আজ রবিবার, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৩ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঘিওরে স্বাস্থ্য খাতে স্বেচ্ছাচারিতা: প্রশাসনের নাকের ডগায় টিনের ঘরেই চলছে এক্সরে

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলায় কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম চরমে পৌঁছেছে, টিনসেড ঘরেই চলছে এক্সরে মত চরম স্পর্শকাতর সেবা। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরেই তেজষ্ক্রিয়তার শিকার হচ্ছে সাধারণ জনগণ। ‘জনসেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ (জনসেবা মেডিকেল সেন্টার যার লাইসেন্স ২০০৪ সালের পর থেকে একবারও নবায়ন করা হয়নাই) এবং ‘ন্যাশনাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামক প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে এদের এক্সরে কার্যক্রম টিনসেড ঘরেই চলছে, নেই দেয়ালের সঠিক পুরুত্ব, এক্সরে রুমের দরজা দেয়া হয়েছে টিনের। অবকাঠামোগত অনিয়মের পাশাপাশি দক্ষ্য জনবলের ঘাটতিও চোখে পড়ার মত, কোন প্রতিষ্ঠানেই নেই এক্সরে টেকনোলজিষ্ট এমনকি কোন কোন প্রতিষ্ঠানে এক্সরে করানো হয় খোদ পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মাধ্যমে।

এসব প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাচারিতায় বিনা অবোকাঠামোতে রমরমিয়ে ব্যবসা চালালেও দীর্ঘদিন যাবত ব্যাপক তেজষ্ক্রিয়তার শিকার হয়ে আসছেন সাধারণ জনগণ এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীগণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আশে পাশে বসবাসরত  গর্ভবতী নারী ও শিশুরা। পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে তেজষ্ক্রিয়তা ফলে মাঠের ফসল ও পকুরের মাছেরও ব্যাপক ক্ষতি সাধন হচ্ছে। এদিকে অদক্ষ্য লোকবল এর মাধ্যমে করা  ভুল এক্সরের কারণে আর্থিকভাবে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রামের সাধারণ রোগী তেমন বিঘ্নিত হচ্ছে সঠিক চিকিৎসা সেবা ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর সামনে এসব অনিয়ম দেখেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না কর্তব্যরত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হাসিব আহসান। এ মাসেও দুই দুইবার ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো পরিদর্শনে যান তিনি, তার সাথে ছিলেন সেনেটারি ইন্সপেক্টর মোয়াজ্জেম হোসেন , সরজমিনে পরিদর্শন করেও চোখ বন্ধ করে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অলিখিত অনুমতি দিয়ে আসেন তারা। এদিকে ‘ঘিওর আধুনিক হাসপাতাল’  নামক প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স না থাকার পরেও কোনরকম লিখিত নোটিশ না দিয়ে শুধুমাত্র মৌখিকভাবে বন্ধ  রাখার নির্দেশ দিয়েই দায় এড়ান স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকতা । কিন্তু বন্ধ হওয়ার এক দিন  পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি আবার চালু করা হয়, সে বিষয়েও তেমন কোন নজরদারি লক্ষ্য করা যায়নি। চালু হয়ার পর এ বিষয়ে আর কোন পদক্ষেপও নিতে দেখা যায়নি তাদের। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনেই হচ্ছে এসব অনিয়ম, অথচ তিনি কোন পদক্ষেপ না নিয়ে কেন বসে আছেন সে বিষয়টি বোধগম্য হচ্ছেনা সাধারণ জনগণের।

প্রতিবেদকের তদন্তে দেখা গেছে, সেনেটারি ইন্সপেক্টর মোয়াজ্জেম হোসেন প্রতি মাসে কমপক্ষে একবার পরিদর্শন করেন এসব প্রতিষ্ঠান, কিন্তু শুধুমাত্র চা নাস্তা খেয়েই বেরিয়ে যান, আর অলিখিত অনুমতি দিয়ে যান এসব কার্যক্রম চালানোর। তার বিরুদ্ধে আরো নানা অনিয়মের অভিযোগও উঠে আসে আমাদের তদন্তে, শুধুমাত্র এইসব প্রতিষ্ঠানই নয় ঘিওরের আরো নানা প্রতিষ্ঠান, হোটেল, বেকারি ও মিষ্টির দোকানেও এভাবেই প্রতি মাসে দুই একবার পরিদর্শন করেন তিনি, সাথে খেয়ে আসেন চা-নাস্তা। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান তাকে মাসিক চাঁদা পর্যন্ত দেয় (নিজাম সুইটস, সততা বেকারি, প্রায় সকল হোটেল ও চায়ের দোকান, বিশেষ করে মিষ্টি পট্টির সকল মিষ্টির দোকান)। একটা মৃত্যু সনদ উঠাতে হলে তাকে ৫-২০ হাজার পর্যন্ত টাকা দিতে হয়।
কোন প্রতিষ্ঠান তার এরকম পরিদর্শনে বিরোধিতা করলে সেই প্রতিষ্ঠানকে মোবাইল কোর্ট করে জরিমানা করার ভয় ভীতি দেখানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে। জরিমানার ভয়ে কেউ সামনাসামনি কথা বলার সাহস দেখাতে পারছেন না, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মিষ্টির দোকানদার বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা করে খেতে হবে, এসব নিয়ে কথা বললে যদি মোবাইল কোর্ট করে ২০-৫০ হাজার জরিমানা করলে ২-৩ মাসের ইনকাম একেবারে চলে যবে, প্রত্যেক মাসেই একটার পর একটা ঝামেলা করবে , শেষমেষ ব্যবসা গুটিয়ে বাড়িতে গিয়ে না খেয়ে মরতে হবে ’।

আলোকিত প্রতিদিন ডেস্ক
- Advertisement -
- Advertisement -