আজ রবিবার, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৩ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পুলিশি চাঁদাবাজি ও হয়রানির বিরুদ্ধে অটোরিকশা-ভ্যান চালকদের বিক্ষোভ

আরো খবর

সফি সুমন :

সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ এনে পাঁচ দফা দাবিতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করেন রিকশা, ভ্যান, অটো, টেম্পো যানের বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এতে পুলিশ শ্রমিক ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া, অগ্নিসংযোগসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন পুলিশের এক সদস্যসহ রিকশাচালক অন্তত ১৫ জন। তবে সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে থ্রি-হুইলার শ্রমিকদের আনিত চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টার দিকে আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পলাশবাড়ী এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন পাঁচ শতাধিক থ্রি হুইলার শ্রমিক। প্রায় ২ ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর আশুলিয়া থানা পুলিশ এসে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে যানচলাচল স্বাভাবিক করেন। দরিদ্র রিকশাচালকদের ভাষ্যমতে ‘আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। আমরা পেটের দায়ে রিকশা চালাই। ঘরে বউ সাওয়াল মাইয়া নিয়া আমাদের অভাবের সংসার। গরীব মানুষের রিকশা চালানো ছাড়া উপায় কি? কিন্তু হাইওয়ে পুলিশ আমাদের রিকশা ধইরা ৫ হাজার কইরা ট্যাকা নিয়া খাতাত (খাতায়) লেইখা দেয় মাত্র ২০০০ ট্যাকা। আমরা ঋণ কইরা (করে) সেই ট্যাকা দেই। মাঝে মধ্যে থানার ভেতর থাইকাও আমাগো গাড়ি তারা চুরি কইরা বেইচা দেয়। হাইওয়ে পুলিশ আমাদের গাড়ি ধরে ট্যাকা নেয় আবার মারধরও করে। ভেতরের রাস্তা থাইকাও পুলিশ রিকশা ধইরা নিয়া যায়। আইজ আমাদের দাবি নিয়া আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করছিলাম। কিন্তু পুলিশ আচমকা আইসা লাঠিচার্জ করে আমাদের ১২-১৪ জনের মতো আহত করেছে। আমাদের বেশ কয়েকজনকে ধরেও নিয়ে গেছে।’ অটোরিকশা ও ভ্যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পুলিশি হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ, থ্রি হুইলার চলাচলের জন্য আলাদা লেন ও স্ট্যান্ড নির্মাণ এবং থ্রি হুইলার চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান। এই পাঁচটি দাবি নিয়ে তারা রাজপথে আন্দোলনে নামে।সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান শ্রমিকদের আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সড়কে চলা থ্রি হুইলারের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করি। এরই জেরে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে নানান কথা বলছে। আমরা থ্রি হুইলার আটক করে ২৫০০ টাকার মামলা দেই। ইউক্যাশের মাধ্যমে চালকরা তা পরিশোধ করেন। ইউক্যাশের চার্জসহ ২৬০০ টাকা হয় জরিমানা। আর একই চালক দুইবার জরিমানার আওতায় এলে তখন সরকারি ভাবেই সেই টাকার পরিমাণ হয় ৫ হাজার।’ আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান বলেন, ‘রিকশার শ্রমিকগণ হাইওয়ে রোডে রিকশা চালাতে চায়। কিন্তু হাইওয়ে পুলিশ নাকি তাদের ডিস্টার্ব করে এজন্যই তারা সড়কে আন্দোলনে নেমেছে। তবে চাঁদাবাজি না। আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি, এধরণের কোনো অভিযোগ পেলে আমি ব্যবস্থা নেব। বর্তমানে সড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক। আমরা কোনো শ্রমিক আটক করিনি। বরং শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে আমাদের এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/ ২৭ জুন ,২০২২/ মওম

- Advertisement -
- Advertisement -