আজ রবিবার, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৩ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মৃগীতে রোকন মোল্লার বিরুদ্ধে পাখি নিধন ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ ইটভাটা নির্মাণের অভিযোগ

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি:

প্রতি বছরের মতো শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজবাড়ীর কালুখালীর বিভিন্ন বিল-অঞ্চলের ঝাঁকে ঝাঁকে  ও মাঠে ঘাটে আসতে শুরু করেছে দেশি ও অতিথি পাখি।

পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠছে নিম্নভূমি ও তার আশপাশের এলাকাগুলো। এ সুযোগে সৌখিন ও পেশাদার পাখি শিকারিরা বন্দুক, বিষটোপ, জাল ও বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পেতে এসব পাখি নিধন শুরু করছে।  তম্মধ্যে রাজবাড়ীর মৃগীতে রোকন মোল্লার বিরুদ্ধে এয়ারগান দিয়ে পাখি নিধনের অভিযোগ উঠেছে।
পাখি শিকার করা আইনত নিষিদ্ধ হলেও এ ব্যাপারে প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, ১৯৭৪ সালে বন্য প্রাণি রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্য প্রাণি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দণ্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে অপরাধীর দুই বছরের জেল, দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে  পাখি নিধনকারী রোকন মোল্লা ও অন্যান্য নিধনকারীরা এসব আইনের তোয়াক্কাই করছে না।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবছরও শীতের শুরুতে সুদূর হিমালয় ও সাইবেরিয়াসহ শীত প্রধান অঞ্চল থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি রাজবাড়ীর মৃগী ও তার আশে পাশের মাঠে ঘাটে আসতে শুরু করেছে। এ অতিথি পাখির আগমনের কারণেই স্থানীয় শিকারীরা মাঠে নেমে মেতে উঠেছে পাখি নিধনের মহোৎসবে। শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে গেলে বালি হাঁস, জলপিপি, কোম্বডাক, সরালী কাস্তে চাড়া, পাতাড়ি হাঁস, কাঁদা খোচা, হুরহুর, খয়রা, সোনা রিজিয়া ইত্যাদি পাখিরা পূর্বের স্থানে ফিরে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, পাখি নিধনকারী রোকন মোল্লা ও তার সহ সঙ্গীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে যাবে কে? কথা বলতে গেলেই পাখির বদলে এয়ারগানের গুলি আমাদের গায়ে এসে পড়বে।

এ বিষয়ে মৃগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ মতিন জানান, ‘ আমি রোকন মোল্লার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আগে পাখি শিকার করতেন বলে স্বীকার করেন। ‘ চেয়ারম্যান আরো জানান, ‘ আব্দুল গণির ছেলেরাও পাখি শিকার করেন। তবে আমি এখন থেকে খেয়াল রাখবো। ‘

এ ব্যাপারে কথা বললে কালুখালী উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, পশু ও প্রাণীর সেবা বা সুস্থ করাই দায়িত্ব আমাদের। বনবিভাগ এ  ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা রাখেন।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার আতিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তারা এ ব্যাপারে অবগত নন। অনতিবিলম্বে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/ ২৫ জানুযারি, ২০২২/ দ ম দ

- Advertisement -
- Advertisement -