আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনে আরও দীর্ঘ পাল্লার অস্ত্র পাঠানো অব্যাহত রাখলে দেশটির নতুন নতুন টার্গেটে হামলা চালানো হবে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো রবিবার কিয়েভে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দের পর এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পুতিন।কিয়েভে বিস্ফোরণের পর রাশিয়া বলেছে, তারা ইউরোপীয় দেশগুলোর পাঠানো ট্যাংকে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন অবশ্য দাবি করেছে তাদের রেলওয়ে মেরামত কারখানায় হামলা হয়েছে। রাশিয়া ডনবাস অঞ্চলে মনোযোগী হওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গোলাবর্ষণ কমে যায়। মাঠ পর্যায়ের যুদ্ধে রাশিয়া ধীর হলেও ক্রমাগত অগ্রগতি অর্জন অব্যাহত রেখেছে। তবে কয়েকশ’ মাইল দূরের দেশগুলো কিয়েভে অত্যাধুনিক অস্ত্র পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সবশেষ যুক্তরাষ্ট্র এম১৪২ হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম বা হিমার্স পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। এটির মাধ্যমে পূর্ব নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানা যায়, যা বর্তমানে ইউক্রেনের কাছে থাকা অস্ত্রের চেয়ে অনেক আধুনিক। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলায় ব্যবহার হবে না- প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির কাছ থেকে এমন আশ্বাস পাওয়ার পরই তারা ইউক্রেনকে রকেট সরবরাহে রাজি হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্যাকেজের মধ্যে আরও আছে হেলিকপ্টার, ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র, কৌশলগত অস্ত্র এবং যন্ত্রাংশ। জার্মানিও তাদের সবচেয়ে অত্যাধুনিক সিস্টেম-আইরিস টি পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। এ অস্ত্রের মাধ্যমে রাশিয়ার বিমান হামলা থেকে পুরো একটি শহর রক্ষা করতে পারবে ইউক্রেন। রবিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘সাধারণভাবে আমার মতে, অতিরিক্ত অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে এই সমস্ত গোলমালের একটাই লক্ষ্য, যতটা সম্ভব সশস্ত্র সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তোলা।’ রুশ নেতা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্র ‘নতুন কিছু নয়’। তবে রুশ নেতা আরও দীর্ঘ পাল্লার অস্ত্র পাঠানোর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘যদি সেগুলো সরবরাহ করা হয় তবে আমরা এর থেকে উপযুক্ত সিদ্ধান্তে আঁসব এবং আমাদের অস্ত্র ব্যবহার করবো, আমাদের কাছে যথেষ্ট আছে, সেই লক্ষ্যগুলোতে আঘাত করার জন্য যা আমরা এখনও আঘাত করছি না।’
আলোকিত প্রতিদিন / ০৬ জুন ,২০২২/ মওম সূত্র: বিবিসি
- Advertisement -

