আজ বুধবার, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ২৫ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

উপকূলের সাড়ে ৬ হাজার পরিবার ঝুঁকিমুক্ত

আরো খবর

প্রতিনিধি,কলাপাড়া (পটুয়াখালী):

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পে পাঁকাঘর পটুয়াখালীর এমন সাড়ে ছয় হাজার ভূমিহীন, ছিন্নমুল, নদীতে ভাসমান, প্রান্তিক নিম্নআয়ের পরিবারে এনে দিয়েছে দুর্যোগকালীন সময়ে নিরাপত্তা। এখন ঝড়-বৃষ্টি-জলোচ্ছাসে আর শংকা নেই জীবন কিংবা সম্পদ হারানোর। দুর্ভোগ পোহাতে হয়না সামান্য বৃস্টিতে। ভোগান্তি পোহাতে হয়না দৈনন্দিন জীবনে। বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছেনা দৈনিক কর্মের জীবন।  জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে প্রতি বছরই আঘাত হানে ছোট-বড় ঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা বন্যা। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় বেরিবাঁধের বাইরে ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস করা নিম্নআয়ের প্রান্তিক মানুষদের। জেলার ৬ হাজার ৫শ’ ২৮টি ভূমিহীন, গৃহহীন নিম্নআয়ের পরিবারকে তিন দফায় পূর্ণবাসিত করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায়। সকল নাগরিক সুবিধা সম্বিলিত একটি করে পাঁকাঘর এসব পরিবারকে বসবাসের সুবিধা দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্যোগ প্রবন উপকূলীয় এ জেলার ঝুঁকিতে বসবাস করা এসব পরিবারের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে । একই প্রকল্পের আওতায় শত বছরের অধিক সময় ধরে নদীতে ভাসমান মানতা জনগোষ্ঠীকে পূর্নবাসিত করা হয়েছে ডঙ্গায়। এ জনগোষ্ঠীর স্থলে ছিল না কোন আবাসভূমি। জীবনবাজী রেখে ঝড় কিংবা জলোচ্ছাসে নদীতে নৌকায় ছিল এদের বসবাস। এ জনগোষ্ঠীকেও রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের দক্ষিন চরমোন্তাজ গ্রামের তেঁতুলিয়া নদীর পাড় ঘেঁষে সরকারি খাস জমিতে নির্মান করে দেয়া হয়েছে মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সেমিপাকা ঘর। ষাটার্ধো মানতা নারী জরিনা বেগম বলেন, সারাক্ষন ভয় নিয়ে নৌকায় বসবাস করতাম। নৌকায় থাকায় হঠাৎ করেই ছাড়া ঝড়ের কবলে পড়তে হত। অনেক সময় নৌকা ডুবে যেত। বৃস্টিতে নৌকায় ভিজতে হত। ডাঙ্গায় জমি না থাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নৌকায় বসবাস করতাম। ছোট নৌকায় ৫ থেকে ৭ জনের ঠাসাঠাসি করে বসবাস করতে হত। এখন আর সে কস্ট নেই। মানতা সম্প্রদায়ের রুস্তুম সরদার (৭০), শাহজাহান সরদার (৬৮) বলেন, সিডর, আইলা, রেশমীতে আমাদের অনেকর পরিবারের সদস্য হারিয়েছি। জীবিকা নির্বাহের সম্পদ নৌকা হারিয়েছি। এখন তা নেই। ডাঙ্গার পাকাঘরে নিশ্চিন্তে থাকি। প্রিয়জন কিংবা কষ্টের সম্পদ হারানোর কোন ভয় নাই।  রাঙ্গাবালী উপজেলা র্নিবাহী অফিসার মাসফাকুর রহমান বলেন, দুর্যোগ ঝুঁকিতে থাকা এ জনগোষ্ঠীর প্রতিটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে জমিসহ স্থায়ী আবাসন সুবিধা দেয়া হবে। এদের জীবনমান উন্নয়নে দেয়া হচ্ছে সরকারের সামাজিক সুরক্ষাসহ নানা প্রনোদনা। কলাপাড়া উপজেলা র্নিবাহী অফিসার আবু হাসনাত মো.শহিদুল হক বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের এমন সক্ষমতা অর্জনে উপকূলীয় জীবনযাত্রায় আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন।

আলোকিত  প্রতিদিন / ৩০ মে ,২০২২/ মওম 
- Advertisement -
- Advertisement -