আজ সোমবার, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রংপুরে আজ থেকে হাঁড়িভাঙা আমের বাজারজাত শুরু

আরো খবর

নুরুন্নবী নুরু:
বড় প্যান্ডেল সাজিয়ে ঢাক ঢোল কিংবা ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন না হলেও খুব সকালে বাগানে বাগানে উৎসাহ এবং উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে হাঁড়িভাঙ্গা আম পারা। আর এরই মধ্যদিয়ে আজ ১৫ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাজারজাত। যা আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পূর্বে এ তারিখ নির্ধারন করে দিয়েছিলো জেলা প্রশাসন।  সরেজমিনে দেখা যায়, ১৫ জুন বুধবার সকাল থেকেই বাগানে বাগানে আম চাষিদের পরিবারের প্রায় সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে শুরু হয় গাছের আম পারা। কেউ কেউ ধর্মীয় রীতি নীতি অনুযায়ী আম পারা শুরু করেন। বাগানে বাগানে আম চাষিদের সবার হাতে হাতে আম পারার কোটা, কোটার টুং টাং শব্দ, আমগাছের পাতা মরমর শব্দ, সবিমিলিয়ে তৈরী হয় কোলাহল পূর্ণ পরিবেশ। বাগানে থেকে আম নিয়ে ছোট বড় পিকআপ ভ্যান, রিক্সা ভ্যানে হাঁড়িভাঙ্গা আমের রাজধানী খ্যাত পদাগঞ্জের পথে ছুটে চলাই বলে দিচ্ছে অন্যান্য দিনের থেকে আজকের দিনটি আম চাষিদের কাছে অন্যরকম একটি দিন। আম চাষি এবং ক্রেতা সাধারণের পদচারণায় মুখুরিত পদাগঞ্জের হাট। হাটে যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই আম আর আম। এছাড়াও রংপুরের বাসটার্মিনাল, দর্শনা মোড়, লালবাগ, সিটি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে আঁশবিহীন ও সুমিষ্ট হাঁড়িভাঙ্গা আম। এদিকে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাজারজাতের শুরুর দিনে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে দাম চড়া অভিযোগ সাধারণ ক্রেতাদের। আমের অধিক মুকুল এলেও কয়েকবারের কালবৈশাখী তাণ্ডবের কারনে আমের ফলন কম হয়েছে। যার কারনে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাজারজাত এর শুরুর দিন থেকেই দাম একটু বেশি বলে জানিয়েছেন আম চাষিরা। হাঁড়িভাঙ্গা আম আঁশবিহীন হওয়ায় এবং অত্যন্ত সুমিষ্ট হওয়ার মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। শুরুতে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ,বদরগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপকভাবে এই আমের চাষ হতো। এখন মিঠাপুকুর ছাড়াও জেলার বাহিরে নীলফামারীর সৈয়দপুর, সদর, দিনাজপুরের পার্বতীপুর, খানসামা, চিরিরবন্দর এলাকায়ও চাষ হচ্ছে হাঁড়িভাঙা। গতবছরের তুলনায় এবার ফলন কম হলেও হেক্টর প্রতি ১২-১৫ মন আম পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। এ বছর ২০০-২২০ কোটি টাকার আম বিক্রির আশা করছেন স্থানীয় আম চাষিরা। জেলার বদরগঞ্জ পৌর শহরের আম চাষি সাইফুল ইসলাম রানা জানান, আজকে বাগানের আম পারা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিক্রিও হয়েছে। শুরুর দিনেই দাম ভালো পাওয়ায় খুশি তিনি।  কাঁচাবাড়ি হাটের বাগান মালিক আজমল হক আদিল জানান, এবার আমের ফলন কম হলেও আবহাওয়া ভালো থাকায় লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। একই এলাকার আমচাষি বুলু মিয়া প্রায় ১০ বিঘা জমিতে আমবাগান করেছেন। তিনি বলেন, গত দুই বছর করোনার কারণে তেমন ব্যবসা না হলেও এবার খুব ভালো ব্যবসা হবে। তবে ঝড় এবং শিলাবৃষ্টির কারণে এবার আমের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে হাঁড়িভাঙা আমের জন্য প্রসিদ্ধ এলাকা পদাগঞ্জ ও বদরগঞ্জে দুটি হাটও রয়েছে। পদাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ এলাকার আমচাষিরা সাধারণত বাগান বিক্রি করেন না। তাঁরা প্রতিদিন গাছ থেকে আম পেড়ে পদাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ হাটেই বিক্রি করেন। দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এখানে সরাসরি এসে আম কিনে থাকেন। এভাবে প্রতিদিন হাটে আম বিক্রি করলে চাষিরা লাভবান বেশি হন।তবে আম বিপণন এবং বাজারজাতের সঙ্গে জড়িত এক শিক্ষার্থী অভিযোগ তুলে বলেন, হাড়িভাঙ্গা আমের মূল ব্যবসা সদর ইউনিয়নের পদাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে হাটভিত্তিক হলেও, হাট দুটির বর্তমান অবস্থা বেশ নাজুক, সামান্য বৃষ্টিতেই হাটু কাঁদা মাড়িয়ে বাজারে আসতে হয়। শত কোটি টাকার বানিজ্য হয় এই হাট দুটি ঘিরে, কিন্তু বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই হাটটির বেহাল অবস্থার কারণে। কৃষি বিপনন অধিদপ্তর রংপুরের উপ-পরিচালক আনোয়ারুল হক জানান, গত ৭ জুন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে আলোচনা সাপেক্ষে ১৫ জুন আম বাজারজাত এর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিলো সেই মোতাবেক আজকে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আম বাজারজাত শুরু হয়েছে। বাস্তবতার নিরিখে আমের দাম নির্ধারিত হবে। যদিও দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। অধিক দাম কিংবা হাঁড়িভাঙ্গা আমের জন্য ক্ষতিকর পরিবেশ কেউ সৃষ্টি করছে এমন বিষয় প্রশাসনের নজরে আসলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।  রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান জানান, এবার ১ হাজার ৮৮৭ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। গতবছরের তুলনায় ফলন কম হলেও হেক্টর প্রতি ১২-১৫ টন আম আসবে। যা চাষিদের লাভবান করবে।
আলোকিত প্রতিদিন / ১৫ জুন ,২০২২/ মওম
- Advertisement -
- Advertisement -