিসেবে এখন আপত্তিকর চারিত্রিক তথ্যচিত্র প্রচারে লিপ্ত হয়েছেন চিকিৎসক স্বামী, এ বিষয়ে নিজেই অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী মেডিকেল ছাত্রী। স্ত্রী’র স্বীকৃতি প্রাপ্তিতে ব্যর্থ আর প্রতারণার শিকার ওই ছাত্রী এখন বিচারের দাবিতে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। বিচার প্রার্থনায় এরই মধ্যে চিকিৎসক স্বামীর বিরুদ্ধে ওই ছাত্রী অভিযোগ দায়ের করেছেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরাবর।
সকল প্রমাণপত্র ও ঘটনা সূত্র মতে, মেডিকেল ছাত্রীর স্বামী ডা. তন্ময় কুমার দেবনাথ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার পদে কর্মরত রয়েছেন। তিনি কালিহাতী পৌর শহরের ২ নং ওয়ার্ডের ঘূণী এলাকার নলনী কান্ত নাথ ও ইতি রাণী দেবনাথের ছেলে। ভুক্তভোগী মেয়ে রাজশাহী জেলার বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ছাত্রী। ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট রাজশাহী জেলা নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিট এর মাধ্যমে ধর্মান্তর হন ডা.তন্ময় কুমার দেবনাথ এবং ইসলাম বিধি বিধান মেনে তিন লাখ টাকা দেনমোহরনায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। উল্লেখ্য, নারী নির্যাতন মামলায় তন্ময় তিন রাত কারাভোগ করেছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযোগকারী ছাত্রী বলেন, আমি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য বারবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিচ্ছেদ ঘটনাতে তন্ময় দফায় দফায় আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে। এছাড়াও নানা ধরণের চারিত্রিক অপবাদ ও প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আমাকে ভয় দেখাতো। এরপর চলতি বছরের শুরুতেই তন্ময় আত্মগোপনে চলে যায়।
কথা হয় অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে, ধর্মান্তর হয়ে ডা. তন্ময় কুমার দেবনাথ নাম ব্যবহারে রাষ্ট্রীয় আইনের অমান্য হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন তিনি। এছাড়াও বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানোর জন্য ওই মেডিকেল ছাত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগটি অসত্য বলে দাবি করেছেন তিনি এবং বিয়ের আগে আরও দুইজন মেয়ের সাথে সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রোকনুজ্জামান বলেন, এ বছরের শুরুতে ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে খারাপ কিছু অভিযোগ পায় ডা. তন্ময়। এ কারণে এখন ওই ছাত্রীর সাথে তার সম্পর্ক নেই। তবে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মিমাংসার কথা জানিয়েছেন তিনি। এর আগে তার এক সহকর্মী ডা. রাকিবুল ইসলাম লিন এর মাধ্যমে জানতে পারেন, ওই ছাত্রী ইতোপূর্বে তন্ময়ের সাথে দেখা করতে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন। সেইদিন ছাত্রী এবং ডা. তন্ময় এক সাথে টাঙ্গাইলে যান। ওইদিন ডা. তন্ময় তাকে মারধরে করেছে বলে ডা. লিনকে ফোন করে জানিয়েছিলেন ওই ছাত্রী। এ বিষয়ে ছাত্রীর লিখিত অভিযোগ পেলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাব উদ্দিন খান জানান, নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার পদে কর্মরত ডা. তন্ময় কুমার দেবনাথ এর বিরুদ্ধে মেডিকেলের এক ছাত্রীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগপত্রটি স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৪ আগস্ট ,২০২২/ মওম

 

 

- Advertisement -
- Advertisement -