মিল্লাত হাসানঃ
রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার ১নং খোড়াগাছ ইউনিয়নে এক গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ১০ জুলাই রবিবার উপজেলার জারুল্লাপুরে তরুণীর বাবার বাড়িতে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১১ জুলাই সোমবার ধর্ষিতা মিঠাপুকুর থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান(১৮) মিঠাপুকুর উপজেলার ৭ নং লতিবপুর ইউনিয়নের বৌবাজার এলাকার গোলাপ মিয়ার ছেলে। এজাহার সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে তারা দুজনেই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। ধর্ষিতা তরুণী জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হাবিবুর রহমান বেশ কয়েকবার আমাকে ধর্ষন করেন। এমনকি আমার নিজ বাড়িতে গিয়েও শারীরিক মেলামেশায় লিপ্ত হতেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ জুলাই আসামি হাবিবুর রহমান আমাকে বিয়ের কথা বলে ঢাকা থেকে মিঠাপুকুরে আসতে বলেন। তরুণী আসার পর পরেই হাবিবুর রহমান প্রায় সারাদিন তাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যায় এবং শেষে তরুণীর নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। কিন্তু ধর্ষিতা তরুণী বিয়ের কথা বললে সে বিভিন্ন টালবাহানা দিতে থাকে এবং আসামির দুলাভাইয়ের বাড়িতে বিয়ে হবে এমন আশ্বাস দিয়ে মিঠাপুকুর উপজেলার বলদীপুকুর বাজারের অদূরে বালাপাড়া নামক গ্রামে নিয়ে আসে এবং মেয়েটিকে একা রেখে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ছেলেটি ফিরে আসার নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হলে ছেলেটি ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা না দেখে মেয়েটি, ছেলেটির রেখে যাওয়া নির্দিষ্ট স্থানে অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু রাত গভীর হওয়ার কারণে স্থানীয় জনতা মেয়েটিকে তার অপেক্ষার কারণ জানতে চায়। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়,,গভীর রাতে মেয়েটিকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখে আমরা মেয়েটিকে উক্ত স্থানে আসার কারণ জিঞ্জাসা করিলে মেয়েটি ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ বলেন। ঘটনার বিবরণ শুনে এলাকাবাসী অত্র ওর্য়াডের ইউ, পি, সদস্য মোঃ ওয়াজেদ আলীকে তাৎক্ষণিক বিষয়টি অবহিত করলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন এবং ভিকটিমকে নিজ হেফাজতে বলদীপুকুর বাজারে নিয়ে আসেন। সেখানে ভিকটিমের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ শুনে ভিকটিমের পরিবারের মোবাইল নাম্বার নিয়ে তার পরিবারের বিভিন্নজনকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি সমাধানের লক্ষ্যে আসামির পরিবারকেও বিষয়টি জানিয়ে দেন।ততক্ষনে ভিকটিমের বাবা,মেজো বোন জামাইসহ অত্র এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গসহ ঘটনাস্থানে উপস্থিত হন।পক্ষান্তরে আসামি পক্ষের পরিবার থেকে তার বোন জামাই ঘটনাস্থানে আসেন এবং আসামি কে ডেকে পাঠান।আসামি ঘটনাস্থানে আসিলে স্থানীয় জনগণের জিঞ্জাসাবাদে দুপক্ষের কথার শতভাগ সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ সমাধানের লক্ষ্যে একটি সিদ্ধান্তে উপনিত হন।কিন্তু আসামীর বাবাকে কোনো ক্রমেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত করতে না পারায় ইউ,পি, সদস্য মোঃ ওয়াজেদ আলী ও স্থানীয় ব্যাক্তিবর্গের সিদ্ধান্তনুযায়ি ভিকটিম ও আসামিকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান।পরে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিয়ে আইনানুগ সহযোগিতা চাইলে মিঠাপুকুর উপজেলার ২নং রানীপুকুর ইউনিয়নের বিট পুলিশ ও তার সংগীয় পুলিশ সদস্যসহ রানীপুকুর ইউনিয়ন হইতে ভিকটিম ও আসামিকে থানায় নিয়ে যান। এবং ১১জুলাই নিয়মানুযায়ী ভিকটিম ও তার বোন জামাইকে সাথে নিয়ে থানায় আসামির বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করেন। এ বিষয়ে এস আই ইমরানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করিলে তিনি বলেন,আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধনী/০৩এর ৯(১) ধর্ষণ করার অপরাধে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভিকটিমের সাথে যোগাযোগ করলে ভিকটিম ও তার পরিবারের সদস্যরা বলেন,আমরা ন্যায্য বিচার চাই।
আলোকিত প্রতিদিন/ ১৩ জুলাই ,২০২২/ মওম
- Advertisement -

