ইব্রাহিম খলীল
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে খুলনা বিভাগ তথা সাতক্ষীরা জেলা অবস্থিত । আর এই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘিরে রয়েছে ছোট বড় বিভিন্ন নদ-নদী। এসব নদ-নদীর অপর প্রান্তে সংযোগ রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের। দেশে সন্ত্রাসীরা নিজেদের শক্তির জানান দিতে নদী পথের সাহায্যে অস্ত্র চোরাচালান,স্বর্ণ, মুদ্রাপাচার, মানবপাচার ও হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে গড়ে তুলেছে শক্তিশালী সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক। যা দেশ ও জাতির জন্য মারাত্বক হুমকী স্বরূপ। এর প্রেক্ষিতে একটি বিশেষ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা দেশের মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে ৬২০ জন কতিপয় চোরাকারবারী, মুদ্রা ও হুন্ডি ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরী করেন। তৎকালীন সেই তালিকা জমা পড়ে প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তালিকাটি দেওয়া হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয় থেকে তালিকাটি ২০১৮ সালের মার্চ মাসের শেষের দিকে যায় বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরে। এরপর উক্ত তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা পুলিশ সদর দপ্তরকে অবগত করতে দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপারদের কাছে চিঠির সাথে তালিকাভুক্ত কতিপয় ব্যক্তিদের নামের তালিকা যুক্ত করে দেওয়া হয়। এসময় তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। চোরাকারবারী মুদ্রা ও হুন্ডি ব্যবসায়ীদের তালিকার নেপথ্যে আছে কতিপয় রাজনীতিবিদ,ব্যবসায়ী,পুলিশ সদস্য,ব্যাংক কর্মকর্তা,কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা, সি,এন্ড,এফ এজেন্ট এবং ইমিগ্রেশনের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী। দেশে ৬২০ চোরাকারবারী মুদ্রা ও হুন্ডি ব্যবসায়ীদের তালিকার মধ্যে অপরাধ চক্রের মূল হোতা ও গডফাদার ছিলেন ৭৫ জন এবং বাকীরা ছিলেন সহযোগী। উল্লিখিত তালিকায় নাম আসে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৩নং বৈকারী ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান ওরফে অসলের নাম। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারী গ্রামের প্রয়াত রুহুল আমিন সরদার ওরফে রয়েল সরদারের ছেলে। চোরাকাবারী,মুদ্রা, হুন্ডী ব্যবসায়ী ৬২০ জনের তালিকার ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, তালিকাভুক্ত অপরাধীরা এজেন্ট এবং সাব- এজেন্টর মাধ্যমে টাকা ও বিদেশী মুদ্রা প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করছে। পাচারকৃত অর্থের একটি বড় অংশ দিয়ে কেনা হচ্ছে আগ্নেয়অস্ত্র। উল্লেখ্য ,সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারী গ্রামের আসাদুজ্জামান ওরফে অসলে অতীতে খাস জমির উপর দুচালা ঘর বেঁধে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি আজ কোটিপতি। তার কোটিপতি হওয়ার পেছনে রয়েছে মানব পাচার, স্বর্ণ, মুদ্রা ও অস্ত্র চোরাকারবারী ব্যবসা। তিনি এসব অপকর্মের প্রধান রুট হিসেবে বৈকারী সীমান্তবর্তী সোনাই নদী পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবী স্থানীয়দের। স্থানীয় ও বিভিন্ন মামলা সূত্রে প্রকাশ পায় আসাদুজ্জামান তার আপন ভাই আতাউর রহমান ও তার আপন চাচাতো ভাই বৈকারী গ্রামের প্রয়াত রমজান সরদারের ছেলে মফিজুল ইসলামকে দিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে দেদারসে স্বর্ণের বার তথা স্বর্ণের বিস্কুট পাচার করত। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারী সীমান্তবর্তী ভারতে স্বর্ণ পাচারকালে আসাদুজ্জামান ওরফে অসলের আপন ভাই আতাউর রহমান ১২ পিচ স্বর্ণের বারসহ ধৃত হয়। সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা নং -৬৯। আসাদুজ্জামান ওরফে অসলের আপন চাচাতো ভাই মফিজুল ইসলাম একই পথ দিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে স্বর্ণ পাচারকালে ৭ পিচ স্বর্ণের বারসহ ধৃত হয়। সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা নং- জি,আর ৯২৭/১৭। চলতি বছর ২০২১সালের ১লা জুন ঢাকা হাতিরঝিল থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা হয়। ঐ মামলায় গ্রেফতারকৃত সাতক্ষীরার আমিরুল ও আরেক আসামি মেহেদী হাসান ওরফে বাবুর মানবপাচারের ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দিতে উঠে আসে মানব পাচারের সাথে জড়িত সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৩নং বৈকারী ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান ওরফে অসলে ও তার বড় ছেলে ইনজামামুল হক ইনজা, পালিত ছেলে আব্দুস সালাম, রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়সহ অন্যান্য সহযোগিদের নাম। এবিষয়ে গতকাল বিকাল ৫.৪৪ মিনিটে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৩নং বৈকারী ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান ওরফে অসলের সাথে মুঠোফোনে তার নিজ ব্যবহৃত মোবাইল নং-০১৭৩৪-৬৬২১৭৮ নম্বরে আলাপ কালে ২০১৮ সালের গোয়েন্দা সংস্থার তৈরীকৃত ৬২০ জনের চোরকারবারী, মুদ্রা,হুন্ডি, ব্যবসার তালিকায় তার নাম ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জানি না। তিনি আরো বলেন, ২০১৮ সালের কথা আপনি ২০২১ সালে শুনছেন কেন। এসময় চোরাকারবারী, মুদ্রা, হুন্ডি ব্যবসার সাথে জড়িত আছেন কিনা জানতে চাইলে প্রতি উত্তরে তিনি বলেন, যাদের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছেন তাদের কাছে শোনেন বলে তিনি ফোন রেখে দেন।
আলোকিত প্রতিদিন // আতারা

