ক্রীড়া ডেস্ক
প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২০৪ রানে বেঁধে ফেলেছে বাংলাদেশ। এতে সফরকারী বাংলাদেশের জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ২৭৪। চতুর্থ ইনিংসে কঠিন এই লক্ষ্যে খেলতে নেমে ইতোমধ্যে ১১ রান তুলতেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারিয়েছে মুমিনুলের দল। শেষ দিনে সাত উইকেট হাতে নিয়ে বাংলাদেশকে তুলতে হবে আরও ২৬৩ রান। ইতিহাস খুব একটা পক্ষে থাকছে না, সেখানে প্রায় অসম্ভব এই লক্ষ্য টপকানোর স্বপ্ন বাংলাদেশের! চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন এসব কথা জানিয়েছেন।শেষ দিনে নিজেদের পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে সুজন বলেছেন, সোমবার জিততে হলে ২৬৩ রান করতে হবে। কিন্তু ড্র করতে হলে পুরো ৯০ ওভার ব্যাট করতে হবে। আমি মনে করি সারাদিন ব্যাট করলে অবশ্যই ম্যাচ জেতার সুযোগ থাকবে। কথা হচ্ছে সোমবার সকালে কেমনভাবে শুরু করি। এখনও বেঞ্চে দুজন ভালো খেলোয়াড় আছে। মুশফিক-শান্ত উইকেটে। এরপরে লিটন ও ইয়াসির আছে। এখনও আমাদের সুযোগটা আছে। জানি কন্ডিশন কঠিন, বল টার্ন করছে, নিচু হচ্ছে। তবে এখনও আমরা জেতার আশা ছাড়ছি না।’ কিংসমিডে এই স্কোর বা তার বেশি তাড়া করে জেতার ইতিহাস খুব একটা নেই। মাত্র ৩টি। সর্বশেষ ২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কা ৩০৩ রান তাড়া করে জিতেছিল। সর্বশেষ টেস্টে ৫২ রানে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছিল শ্রীলঙ্কা। তবে কুশল পেররার মহাকাব্যিক ১৫৩ রানের ওপর দাঁড়িয়ে ১ উইকেটে জয় পায় লঙ্কানরা। ওই ম্যাচ থেকে অনুপ্রেরণা নিচ্ছে বাংলাদেশও, ‘২৬৩ চেজ করার মতো স্কোর। তবে কন্ডিশন বিবেচনা করে একটু কঠিন। বোলাররা ভালো করেছে, এখন ব্যাটারদের পালা। যদিও আমরা তিন ব্যাটারকে হারিয়েছি। তার পরেও বিশ্বাস করি আমরা ভালো করতে পারি। সাদমান, জয়, মুমিনুল ফিরে গেলেও ক্রিজে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম আছেন। সুজন বিশ্বাস করেন, যারা আছেন তারা ধৈর্য্য নিয়ে খেলতে পারলে ম্যাচ জেতা সম্ভব, ‘আমার মনে হয় জয়ের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং পুরো দলের জন্যই অনুপ্রেরণার ব্যাপার। একটা ছেলে নতুন এসে এরকম ব্যাট করেছে। মুশফিক আমাদের সবচেয়ে সিনিয়র, সবচেয়ে অভিজ্ঞ; তার থেকে আমাদের প্রত্যাশা অবশ্যই বেশি থাকবে। শান্ত আছে উইকেটে। আগেই বলছিলাম লিটন দাস, রাব্বি আছে। মিরাজেরও টেস্ট ম্যাচে একশ করার নজির আছে। সুতরাং আশাবাদী, এখনো যদি ধৈর্য্য নিয়ে ব্যাট করতে পারি, সময় নিয়ে ব্যাট করি তাহলে এই ম্যাচে জেতাও সম্ভব। এখান থেকে ড্র করার চান্সটা কম। হয় আমরা জিতবো না হয় হারবো।’ রবিবার শেষ বিকালে দলের পরিকল্পনা ঠিক কী ছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন বলেছেন, ‘সব ব্যাটাররা টিকে থাকতেই যায়। যদি জয়ের কথাই বলি, প্রথম ইনিংসে চার ঘণ্টার ওপরে ব্যাটিং করেছে। ৩০০ ওপরে বল খেলেছে। ওকে নিয়েতো প্রশ্নই নেই। মুমিনুলের কথাতো আমরা জানি সে কতটা ধৈর্য্য নিয়ে ক্রিকেট খেলে। সাদমানও তেমনই খেলোয়াড়। পরিকল্পনা ওইরকমই ছিল যে, আজকে উইকেট দিবো না। রানটা বড় কথা ছিল না, দিনটা পার করাই ব্যাপার ছিল।’কিন্ত সেটা হয়নি ।
আলোকিত প্রতিদিন/ ০৪ এপ্রিল, ২০২২/ মওম

