ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পশ্চিমাদেশগুলো। অন্যদিকে ইউক্রেনের সমুদ্রবন্দরগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে রাশিয়া। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে চরম খাদ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দেশে দেশে বাড়ছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি। বেড়ে গেছে জীবনযাত্রার ব্যয়। তাই জাতিসংঘ ইউক্রেনের বন্দরগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়ার জন্য রাশিয়ার কাছে আবেদন করেছে। কিন্তু রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এজন্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করতে হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। জানা গেছে, শস্য উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে ইউক্রেন অন্যতম। দেশটির অধিকাংশ পণ্য সমুদ্রবন্দরগুলোর মাধ্যমে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু রাশিয়ার আক্রমণের পর দেশটি ট্রেন এবং ছোট দানিউব নদী ব্যবহার করে পণ্য রপ্তানি করছে। জাতিসংঘের খাদ্যবিষয়ক প্রধান ডেভিড বিসলে বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন, যদি আপনার কোনো হৃদয় থাকে তবে দয়া করে এই বন্দরগুলো খুলে দিন। এরফলে রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই রুডেনকো বলেছেন, শুধু রাশিয়ার কাছে আবেদন করলে হবে না, খাদ্য সংকটের মূল কারণের দিকে নজর দিতে হবে। মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণেই স্বাভাবিক বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে।ইউক্রেন এবং রাশিয়া বিশ্বব্যাপী খাদ্যের ১০ ভাগের এক ভাগ সরবরাহ করে। তারা বিশ্বের গম রপ্তানির ৩০ শতাংশের পাশাপাশি সূর্যমুখী তেলের ৬০ শতাংশ উৎপাদন করে। কমপক্ষে ২৬টি দেশ তাদের অর্ধেকেরও বেশি খাদ্যশস্যের জন্য রাশিয়া এবং ইউক্রেনের ওপর নির্ভরশীল ।
আলোকিত প্রতিদিন / ২০ মে ,২০২২/ মওম

