7:58 am |আজ সোমবার, ৯ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২৩শে মে ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরি




‘এ্যালা খাং-না খাং আইতোত শান্তি করি ঘুমবের পাইম বা’

‘এ্যালা খাং-না খাং আইতোত শান্তি করি ঘুমবের পাইম বা’




প্রতিনিধি , কুড়িগ্রাম
‘বা বেটার ঘরোত বউয়ের নাটি-ঝাটা খায়া মাটি কামড়ে আছনু। এদোন ঘর পাইম কল্পনাও করোং নাই। শেখের বেটি মোর আত্মাটা শান্তি করি দিছে। এ্যালা খাং-না খাং আইতোত শান্তি করি ঘুমবের পাইম।’ এই ঈদে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেয়ে এমন অভিব্যক্তি ব্যক্ত করলেন সত্তোর্ধ আলো বেগম।
স্বামী মারা যাওয়ার পর ভাইয়ের গলগ্রহে ছিলেন সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের ছড়ার পাড় গ্রামের বিউটি বেগম। আজ তার হাতে যখন ঘরের বরাদ্দ বুঝিয়ে দেয়া হল তখন সজল চোখে তিনি বললেন, ‘বেটাক নিয়া আজ আইতোত শান্তি করি থাকপের পাইম। এ্যালাও মোর বিশ্বাস হবার নাগছে না এদোন সুন্দর ঘর মোর কপালোত জুটবে।’
মঙ্গলবার দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নে অবস্থিত ধরলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের ঘর বরাদ্দকালে এমন ঘটনার অবতারণা হয়। সারাদেশে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বরাদ্দের সময় সুবিধাভোগীরাসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. পনির উদ্দিন আহমেদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, পৌর মেয়র মো. কাজিউল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাসেদুল হাসানসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ।
কুড়িগ্রামে এসময় উপকারভোগীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬৩১টি ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়। এসময় জমির দলিরপত্রও হস্তান্তর করা হয়। প্রত্যেকটি ঘরে বিদ্যুৎ, রাস্তা, স্যানেটারি ও পানিসহ সকল সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলার ছিন্নমূল, গৃহহীন ও হতদরিদ্ররা মালিক হলেন এসব ঘরের। এরমধ্যে কুড়িগ্রাম সদরে পেলেন ৮২জন, নাগেশ্বরীতে ৮০জান, ভুরুঙ্গামারীতে ৬০জন, ফুলবাড়ীতে ৬২জন, রাজারহাটে ৭০জন, উলিপুরে ৬৩জন, চিলমারীতে ১১০জন, রৌমারীতে ৪০জন এবং চর রাজীবপুর ৬৪জন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলোর নিকট জমিসহ ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্ধোধন ঘোষণা করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরই উপকারভোগীরা আনন্দ উল্লাস করে ওঠেন।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু জানান, এবারের ঈদ গৃহহীন মানুষদের জন্য অনেক মহার্ঘ অনেক আনন্দের। মানুষ ঈদে সেমাই-চিনি বা কাপড় উপহার হিসেবে পায়। আর এরা পেল মাথা গোঁজার ঠাঁই। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এই নেতা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, তৃতীয় পর্যায়ে অন্তর্ভূক্তিমূল উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মডেল হিসেবে কুড়িগ্রাম জেলায় ৬৩১টি পরিবার ঘরগুলো উপহার হিসেবে পেল। এখন পর্যন্ত জেলায় ৪ হাজার ১২০টি ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে ১ম দফায় ১হাজার ৫৬৯টি, দ্বিতীয় দফায় ১হাজার ৭০টি এবং তৃতীয় দফায় ১হাজার ২৫৯টিসহ মোট ৩ হাজার ৮৯৮টি ভূমিহীন পরিবারের জন্য ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ২৭০টি পরিবারের মাঝে ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। এ জন্য ৩ একর ৬৭ শতক খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চর এলাকায় বিশেষভাবে তৈরী ৩৯২টি ঘরও শীঘ্রই হস্তান্তর করা হবে।
এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. পনির উদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দল এবং সরকারের মধ্যে যতই সমালোচনা হোকনা কেন প্রধানমন্ত্রী এ কাজের জন্য ধন্যবাদ প্রাপ্ত। আমরা চাই পর্যায়ক্রমে কুড়িগ্রামের অন্যান্য ভূমিহীনরাও ঘর উপহার পাক।

 

আলোকিত প্রতিদিন/ দ ম দ

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন











All rights reserved. © Alokitoprotidin
এস কে. কেমিক্যালস এগ্রো লি: এর একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান