সাইফুল ইসলাম
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সেনেরচর চরধীপুর কাচারিকান্দি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৭ মাসের গর্ভবতী নারীর বাচ্চা নষ্ট হওয়া সহ উভয়পক্ষের ১৯ জন আহত হয়েছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ০৫ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর তিনটার দিকে এই সংবাদ লেখার সময়ও এলাকায় পাল্টাপাল্টি অবস্থানে রয়েছে দুই পক্ষ। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে জমায়েত রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এলাকাটি দুটি গ্রুপে বিভক্ত। একটি গ্রুপ বাদশা সর্দার (৭০), সাদেক সর্দার (৮০) ও শাহিন মোল্লা (৩৫) নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন এবং অপর গ্রুপটি খবির সর্দার নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। সরেজমিনে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জানুয়ারি ৬ষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়। সে নির্বাচনে সেনেরচর ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য প্রার্থী রফিক সর্দার এবং মিনারা বেগম পরাজিত হলে, বিজয়ী প্রার্থী দেলোয়ার সর্দার ও তানিয়া আক্তার সমর্থকদের সাথে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। পরাজিত প্রার্থীরা বিজয়ী প্রার্থীদের বাজারে যাওয়া আসার পথে বাধা সৃষ্টি করে। এনিয়ে বিজয়ী প্রার্থীরা থানা পুলিশে অভিযোগ করলে, পরাজিত প্রার্থীর সর্মথকরা ক্ষেপে গিয়ে গতকাল সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টার সময় হঠাৎ করে দুই থেকে আড়াইশত লোক আক্রমণ চালায়। ফুটানো হয় শতাধিক ককটেল বোমা, ভাঙচুর করা হয় ঘরবাড়ি, লুট করা হয় স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা। হামলায় নারী-পুরুষ সহ উভয়পক্ষের ১৯ জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ হামলায় শারমিন আক্তার (২৫) নামের ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারির গর্ভের বাচ্চা নষ্ট হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে ৭ জন, তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন ইমরান (২৫), শিপন সর্দার (৩৫), মেম্বার দেলোয়ার সর্দার (৫০), মোজাম্মেল সর্দার (৩৫), সালাম সর্দার (৫৫) ও অপর পক্ষের রশিদ সর্দার (৬৫) ও হনুফা বেগম (৪০)। হামলার শিকার খবির সর্দারের স্ত্রী জানান, নিলুফা, ময়না ও আমার ঘর সহ তিনটি ঘরে প্রায় ২২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৬ লক্ষ ৬০ হাজার নগদ টাকা, টিভি, ফ্রিজ সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র লুটপাট করা হয়। সাহিন মোল্লা ও বাদশা সর্দার জানান, আমরা এ মারা মারির নেতৃত্ব দেইনি। ঘটনার সময় আমরা কাছে ছিলাম না। আমাদের বিষয়ে যে কথা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও (ওসি) তদন্ত ফারুক আহমেদ জানান, ঘটনার সাথে সাথে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। উভয় পক্ষ মামলা করেছে। এ ঘটনায় শাহজাহান মোল্লা (৪৫) নামের এক ব্যক্তি কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে ।
আলোকিত প্রতিদিন/ ০৫ এপ্রিল, ২০২২/ মওম
- Advertisement -

